মমতার ভ্রান্ত নীতির কারণেই ঝুঁকিতে বাংলার স্বাস্থ্য কর্মীরা, কেন্দ্রের ৫০ লক্ষ টাকা বিমার পরিবর্তে আশ্বাস মাত্র ১০ লাখের: বাবুল-স্বপন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সংক্রমণের মোকাবিলায় বাংলায় জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের বিমার পরিধি সোমবার এক ধাক্কায় দ্বিগুণ করার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, আগে যা ৫ লক্ষ টাকা ছিল তা বাড়িয়ে ১০ লক্ষ করা হবে বলে সরকার স্থির করেছে।

    কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তা ছড়িয়ে পড়ার আগেই অসন্তোষের জ্বালামুখ খুলে দিলেন বিজেপি নেতারা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় ও রাজ্যসভায় বিজেপি সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ভ্রান্ত রাজনৈতিক নীতিকে ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যাবে না।

    স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, “গত সপ্তাহে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ কেন্দ্রের আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করার সময়েই জানিয়েছিলেন, চিকিৎসক, নার্স, সাফাইকর্মী, প্যারামেডিক্যাল স্টাফ, আশা, আইসিডিএস-এর স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ৫০ লক্ষ টাকার জীবন বিমার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও বলেছিলেন, ‘ফ্রণ্ট লাইন কর্মী’ ঝুঁকির কারণেই এই পদক্ষেপ করেছে সরকার। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার স্রেফ রাজনীতি করার জন্য কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত বাংলায় বলবৎ করতে দেননি। ফলে কেন্দ্রের এই ঘোষণার সুবিধা থেকেও বাংলার স্বাস্থ্য কর্মীরা বঞ্চিত হবেন। অথচ গোটা দেশে সব রাজ্যের সমস্ত স্বাস্থ্য কর্মী তথা ফ্রন্টলাইন কর্মী ৫০ লক্ষ টাকার বিমার সুবিধা পাবেন”। বিজেপি নেতার কথায়, মুখ্যমন্ত্রীই বলুন ১০ লক্ষ টাকা ৫০ লক্ষের থেকে কত কম!

    প্রসঙ্গত, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প যে ক’টি রাজ্য বাস্তবায়িত করেনি তাদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া অন্যতম ছিল দিল্লি। লোকসভা ভোটের আগে ওই প্রকল্পের ব্যাপারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতোই সমালোচনায় মুখর ছিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। মমতার বক্তব্য ছিল, বাংলার স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প টুকলি করেছে কেন্দ্র। কেন্দ্রের পাল্টা বক্তব্য ছিল, বাংলার প্রকল্পের পরিধি সীমিত, আয়ুষ্মান প্রকল্পের তুলনায় কম মানুষ এর সুবিধা পাচ্ছেন। সে যাক, দ্বিতীয়বার সরকার গঠনের পর কেজরিওয়াল সরকারও আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প দিল্লিতে বলবৎ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু বাংলা তা করেনি।

    এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সাংবাদিক বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় বলেন, “বাংলায় করোনা সংক্রমণ রুখতে মুখ্যমন্ত্রী সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সেটা ভাল কথা। কিন্তু এও বাস্তব রাজ্যের বিপুল সংখ্যক মানুষের অসহায় অবস্থা। সমস্যা হল, উনি যেটা মনে করবেন সেটাই ঠিক। গোটা দুনিয়া যাই বলুক না কেন। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা বাংলার মানুষ পেলে এ রাজ্যের স্বাস্থ্য কর্মীরা এই সংকটের পরিস্থিতি আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কাজ করতে পারতেন। যে কোনও শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষই একথা বুঝবেন”।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More