মঙ্গলবার, মার্চ ২৬

বাংলায় তৃণমূলকে কুড়িটার বেশি আসন জিততে দেব না, মোদী-অমিতের পাশে দাঁড়িয়ে মুকুল

দ্য ওয়াল ব্যুরো:  বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার পর মুহূর্ত থেকেই বাংলায় ‘পুলিশ রাজের’ সমালোচনায় সরব তিনি। শনিবার নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহদের পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপি-র রাষ্ট্রীয় অধিবেশন মঞ্চ থেকে সেই একই অভিযোগ করলেন একদা তৃণমূলের সেকেন্ড ম্যান মুকুল রায়। বললেন, বাংলায় গণতন্ত্র নেই। খুনের রাজনীতি চলছে। তবে কথা দিচ্ছি, লোকসভা ভোটে তৃণমূলকে কুড়িটার বেশি আসন জিততে দেব না।

মুকুলের বক্তৃতা শুনে হাততালি দিতে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও। আবার তাঁকে সমর্থন জানাতে গিয়ে মুকুলের বক্তৃতা শেষ হতেই হাতে মাইক তুলে নেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। তিনি বলেন, “এই প্যান্ডেলে বসে আন্দাজ করা যাবে না যে বাংলার পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ। সেখানে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নেই। বিজেপি কর্মীদের উপর কী পরিমাণ অত্যাচার হচ্ছে। তাদের খুন করা হচ্ছে।” বিজেপি সভাপতি বলেন, “বাংলার কর্মীদের পাশে পাহাড়ের মতো মজবুত হয়ে দাঁড়াতে হবে সবাইকে। সেই একাত্মতা জানাতে সবাই মিলে স্লোগান তুলুন,-ভারত মাতা কী জয়!”

আরও পড়ুুন : খোদ মমতা বিজেপি-র সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, বিস্ফোরক দাবি মুকুল রায়ের

বিজেপি-র রাষ্ট্রীয় অধিবেশনের মঞ্চে বরাবরই দলের শীর্ষ সারির নেতারা বক্তৃতা দেন। আবার রাজ্য স্তরের নেতাদের মধ্যে কখনও মুখ্যমন্ত্রীকে, কখনও বা রাজ্য সভাপতিকে বলার সুযোগ দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য সভাপতিদের সবাই যে সুযোগ পান তাও নয়। সে দিক থেকে রাষ্ট্রীয় পরিষদের বৈঠকে মুকুল রায়ের হাতে মাইক দেওয়া বিজেপি-র অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বইকি। উল্লেখযোগ্য হল, বাংলা থেকে রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বা কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা কিন্তু এ বার বক্তৃতার সুযোগ পাননি। যার অর্থ একটাই, মুকুল রায়কে সংগঠনে গুরুত্ব দিচ্ছেন নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ।

এ দিন বক্তৃতার সময় মুকুল রায় বলেন, “আমার স্বীকার করতে গ্লানি নেই যে, আমি পাপ করেছি। তৃণমূল তৈরি হওয়ার কাজে আমার ভূমিকা ছিল। কিন্তু বাংলায় সেই তৃণমূল এখন যে ভাবে গণতন্ত্রকে হত্যা করছে তা ভাবা যায় না। পঞ্চায়েত ভোটে ৩৪ শতাংশ আসনে বিরোধীরা মনোনয়ন পেশ করতে পারেননি। ১৮০ জন রাজনৈতিক কর্মী খুন হয়েছেন। বাংলায় পুলিশ রাজ চলছে। সেই কারণেই প্রায়শ্চিত্ত করতে বিজেপি-তে যোগ দিয়েছি।” রাষ্ট্রীয় অধিবেশনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে এর পরই মুকুল, মোদী-অমিত শাহকে কথা দেন, বাংলায় কুড়িটার বেশি আসন পাবে না তৃণমূল।

প্রসঙ্গত, দু’দিন আগে তৃণমূলে ভাঙন ধরিয়ে বিষ্ণুপুরের তৃণমূল সাংসদ সৌমিত্র খানকে বিজেপি-তে সামিল করিয়েছেন মুকুলবাবু। এর পর বোলপুরের সাংসদ অনুপম হাজরাকে বিজেপি-তে সামিল করাতে পারেন তিনি। বিজেপি সূত্রে বলা হচ্ছে, এর পরেও আস্তিনে কিছু চমক লুকিয়ে রেখেছেন মুকুলবাবু। শুধু এই দুই সাংসদ নন। লোকসভা ভোটের আগে তৃণমূলের একগুচ্ছ নেতা-সাংসদকে বিজেপি-তে সামিল করাতে পারেন তিনি। একদা তাঁর হাত ধরেই তৃণমূলে ওই নেতাদের উত্থান হয়েছিল। এ বার তাঁদের কাছে গুরুদক্ষিণা চাইতে শুরু করেছেন মুকুল রায়।

তৃণমূল অবশ্য এ ব্যাপারকে পাত্তা না দেওয়ারই কৌশল নিয়েছে। যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু বলছেন, তৃণমূল যাদের আবর্জণা করে ফেলে দিচ্ছে, তাদের দলে নিচ্ছে বিজেপি। দিদি চাইলে লক্ষ লক্ষ মুকুল রায়ের জন্ম দিতে পারেন।

আরও পড়ুন: সিবিআইকে আটকাচ্ছে কেন, ভয় কীসের? নাম না করে মমতা, চন্দ্রবাবুকে খোঁচা মোদীর

সিবিআইকে আটকাচ্ছে কেন, ভয় কীসের? নাম না করে মমতা, চন্দ্রবাবুকে খোঁচা মোদীর

আরও পড়ুন: তাঁর কথা না শুনলে বদলি করা হবে, সরকারি আধিকারিককে ‘হুমকি’ কোচবিহারের তৃণমূল নেতার

তাঁর কথা না শুনলে বদলি করা হবে, সরকারি আধিকারিককে ‘হুমকি’ কোচবিহারের তৃণমূল নেতার

Shares

Comments are closed.