বাঁকুড়ার ইন্দাসে বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষ, বোমাবাজি, বাড়ি ভাঙচুর

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের সংঘর্ষে উত্তপ্ত বাঁকুড়ার ইন্দাস থানার হেয়াৎনগর গ্রাম। সোমবার সন্ধ্যা থেকে দু’পক্ষের কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষ চলাকালীন এলাকায় ব্যাপক বোমাবাজি হয়। ভাঙচুর করা হয়েছে বেশ কয়েকটি বাড়ি। এখনও উত্তেজনা থাকায় এলাকায় পুলিশ টহল দিচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে হেয়াৎনগর গ্রামে সোমবার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিন পালন করছিলেন বিজেপি কর্মী ও সমর্থকরা। তখন স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের সঙ্গে বচসা বাধে বিজেপি কর্মীদের।  বিজেপির অভিযোগ, এই ঘটনার জেরে সন্ধ্যার ঠিক আগে গ্রামে বহিরাগতদের এনে তৃণমূলের লোকজন বিজেপি কর্মীদের বাড়ির সামনে বোমাবাজি করে। বেশ কয়েকটি বাড়িতে তারা হামলা করে। বাড়ি ভাঙচুর করার পাশাপাশি তারা বিজেপি কর্মীদের মারধর করে। মারধরের হাত থেকে রেহাই দেওয়া হয়নি গ্রামের মহিলা ও শিশুদের। অভিযোগ, রাস্তার ধারে থাকা পানীয় জলের কল এবং জলের পাইপ লাইন ভেঙে দেয় হামলাকারীরা।

গ্রামের বাসিন্দা যমুনা বাগদী বলেন, “আমার বাড়ির টিন যখন ভাঙছে তখন আমি বলি, অনেক কষ্ট করে করেছি, কেন ভাঙছিস? ওরা বলল তোরা পার্টি করিস। তারপরে ঘরে ঢুকে পড়ে। ওরা আমার কোমরে ও পায়ের গোছে মেরেছে। আমরা কি তাহলে এবার বনে গিয়ে থাকব?”

স্থানীয় বিজেপি নেতা বাবু বাগদী বলেন, “আমরা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মরণসভা করছিলাম। কুড়ি থেকে তিরিশ জন সেখানে ছিলাম। তখন তৃণমূলের অনেক লোক এসে আমাদের সব বানচাল করে দেয়। সন্ধ্যার দিকে গুণ্ডাবাহিনী নিয়ে এসে এবং পাঁচ-সাতশো লোক এনে আমাদের উপরে চড়াও হয়। আমাদের অনেকের বাড়িঘর ভেঙে দেয়। প্রচুর বোমাবাজি করে। মেয়েদের উপরে প্রচুর অত্যাচার করেছে। আমার স্ত্রীকে মারধর করেছে।”

বিজেপি কর্মীদের তোলা এই অভিযোগ অবশ্য মিথ্যা বলে দাবি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের পাল্টা অভিযোগ, পেট্রোপণ্যের দাম বাড়ার প্রতিবাদে স্থানীয় খোশবাগে একটি দলীয় কর্মসূচিতে ব্যস্ত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা। সেই সুযোগে বিজেপি কর্মীরা হেয়াৎনগর এলাকায় থাকা তৃণমূল কার্যালয়ে ঢুকে তিন জন তৃণমূল কর্মীকে বেধড়ক মারধর করে।

স্থানীয় তৃণমূল নেতা রাজু মিদ্যা বলেন, “ওদের সব অভিযোগ ভিত্তিহীন। মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আমাদের একটা মিছিল ছিল। সেখান থেকে যখন বাড়ি ফিরছি তখন ওরা হামলা করে। আমাদের পার্টি অফিসেও ঝামেলা করে। ওরা বাইরে থেকে লোকজন এনে ঝামেলা করে। আমাদের আটকে দিয়ে তিনজন কর্মীকে ভয়ানক মারধর করে ফেলে রাখে। তখন আমরা বাঁচার জন্য থানায় ফোন করি।”

সংঘর্ষর খবর পেয়ে সোমবার রাতেই ইন্দাস থানা থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে যুযুধান দুই শিবিরের কর্মী সমর্থকদের সরিয়ে দেয়। এলাকা উত্তেজনা থাকায় সেখানে নজরদারি চালাচ্ছে ইন্দাস থানার পুলিশ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More