শান্তিনিকেতনে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন হোক, পৌষ মেলার দায়িত্ব কেন্দ্র নিক, সংসদে বিজেপি

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শান্তিনিকেতনের নিরাপত্তার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়ে এর আগে আচার্য তথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখেছিলেন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী।

বুধবার রাজ্যসভায় সেই একই দাবি তুলল বিজেপি। দলের রাজ্যসভা সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত এদিন সভার শূন্য প্রহরে শান্তিনিকেতনে সাম্প্রতিক অশান্তির প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতন তথা বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় বিপন্ন। সমাজবিরোধী ও দুষ্কৃতীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে অশান্তি তৈরি করছে। সুতরাং এক, বিশ্বভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষা কর্মী এবং হেরিটেজ ভবনগুলির নিরাপত্তার জন্য সেখানে কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হোক। দুই, পৌষ মেলার দায়িত্ব নিক কেন্দ্রীয় সরকার।

বিজেপি সাংসদ এ ব্যাপারে যখন রাজ্যসভায় তাঁর দাবি জানাচ্ছিলেন, তখন এ ব্যাপারে তীব্র আপত্তি জানান তৃণমূল সদস্যরা। পরে তৃণমূলের এক সাংসদ বলেন, শান্তিনিকেতনে যা হয়েছে তা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলার ব্যাপার। তা রাজ্য দেখার কথা। সে বিষয়ে সংসদে আলোচনা করা যায় না।

শান্তিনিকেতনে পৌষ মেলার মাঠে পাঁচিল তোলা এবং তা ভেঙে ফেলার ঘটনা নিয়ে গত মাসে তোলপাড় কাণ্ড বেঁধে গিয়েছিল বিশ্বভারতীতে। আবাসিক, ছাত্রছাত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যপাল, তৃণমূল, বিজেপি সবাই কার্যত ময়দানে নেমে পড়েন। বিবৃতি, পাল্টা বিবৃতিতে তোলপাড় পড়ে যায়।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পাঁচিল তোলার তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, “ওখানে বহিরাগতদের জড়ো করে পাঁচিল তোলা হচ্ছে। এই পাঁচিল দিয়ে ঘিরে দেওয়ার মধ্যে দিয়ে রবীন্দ্রনাথের মুক্ত শিক্ষার ভাবনা আঘাতপ্রাপ্ত হচ্ছে।”

পাল্টা উপাচার্য বলেন, “রবীন্দ্রনাথও তো শান্তিনিকেতনে বহিরাগতই ছিলেন!” এর পরেই বিতর্কের আগুনে ঘি পড়ে। বাধ্য হয়ে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন উপাচার্য।

বিশ্বভারতীর পাঁচিল নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে ওঠে। অভিযোগ ওঠে, দুবরাজপুরের তৃণমূল বিধায়ক নরেশ বাউরি লোকলস্কর জড়ো করে নির্মীয়মাণ পাঁচিলে ভাঙচুর চালান। এই ঘটনায় সিবিআই তদন্ত দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয়। পাঁচিল তোলার কারণ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস বিবৃতি দিয়ে বলে, পৌষ মেলার মাঠে গাঁজা-মদের ঠেক চলে। অবাধে চলে যৌনাচার। রাত্রিবেলা দেহ ব্যবসা চলে পৌষমেলার মাঠে।

সব মিলিয়ে বিশ্বভারতী নিয়ে নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে এদিন সংসদে বিজেপি সাংসদের মন্তব্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More