বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭

#Breaking: সব্যসাচীর বাড়িতে যাচ্ছেন মুকুল, বললেন ওঁর সঙ্গে অন্যায় করলেন মমতা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলার রাজনীতিতে বহুদিন ধরেই তাঁদের ‘দাদা-ভাইয়ের’ সম্পর্ক। গোটা কাহিনীটাও শুরু হয়েছিল সেখান থেকেই। লোকসভা ভোটের মাস দুয়েক আগে হঠাৎ এক সন্ধ্যায় সল্টলেকের মেয়র সব্যসাচী দত্তর বাড়ি চলে গিয়েছিলেন ‘দাদা’ মুকুল রায়। তাঁকে লুচি আলুর দম খাইয়েছিলেন সব্যসাচীর স্ত্রী।

বিধাননগরের মেয়রের সঙ্গে সে দিন থেকে মনকষাকষি শুরু দিদির। রবিবার সেই সব্যসাচীকে যখন বিধাননগরের মেয়র পদ থেকে সরানোর ব্যাপারে দিদি এক প্রকার মনস্থ করে ফেলেছেন, তখন খবর পেয়ে তাঁর বাড়ির উদ্দেশে রওনা হলেন মুকুল রায়।

তার আগে এ দিন তিনি বলেন, অন্য দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে আমার মন্তব্য করা ঠিক নয়। কিন্তু সব্যসাচী আমার ভাইয়ের মতো। ওঁর সঙ্গে অন্যায় করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ ভাবে কাউকে মেয়র পদ থেকে সরানো যায় না। সব্যসাচীকে সরিয়ে যে ভাবে ডেপুটি মেয়রকে পুরসভা চালাতে বলা হচ্ছে তা আইনসিদ্ধ নয়। মেয়র পদ থেকে কাউকে সরাতে গেলে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে হয়। সেই অনাস্থা প্রস্তাবের উপর ভোটাভুটি করতে হয়।

এখানেই থামেননি মুকুলবাবু। তিনি বলেন, সব্যসাচী তো মমতার দেখানো পথেই রাজনীতি করছিল। লোকসভা ভোটে উনি তো ওনার রাজারহাট বিধানসভায় তৃণমূলকে জিতিয়েছেন। বরং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ওনার পাড়ায় হেরেছেন। তা ছাড়া তৃণমূলের ১২১ জন বিধায়ক যে নিজের নিজের এলাকায় হেরেছেন, তাঁদের অনেকেই লোকসভা ভোটে বিজেপি-কে সাহায্য করেছেন। তা হলে সব্যসাচীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কেন নেওয়া হল?

মুকুলবাবুর এ সব কথায় তৃণমূল যে চটেছে সন্দেহ নেই। দলের এক মুখপাত্র বলেন, উনি নিজের চরকায় তেল দিন। তৃণমূল নিয়ে ওঁকে আর ভাবতে হবে না। দলে বিশ্বাসঘাতকদের আর স্থান নেই। সব্যসাচী যে মুকুল রায়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে দলের ভিতরে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছিলেন এ ব্যাপারে কোনও ধোঁয়াশা নেই।

শুধু তৃণমূলের নেতারা কেন, অনেকেই মনে করছেন যে সাজানো চিত্রনাট্য অনুযায়ী চলছে মুকুল-সব্যসাচী। তৃণমূল থেকে বেরিয়ে এক সময়ে দু’জনে মিলে নতুন দল করার কথাও ভেবেছিলেন। সব্যসাচীর বিজেপি-তে যোগ দেওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র।

প্রশ্ন হল, এখন কী করবেন সব্যসাচী?

তৃণমূলের একাধিক নেতার কথায়, মুকুল রায় জানেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্বলতা কোথায়? সব্যসাচীকে দিয়ে এখন রোজ নিয়ম করে মমতা তথা তৃণমূলের বিরুদ্ধে মুখ খোলাবেন মুকুলবাবু। যাতে তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি তৈরি হয়। তবে সব্যসাচী নিজে থেকে তৃণমূল ছাড়বেন না। তৃণমূল তাঁকে বহিষ্কার করলে তবেই আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপি-তে যোগ দেবেন তিনি।

Comments are closed.