রবিবার, অক্টোবর ২০

সব্যসাচীর গণেশ পুজোয় দিলীপ-মুকুল-মেনন, যেন বিজেপি-র মিলন মেলা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গণেশ পুজো? নাকি বিজেপি-র মহামিলন?

বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র তথা রাজারহাট-নিউটাউনের তৃণমূল বিধায়ক সব্যাসাচী দত্তর পুজোয় কে এলেন না! বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, বিজেপি নেতা মুকুল রায় এবং সর্বভারতীয় বিজেপি-র তরফে বাংলার সহপর্যবেক্ষক অরবিন্দ মেনন— তিনজনে একসঙ্গে হাতে হাত ধরে ফিতে কাটলেন মণ্ডপের। নিজে দাঁড়িয়ে থেকে গোটাটার পৌরহিত্য করলেন সব্যসাচী। খাওয়াদাওয়াও হল। তবে এ বার আর ঘরের ভিতর লুচি-আলুরদম নয়। একেবারে প্রকাশ্যে ভোগের নানান পদ। পাত পেড়ে খেলেন দিলীপ-মুকুল-মেনন।

তৃণমূল তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে মেয়র থেকে সরানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করে ফেলেছিল। কিন্তু আস্থা ভোটের আগেই মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দেন সব্যাসাচী। এখনও তিনি বিজেপি-তে সরকারি ভাবে যোগ দেননি। তবু এ দিনের ছবি দেখে অনেকেই বলছেন, আর কী বাকি রইল!

গত কয়েক মাসে সব্যসাচী নিয়ে কম আলোচনা হয়নি রাজ্য রাজনীতিতে। বাঙালির প্রিয় লুচি-আলুরদম যে এ ভাবে বঙ্গ রাজনীতির উপাদান হয়ে যাবে, তা কে জানত। তারপর অনেক জল বয়ে গিয়েছে কালীঘাটের আদি গঙ্গা দিয়ে। যত দিন এগিয়েছে তত তৃণমূলনেতৃত্বকে অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছেন। নেতাজি ইনডোরের সভায় তো তাঁকে দেখে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেই দিয়েছিলেন, “তুই তৃণমূলে আছিস কেন? যা বিজেপি-তে চলে যা!”

তবে এ দিন এই বিজেপি নেতাদের আমন্ত্রণ কেন?

সব্যাসাচীর জবাব যেন ঠোঁটে লেগেছিল। বললেন , “মুকুলদা যখন তৃণমূলে ছিলেন তখনও আসতেন। অবসর নিয়েছিলেন যখন, তখনও আসতেন। এখনও আসছেন। উনি আমাদের ক্লাবের সদস্য।” এ তো নয় মুকুল রায়। কিন্তু দিলীপ ঘোষ? তৃণমূল বিধায়ক জানিয়েছেন, “দিলীপদা বিধাননগরের আবাসিক। তাই এসেছেন। ওঁদের বন্ধু হিসেবে অরবিন্দজি এসেছেন।” একই সঙ্গে বলেন, “আমি বিধাননগরের সবাইকে ডেকেছি। সবাই আসতে পারেন। এখানে অবারিত দ্বার।”

সব্যসাচীর অনুগামীরা বলছেন, বড় ধামাকা রয়েছে কালীপুজোয়। হতে পারে ফিতে কাটবেন অমিত শাহ।

Comments are closed.