শুক্রবার, নভেম্বর ১৫

অর্থনৈতিক সঙ্কট মেনে নিলেন দিলীপ, বললেন ‘আশা করি অভিজিৎ পরিত্রাণের পরামর্শ দেবেন’

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের অর্থনীতি যে সঙ্কটের মধ্যে পড়েছে, তা একপ্রকার মেনে নিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা মেদিনীপুরের সাংসদ দিলীপ ঘোষ। একই সঙ্গে বললেন, তিনি আশা করেন এই সঙ্কট থেকে পরিত্রাণের জন্য নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ পরামর্শ দেবেন।

রবিবার কামারহাটিতে সংকল্প যাত্রা ছিল বিজেপির। সেখানেই রাজ্য সভাপতি বলেন, “আমি আশা করি এই সঙ্কট থেকে পরিত্রাণ পেতে অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান মতামত দেবেন।” তিনি আরও বলেন, “নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় বিরাট মাপের ব্যক্তিত্ব।”

নোবেল পাওয়ার পর থেকেই গেরুয়া শিবিরের একাধিক নেতা তীব্র আক্রমণ শানান অভিজিৎ বিনায়ককে। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল সোজাসুজি বলে দেন, “আপনারা তো অভিজিৎ বিনায়কের চিন্তাধারা জানেন। উনি বাম ঘেঁষা অর্থনীতিবিদ। ওঁর চিন্তাধারাকে ভারতের মানুষ বর্জন করেছে।” পীযূষ গোয়েলের বক্তব্যকে সমর্থন জানাতে গিয়ে শালীনতার লক্ষ্মণরেখা অতিক্রম করেছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা। বলেন, “দেখছি কারও দ্বিতীয় স্ত্রী বিদেশি হলে, তিনিই নোবেল পেয়ে যাচ্ছেন। জানি না এটা নোবেল পাওয়ার কোনও মাপকাঠি কিনা।”

রাহুল সিনহার বক্তব্য নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে বিভিন্ন মহলে। কিন্তু তাতেও তাঁকে টলানো যায়নি। রবিবার প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি বলেছেন, “অভিজিৎবাবু তো অর্থনীতি ছেড়ে রাজনীতির ঝান্ডা ধরলেই পারেন।”

শনিবার দেশে এসেছেন অভিজিৎ। গিয়েছিলেন তাঁর স্নাতকোত্তরের ক্যাম্পাস জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানেই নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ বলেছিলেন, “ন্যায় প্রকল্প নিয়ে কংগ্রেস আমার কাছে পরামর্শ চেয়েছিল। আমি বলেছিলাম কোন খাতে কতটাকা বরাদ্দ করা উচিত। নরেন্দ্র মোদী সরকার যদি চায়, আমি তাঁদেরও পরামর্শ দিতে পারি।”

মঙ্গলবার অভিজিতের সঙ্গে দেখা হটে পারে মোদীর। পর্যবেক্ষকদের মতে, দিলীপ ঘোষ এই মন্তব্য করে বোঝাতে চাইলেন, অভিজিতের বিরুদ্ধে যে ধরণের আক্রমণ কিছু নেতা করছেন তা দল অনুমোদন করে না। ঠারেঠোরে রাহুল সিনহাদেরই বার্তা দিতে চেয়েছেন রাজ্য সভাপতি।

পড়ুন দ্য ওয়াল-এর পুজোসংখ্যার বিশেষ লেখা…

আগে তো আমাদের বাঙালি হতে হবে, তারপরই না ফিউশন: সনজীদা খাতুন

Comments are closed.