বৃহস্পতিবার, মার্চ ২১

#Breaking: বিজেপি অফার দিয়েছিল, কিন্তু আমি আর শোভনদা যাচ্ছি না: বৈশাখী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত দু’সপ্তাহ ধরে জল্পনা চলেছে। কলকাতার প্রাক্তন মেয়র তথা বেহালা পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি গেরুয়া শিবিরে যোগ দিচ্ছেন। সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে বৈশাখী জানিয়ে দিলেন, “আমার এবং শোভন চট্টোপাধ্যায়ের গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়া নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে গুজব ছড়িয়েছে। তবে আপাতত আমি কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দিচ্ছি না।” সেই সঙ্গে মিলি আল আমিন কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপিকা জানিয়ে দেন, “শোভনদা এখনও তৃণমূলের বিধায়ক ও কাউন্সিলর। তিনিও কোনও দলে যোগ দিচ্ছেন না।”

সাদার্ন অ্যাভিনিউয়ের শোভন চট্টোপাধ্যায়ের শালার ফ্ল্যাটে বুধবার সাংবাদিক বৈঠক ডেকেছিলেন বৈশাখী। সেখানেই তিনি বলেন, “গত ২ মার্চ বিজেপি-র এক নেতা আমায় ফোন করে আসন অফার করেন। কিন্তু আমি মনে করেছি, যে দল আমি কখনও করিনি সেখানে গিয়ে হঠাৎ করে প্রার্থী হলে কর্মীরা ঠিকভাবে নেবে না।”

কয়েকদিন আগেই বৈশাখী দেবী সংবাদমাধ্যমকে ফোনে জানিয়েছিলেন, তিনি রায়চকে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছেন। তাঁর মা, মেয়ে এবং শোভন চট্টোপাধ্যায় যে বাংলোতে ছিলেন তা ঘিরে রেখেছিল সশস্ত্র দুস্কৃতীরা। আড়াই দিন ধরে তাঁদের সেই অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন বৈশাখী। এ দিন সাংবাদিক সম্মেলনে বৈশাখী সংবাদমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “সে দিন মিডিয়ার জন্যই বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছি।” তাঁদের ওখানে আটকে পড়া নিয়ে টুইট করেছিলেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্রও। এ দিন শোভনবাবুর অধ্যাপিকা বান্ধবী বলেন, “সূর্যবাবুর ওই টুইট আমার বৃদ্ধা মা’র আতঙ্কে মলম হিসেবে কাজ করেছে।” এঁর পরেই তাঁকে বিজেপি-র হয়ে প্রচারে যাবেন কি না জিজ্ঞেস করেন এক সাংবাদিক। উত্তরে বৈশাখী বলেন, “আমি সিপিএমের হয়েও প্রচারে যেতে পারি। রাজনীতিতে অসম্ভব বলে কিচ্ছু নেই।”

কিন্তু কী করবেন শোভন? লোকসভায় তৃণমূলের হয়ে প্রচারে কি যাবেন?

বৈশাখীর সাফ জবাব, “আমি তৃণমূলের হয়ে প্রচারে যাব না এটুকু বলতে পারি। শোভনবাবু কী করবেন তা উনিই ঠিক করবেন।” এরপরই বৈশাখী বলেন, “অনেকে বলছেন আমি নাকি শোভনদাকে বিজেপি-তে যাওয়ার জন্য জোর করেছি। আমি কখনও আমার মেয়েকে পড়ার জন্য জোর করিনা তো শোভনবাবুর মতো রাজনৈতিক প্রাজ্ঞ একজন মানুষকে আমি কেন জোর করতে যাব! কত রকম গুজবই না রটে।” তবে তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন, একাধিক বিজেপি শীর্ষ নেতার সঙ্গে তিনি দেখা করে কথা বলেছেন।

তবে বিজেপি-তে যাচ্ছেন না বলেও আরও কিছু সম্ভাবনার কথা এ দিনের সাংবাদিক বৈঠকে সেরে রাখেন বৈশাখী। তাঁর কথায়, “বাংলায় তো শুধু তৃণমূল আর বিজেপি নয়। সিপিএম, কংগ্রেসও তো আছে। কর্মসূচিতে একমত হলে আমি যে কোনও দলেই যেতে পারি।”

Shares

Comments are closed.