শুক্রবার, এপ্রিল ২৬

‘বন্ধু’ চন্দ্রবাবুর পুলিশই করুক বিধায়ক খুনের তদন্ত: মুকুল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার রাতে সরস্বতী পুজোর উদ্বোধন করতে গিয়ে দুষ্কৃতীর হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস। এই খুনের পর নদিয়ার তৃণমূল জেলা সভাপতি গৌরীশঙ্কর দত্ত অভিযোগ করেন, বিজেপি নেতা মুকুল রায়ই এই খুন করিয়েছেন। মুকুল রায়-সহ চারজনের বিরুদ্ধে এফআইআরও দায়ের করেন তিনি। রবিবার বঙ্গ বিজেপির সদর দফতরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুকুল রায় বলেন, গৌরীশঙ্কর দত্তকে আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন তিনি। সেইসঙ্গে এও বলেন, চন্দ্রবাবু নাইডু তো এখন মমতার খুব বন্ধু। তাহলে অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশকে নিয়ে এসে এই খুনের তদন্ত করান মুখ্যমন্ত্রী। অন্ধ্র পুলিশই নিরপেক্ষ তদন্ত করে দেখুক খুনের পিছনে কারা রয়েছে।

কেন অন্ধ্র পুলিশের কথা বলছেন মুকুল রায়? কারণ তাঁর ঘনিষ্ঠরা বলছেন, যদি সিবিআই তদন্তের দাবি জানান মুকুল, তাহলে তৃণমূল বলতে পারে সিবিআই তো কেন্দ্রের এজেন্সি এবং বিজেপি প্রভাবিত। অন্যদিকে যেহেতু চন্দ্রবাবু নাইডু মমতার বন্ধু, তাই তাঁর রাজ্যের পুলিশ নিশ্চয় নিরপেক্ষ তদন্ত করবে। তাই এ দিন অন্ধ্র পুলিশের কথা তুলে আনেন মুকুল রায়।

রবিবার সাংবাদিকদের সামনে মুকুল রায় বলেন,  “কলকাতায় বসে আমি এফআইআর করে বলতেই পারি পুরুলিয়ায় যে বিজেপি কর্মী খুন হয়েছেন, সেটা মমতা করেছেন। সুতরাং একটা কাগজে নাম লিখে দিলে কিছুই হয় না।” তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করার জন্য এবং টিভিতে হুমকি দেওয়ার জন্য গৌরীশঙ্কর দত্তকে আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন বলেও জানান মুকুল রায়। তিনি আরও বলেন, তাঁকে জিজ্ঞাসা না করে সারাদিন তাঁর নামে খবর চালানোর জন্য একটি বৈদ্যুতিন সংস্থাকেও আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন তিনি।

রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বলতে গিয়ে এই বিজেপি নেতা বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্র বলে কিছু নেই। গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার কাজটাই বিজেপি করছে। বাংলায় এখন একটা প্রবণতা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে যেখানেই কোনও তৃণমূল নেতা-কর্মী খুন হচ্ছেন, সেটা অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণেই হোক, বা দুষ্কৃতীদের হামলাতেই হোক, তার সঙ্গে বিজেপি কর্মী ও নেতাদের জড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।”

এই প্রসঙ্গে পুরনো একটা ঘটনাকে তুলে আনেন মুকুল রায়। তিনি বলেন, “অনেকদিন আগে একটা খুনের ঘটনা ঘটেছিল। তখন আমি তৃণমূল কংগ্রেস করি। এখনকার যিনি জয়েন্ট সিপি ক্রাইম, তিনি তখন ডিসি সাউথ। এই খুনের ঘটনায় কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম জড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। সরকারের তরফ থেকে চাপ ছিল, কান্তিবাবুকে গ্রেফতার করতে হবে। আমি ডিসি সাউথকে বলেছিলাম, এরকম করবেন না। কারণ, রাজনীতিতে এটা ঘৃণ্য।”

সত্যজিৎ বিশ্বাস খুনের ঘটনায় তিনি যে নিরপেক্ষ তদন্ত চান, তা এ দিন বারবার বলেন মুকুল রায়। তিনি বলেন, সিআইডি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছে। তাই সিআইডি কখনও নিরপেক্ষ তদন্ত করবে না। নিরপেক্ষ কোনও তদন্তকারী সংস্থার হাতে দায়িত্ব দিলে তিনি সবরকম প্রশ্নের মুখোমুখি হতে তৈরি, এমনটাই দাবি জানিয়েছেন এই বিজেপি নেতা।

কেন বারবার বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে, তার কারণটাও এ দিন বলেন মুকুল। তিনি বলেন, “মালদা, কাঁথি, ঠাকুরনগর, দুর্গাপুর, ময়নাগুড়িতে বিজেপির গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা দেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভয় পেয়ে গিয়েছেন। তাই সব জায়গায় বিজেপি কর্মী ও নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে।” তিনি চ্যালেঞ্জের সুরে বলেন, “পারা কেউ গিলে ফেললে সেই পারা গা দিয়ে বের হয়। তৃণমূলের ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে। দলটা এখন অন্তর্দ্বন্দ্বে জর্জরিত।”

মেট্রো চ্যানেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্ণা নিয়েও খোঁচা দেন মুকুল রায়। তিনি বলেন, মমতা ধর্ণা করেছেন। ২১, ২২, ২৩ ফেব্রুয়ারি তিনিও ধর্ণা দেবেন বলে অনুমতি চেয়েছেন পুলিশের কাছে। মাইক্রোফোন ব্যবহার করবেন না বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। কিন্তু তারপরেও তাঁকে অনুমতি দেওয়া হবে না বলেই বিশ্বাস এই বিজেপি নেতার।

মুকুল রায় এও বলেন, সিবিআইকে দিয়ে তদন্ত করাতে ভয় পান মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে এই ঘটনার কে প্রকৃত দোষী সেটা জানা যাবে না বলেই আশঙ্কা মুকুল রায়ের। তিনি বলেন, ওই এলাকায় দুলাল বিশ্বাস নামে এক তৃণমূল সভাপতি খুন হয়েছিলেন। বলা হয়েছিল, বিজেপি এই খুনের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তদন্ত করে দেখা গেল তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্বের ফলেই তা হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্ত হলে এ ক্ষেত্রেও প্রকৃত খুনি বেরিয়ে আসবে বলেই বিশ্বাস মুকুল রায়ের।

আরও পড়ুন

‘খুনিরা শাস্তি পাবে’, কৃষ্ণগঞ্জের নিহত বিধায়কের স্ত্রীকে ফোন মমতার

Shares

Comments are closed.