শুক্রবার, মে ২৪

ছেলে কবে বিজেপি-তে? মুকুল বললেন, ও সাবালক, ওই জানে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুকুল রায় বিজেপি-তে যাওয়ার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনা তাঁর পুত্র তথা বীজপুরের তৃণমূল বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়কে নিয়ে। শুভ্রাংশু অবশ্য এতদিন বারবার বলে এসেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তাঁর নেত্রী। বাবা গেছে যান, তিনি যাবেন না। তাঁর একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে কিন্তু কৌতূহল বাড়ে শনিবার। হাপুনের (শুভ্রাংশুর ডাকনাম) বিজেপি-তে যোগ দেওয়া নিয়ে মুকুল রায় রবিবার বলেন, “ও সাবালক। ওর জবাব ওই দিক।”

শনিবার মুকুল-পুত্র বলেছিলেন, “আমি বারবার সীতার মতো অগ্নিপরীক্ষা দিয়ে যাচ্ছি মিডিয়ার কাছে। আগেও বলেছি দলে ছিলাম, আছি, থাকব। এখনও তাই বলছি।” এর পরেই বীজপুরের তৃণমূল বিধায়ক বলেন, “আমি বিজেপি-তে যেতে পারি একটাই শর্তে। যদি দু’বছরের মধ্যে বীজপুরের রেলওয়ে কোচ ফ্যাক্টরি চালু করা হয়। আর বীজপুরের ছেলেদের জন্য ৩০ শতাংশ কোটা থাকে।” শুভ্রাংশু এ-ও বলেন, “দিদিই তো ওই ফ্যাক্টরির শিলান্যাস করেছিলেন। তারপর নতুন সরকারের সময় কাজ থমকে যায়।”

শুধু তো তাই নয়। শনিবার বিকেল সড়ে চারটে নাগাদ ফেসবুকে একটি পোস্ট করে হাপুন লেখেন, “অপমান হতে হতে দেওয়ালে ঠেকেছে পিঠ, অগ্নিপরীক্ষা দিতে দিতে হৃদয়টা পুরো ঝলসে গেছে।” রবিবার বিজেপি রাজ্য দফতরে এ নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে মুকুল রায়কে প্রশ্ন করা হলে, পোড় খাওয়া রাজনীতিক মুকুল রায়ের জবাব, “দুবার বিধায়ক হয়েছে। কবে বিজেপিতে যোগ দেবে ও জানে। ওকে জিজ্ঞেস করুন।” ছেলের বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার জল্পনা নিয়ে মুকুল বলেন, “জল্পনা অনেক কিছুই হয়। মমতা এনডিএ তে আসতে চান এটাও তো জল্পনা।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী ঘোষণার পরের দিনই বিজেপি সদর দফতরে গিয়ে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের ‘স্ট্রংম্যান’ অর্জুন সিং। সেই বিকেলেই  কাঁচড়াপাড়ার বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠক করে মুকুল-পুত্র জানিয়েছিলেন, “দীনেশদা দু’লক্ষ ভোটে জিতবে। বীজপুরে সব থেকে বেশি লিড দেব।” কিন্তু মুকুলও এ দিন কিছুই খোলসা করেননি। রহস্য রেখে দিয়েছেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, মুকুল আসলে গোটা তৃণমূলকে ঘেঁটে দিতে চাইছেন। সেটা সব দিক থেকেই।

Shares

Comments are closed.