‘ওঁকে দেখে বোঝাই যায় না পুরুষ না মহিলা’, মায়াবতীকে নিয়ে কুকথা বিজেপি বিধায়কের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: যতই সমালোচনার ঝড় উঠুক, রাজনৈতিক নেতারা কু’কথায় একশ শতাংশ আত্মবিশ্বাসী। এ ব্যাপারে তাঁদের রেকর্ড প্রতিদিন ভাঙে, আবার প্রতিদিন তৈরি হয়। ইদানীংকালে তো গোটা দেশে এ ব্যাপারে সবচেয়ে এগিয়ে উত্তরপ্রদেশ। এ বারও তার অন্যথা হলো না। বহুজন সমাজ পার্টি সুপ্রিমো তথা উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতীকে আক্রমণ করতে গিয়ে সীমা ছাড়ালেন মুঘলসরাইয়ের বিজেপি বিধায়ক সাধনা সিং।

শনিবার যখন ব্রিগেডে বিজেপি বিরোধী সমস্ত রাজ্যের নেতাদের নিয়ে ‘ইউনাইটেড ইন্ডিয়া র‍্যালি’ হচ্ছে, ঠিক তখনই মুঘলসরাইয়ের একটি জনসভায় সাধনা বলেন, “ওঁকে (পড়ুন মায়াবতীকে) দেখলে বোঝাই যায় না পুরুষ না মহিলা। এই মহিলর মান-ইজ্জত বলে কিচ্ছু নেই। ক্ষমতার লালসায় সব বেচে দিয়েছেন।”

এখানেই থামেননি বিজেপি-র এই মহিলা বিধায়ক। তিনি আরও বলেন, “ওঁর শ্লীলতাহানি করা হয়েছিল। তবু ওঁর লজ্জা নেই। ইতিহাসে পড়েছি দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ করা হয়েছিল। কিন্তু তারপর দ্রৌপদী প্রতিশোধের প্রতিজ্ঞা নিয়েছিলেন। আর ইনি ক্ষমতার জন্য আত্মসমর্পণ করেছেন। উনি নারী জাতির কলঙ্ক।”

কয়েকদিন আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উত্তরপ্রদেশে জনসভা করতে গিয়ে ১৯৯৫ সালের গেস্ট হাউস কাণ্ডের কথা উল্লেখ করে বুয়া-বাবুয়ার জোটের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন। বলেছিলেন,“যে দল ওঁকে (মায়াবতীকে) নিগ্রহ করেছিল, ক্ষমতার জন্য তাদের সঙ্গেই হাত মিলিয়েছেন।” অনেকে মনে করছেন, সাধনা তাঁর বক্তৃতায় গেস্ট হাউস কাণ্ডের কথাই বলতে চেয়েছেন।

বিজেপি বিধায়কের এমন লাগামছাড়া আক্রমণের প্রতিক্রিয়া দিতে আসরে নামেন বিএসপি নেতা সতীশ মিশ্র। মায়ার দলের প্রতিনিধি হিসেবে তিনিও উপস্থিত ছিলেন কলকাতায় মমতার ডাকা সমাবেশে। সতীশ বলেন, “উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে আমাদের (পড়ুন বিএসপি-র) জোট হওয়ার ফলে বিজেপি-র রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে। মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন গেরুয়া শিবিরের নেতারা। তাই এ সব অশ্লীল আক্রমণ করছেন।”

সবচেয়ে আশ্চর্য, সাধনা যখন গলা উঁচিয়ে মাইকে এই বক্তৃতা দিচ্ছেন, তখন হাততালি দিয়ে প্রবল উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েছেন সমবেত জনতা। ঠিক যেমনটা বাংলায় দেখা গিয়েছিল তৃণমূল সাংসদ তাপস পাল বা প্রয়াত সিপিএম নেতা অনিল বসুর বেলায়।

সাধনার এই মন্তব্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এমনটা প্রতিবারই হয়। কিছু দিন যাওয়ার পর আবার সব থিতিয়ে যায়। আর নেতারাও হয়ে ওঠেন লাগামছাড়া।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More