বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮

কাটমানির বখরা নিয়েই গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব, ব্যান্ডেলে তৃণমূল নেতা খুন নিয়ে মন্তব্য লকেটের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্যান্ডেলের পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী তথা স্থানীয় দাপুটে তৃণমূল নেতা দিলীপ রামের খুনের ঘটনায় তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্বকেই দায়ী করলেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। হুগলি লোকসভার সাংসদ শনিবার গিয়েছিলেন গুড়াপে। পুলিশের গুলিতে জখম দলীয় কর্মীকে দেখে বেরিয়ে লকেট বলেন, “ব্যান্ডেলে তৃণমূলের নেতা খুনের পিছনে রয়েছে শাসক দলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব। কাটমানির ভাগবাটোয়াড়া নিয়েই এই খুনের ঘটনা ঘটেছে। এর সঙ্গে বিজেপি-র কোনও যোগ নেই।”

শনিবার সকাল নটা নাগাদ ব্যস্ত ব্যান্ডেল স্টেশনের পাঁচ নম্বর প্ল্যাটফর্মের  কাছে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করা হয় তৃণমূল নেতাকে। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন দিলীপ। পেশায় তিনি কাঁচড়াপাড়া রেলোয়ে ওয়ার্কশপের কর্মী। নৈহাটি যাওয়ার জন্য রোজের মতো এ দিনও স্টেশনে যান ট্রেন ধরতে। আর তখনই ঘটে এই ঘটনা ।

নিয়ে যাওয়া হয় চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় কলকাতায় আনার পথেই মৃত্যু হয় পঞ্চায়ুএত প্রধানের স্বামীর। ঘটনার পর থেকেই শাসক দল অভিযোগ তুলেছিল, বিজেপি-ই লোক দিয়ে খুন করিয়েছে দিলীপকে। কিন্তু সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন লকেট।

খুনের ঘটনায় তদন্তে নেমেছে ব্যান্ডেল জিআরপি ও ব্যান্ডেল পুলিস ফাঁড়ি। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ মনে করছে, অনেকদিন ধরেই খুনের ছক কষা হয়েছিল। দিলীপ রামের গতিবিধির উপরে নজর রাখা হচ্ছিল। সাধারণত অফিসে যাওয়ার সময় একা থাকেন দিলীপ রাম। হামলার জন্য তাই এই সময়টাই বেছে নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি, অপারেশন সেরে পালিয়ে যাওয়ার অনেক পথ থাকায় স্টেশনকেই বেছে নিয়েছিল আততায়ীরা।  খুনের আগে রেইকিও করা হয়েছিল বলে অনুমান পুলিশের।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, দিন দুয়েক আগে হুমকি ফোন এসেছিল দিলীপ রামের কাছে। পুলিশকে সেকথা জানানো হয়েছিল। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই নাম উঠে এসেছে ব্যান্ডেলের কুখ্যাত দুষ্কৃতী লালা পাসোয়ানের ভাই বিজু পাসোয়ানের। লালা আপাতত জেলে রয়েছেন। তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ, দিলীপকে খুন করতে বিজুকেই ব্যবহার করেছে বিজেপি। আগামী কাল চুঁচুড়া বিধানসভা এলাকায় বনধের ডাক দিয়েছে বিজেপি।

Comments are closed.