মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২১
TheWall
TheWall

ওরা বাঙালি হিন্দুদের ঘৃণা করে, বালিগঞ্জের ফুটপাথ থেকে বিজেপি-কে তোপ ডেরেকের

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পথ দেখিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদীই। কিন্তু তাঁকে তাঁর অস্ত্রেই বাংলায় দশ গোল পুরে দিয়েছে তৃণমূল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও ক্লিপ, অ্যাড জিঙ্গল, র‍্যাপ মায় হইহই ফেলে দিয়েছে নীল-সাদা শিবির। নেপথ্যে দিদি-র (বলা ভাল, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের) ভরসার সেই ডেরেক ও’ব্রায়েনই। এ বার ফেসবুকে একটি ভিডিও বার্তায়, বিজেপি-কে বাঙালি হিন্দু বিদ্বেষী হলে সমালোচনা করলেন ডেরেক।

‘আউটসাইড পার্লামেন্ট’ শীর্ষক একটি ভিডিও সিরিজ করছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা। তারই মঙ্গলবারের এপিসোডে ডেরেক বোঝাতে চেয়েছেন, কেন বিজেপি বাঙালি হিন্দু বিদ্বেষী। ডেরেকের যুক্তি,এক, বাংলায় ২৮ হাজার দুর্গাপুজো হয়। কয়েক হাজার সরস্বতী পুজো হয়। তবু মোদী , অমিত শাহরা এসে বলছেন বাংলায় নাকি দুর্গাপুজো হয় না। অথচ এই দুর্গাপুজোর ক্লাবগুলিকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার দশ হাজার টাকা করে দিয়েছে। আর বিজেপি তাই নিয়ে মামলা করেছে আদালতে। দুই, কলকাতার চল্লিশটি বড় পুজো কমিটির পিছনে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট এবং আয়কর দফতরকে লেলিয়ে দিয়েছে মোদী সরকার। তাদের হেনস্থা করেছে। এবং তিন, জাতীয় নাগরিক পঞ্জি থেকে ২২ লক্ষ হিন্দু বাঙালির নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এই এনআরসি-র জন্য গত দেড় বছরে ৩৫ জন বাঙালি আত্মহত্যা করেছেন।

সেই সঙ্গে ডেরেক বলেন, “কলকাতার রেড রোডে দুর্গাপুজোর পর বিসর্জন কার্নিভাল হয়। আবার ওই রেড রোডেই তার কিছুদিন আগে বা পরে ঈদের নামাজ হয়। ঠিক রেড রড থেকে হাফ কিলোমিটার দূরে পার্ক স্ট্রিটে ক্রিসমাস কার্নিভাল হয়। এটাই বাংলা। এটাই ভারতবর্ষ।” এই গটা ভিডিয়োটি ডেরেক শ্যুট করেন বালিগঞ্জের ফুটপাথে দাঁড়িয়ে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, বিজেপি যত তৃণমূলের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু তোষণের অভিযোগ তুলেছে, তৃণমূল তত করে বাঙালি সেন্টিমেন্টকে খুঁচিয়ে দিতে চেয়েছে জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরণের সময় অসমে প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই দলকে শিলচর বিমানবন্দর থেকেই কলকাতায় ফিরে আসতে হয়। কিন্তু সেখানেই দমে যাননি তৃণমূল নেত্রী। তিনসুকিয়ায় পাঁচ বাঙালি হত্যার পর ফের ডেরেক ও’ব্রায়েনের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছিলেন মমতা। ষষ্ঠ ও সপ্তম দফার ভোটের আগে সেই ইস্যুকেই আরও বড় করে তৃণলূল তুলে ধরতে চাইছে বলে মত তাঁদের।

যদিও ডেরেকের এই ভিডিও বার্তা শুনে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। দলের মুখপাত্র সায়ন্তন বসু বলেন, বাংলায় বিভাজনের পরিবেশ তৈরি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। ইমাম ভাতা চালু করা, হিজাব পড়ে নমাজ পড়া, সরস্বতী পুজো করতে না দেওয়া ইত্যাদি করে সংখ্যাগুরুর ভাবাবেগকে বারবার আহত করেছেন তিনি। বাংলার মাটিতে হিন্দু সংস্কৃতির কী হাল করেছেন। তাই জনমানসে তার প্রতিফলন বুঝতে পেরে এখন শেষে এসে বাঙালি নাম জপছেন ডেরেক। কিন্তু ও দিয়ে লাভের লাভ কিস্যু হবে না।”

Share.

Comments are closed.