শুক্রবার, জুলাই ১৯

কাটমানি থেকে রাজনৈতিক সন্ত্রাস, সঙ্গত কারণেই সংসদে তুলছে বিজেপি, স্পিকারকে গিয়ে বললেন বাংলার সাংসদরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভার অধিবেশনে দিলীপ ঘোষ, লকেট চট্টোপাধ্যায়রা তো বাংলার রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে প্রায় রোজই সুর চড়াচ্ছেন। এর মধ্যে আবার বাংলা থেকে নির্বাচিত বিজেপি সাংসদরা রাজ্যের রাজনৈতিক ইস্যুগুলি নিয়ে দেখা করে কথা বললেন লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার সঙ্গে।

মঙ্গলবার দিলীপ ঘোষ, দেবশ্রী চৌধুরী, রাজু বিস্ত, নিশীথ প্রামাণিকরা যান স্পিকারের কাছে। বাংলার সাংসদদের স্পিকারের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় বিজেপি-র তরফে পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়।

এমনিতে লোকসভার অধিবেশন রাজ্য রাজনীতি নিয়ে আলোচনার জায়গা নয়। তবু বিজেপি সাংসদরা প্রতিদিন বাংলার তৃণমূল সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দাগছেন।

পর্যবেক্ষকদের মতে, এর উদ্দেশ্য একটাই। জাতীয় স্তরে তৃণমূলে স্বরূপ তুলে ধরা। অনেকের মতে, অতীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংসদ থাকার সময়ে যা করতেন, এখন বিজেপি-ও তাই করছে।

তৃণমূল যদিও এর বিরোধিতা করেছে। সংসদে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের সংসদীয় দলের নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যাআয় বিজেপি-র বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, যে কথা বিজেপি সাংসদরা বলছেন, সেটা বলার জায়গা এটা নয়। একই কথা বলেছেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রও। বিজেপি-র যুক্তি,  বাংলায় যে ধরনের সন্ত্রাসের পরিস্থিতি শাসক দল তৃণমূল তৈরি করেছে, তাতে নির্বাচিত সাংসদদের নিরাপত্তাও বিপন্ন। এবং বিজেপি-র আরও বক্তব্য, সরকারি প্রকল্প থেকে যে কাটমানির কথা বলা হচ্ছে, তার একটা বড় অংশ কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প। সেই কারণেই সংসদে এই সমস্ত বিষয় উত্থাপন করছেন তাঁরা।

বাংলায় যখন সিপিএমের দাপট, তখন সংসদে বহুবার সরব হতে দেখা গিয়েছে। লাল সন্ত্রাস, বেআইনি অস্ত্রের আস্ফালন-সহ একাধিক ইস্যুতে সরব গলা চড়াতেন তৃণমূল সুপ্রিমো। যখন তিনি একা সাংসদ, তখনও এর অন্যথা হয়নি।

কাটমানি থেকে পঞ্চায়েতের দূর্নীতি, রাজনৈতিক সন্ত্রাস থেকে গণতন্ত্রের কণ্ঠ রোধ করা- তৃণমূলের বিরুদ্ধে এই সমস্ত ইস্যুতেই রোজ সরব হচ্ছেন গেরুয়া শিবিরের সদ্য হওয়া সাংসদরা। মঙ্গলবারই সংসদ অধিবেশনের জিরো আওয়ারে সম্পত্তি, সোনা, কাটমানি নিয়ে সরাসরি মমতার বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন হুগলির সাংসদ তথা রাজ্য বিজেপি-র মহিলা মোর্চার সভানেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। একই সঙ্গে দেখা করলেন অধ্যক্ষের সঙ্গেও। পর্যবেক্ষকদের মতে, বঙ্গ বিজেপি বুঝিয়ে দিচ্ছে আগামী বিধানসভা পর্যন্ত সংসদকে তৃণমূল বিরোধিতার মঞ্চ হিসেবেই ব্যবহার করবেন তাঁরা।

Comments are closed.