বাংলায় বিজেপি-র ভোট-প্রস্তুতি শুরু, কলকাতার দায়িত্বে সুরিন্দর, হাওড়া হুগলির পর্যবেক্ষক বালুরঘাটের সাংসদ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা নির্বাচন সময়ে হলে এখনও পৌনে দুবছর বাকি। কিন্তু এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দিল রাজ্য বিজেপি। আসন ধরে ধরে বুথ স্তরে সাংগঠনিক শক্তি কতটা তা বিশ্লেষণ করা, স্থানীয় রাজনৈতিক ইস্যু বুঝে নেওয়া, শাসক দলের পক্ষে ও বিপক্ষের বিষয়আশয় খুঁজে বের করতে টিম গঠন করে দিলেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়-অরবিন্দ মেননরা। ওই টিম বিধানসভা আসনওয়াড়ি নেতা বা মুখ বেছে নেওয়ার কাজও করবে। হতেই পারে তাঁদের মধ্যে থেকেই বিধানসভা ভোটের জন্য প্রার্থী মনোনীত করবে বিজেপি।

    শনিবার কলকাতার আইসিসিআর-এ রাজ্য বিজেপি-র রুদ্ধদ্বার সাংগঠনিক বৈঠক ছিল। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে লোকসভা আসন ধরে ধরে পর্যালোচনা করা হয়েছে। দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় ও দেবশ্রী চৌধুরীকে বাদ দিয়ে দলের ১৬ জন সাংসদ, ১৩ জন বিধায়ক ও সংগঠনের নেতাদের নিয়ে টিম গঠন করে দেওয়া হয়েছে। যাঁরা ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লোকসভা আসন ধরে ধরে ঘুরবেন। প্রতিটি টিমে তিন চার জন করে সদস্য থাকবেন। কোনও টিম একটি লোকসভা আসনের আওতায় থাকা বিধানসভা কেন্দ্রগুলির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবে, তো কোনও টিমের দায়িত্বে থাকবে দুটি লোকসভা কেন্দ্রের মোট ১৪ টি বিধানসভা আসন।

    যেমন কলকাতার দুটি লোকসভা আসনের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাংসদ তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুরিন্দর সিংহ আলুওয়ালিয়াকে। আবার হাওড়া ও হুগলি জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদারকে।

    বিধানসভা ভোটের জন্য তৃণমূলও কিন্তু প্রস্তুতিতে নেমে পড়েছে এরই মধ্যেই। স্থানীয় কোনও বাড়িতে রাত কাটানো, দিদিকে বলো প্রচার, বিধানসভা কেন্দ্র ওয়াড়ি চারজন করে নেতা বাছাই ইত্যাদি সহ তৃণমূলের প্রস্তুতিও এখন থেকেই জমজমাট। এবং সেই প্রস্তুতির সেনাপতি হলেন পেশাদার কৌশলী প্রশান্ত কিশোর।

    অন্যদিকে ভোটের দেড়-দুবছর আগে থেকে প্রস্তুতি শুরু করে দেওয়া মোদী ঘরানার রাজনীতির বহুদিনের দস্তুর। তাতে অনেক সময় সঙ্ঘ পরিবারের সাহায্যও নেওয়া হয়। বাংলাতেও সেই প্রক্রিয়ায় শুরু করে দিলেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়-অরবিন্দ মেননরা।

    সূত্রের খবর, বাংলায় লোকসভা ভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে বিধানসভা আসনওয়াড়ি বিজেপি কোথায় কত ভোট পেয়েছে, সেখানে ভোটারদের গতি প্রকৃতি কী, তফসিলি জাতি ও উপজাতি এলাকায় সাড়া কেমন—ইত্যাদি বিষয় ধরে একটি দীর্ঘ রিপোর্ট ইতিমধ্যে অমিত শাহ-কে দিয়েছেন মুকুলবাবু। এ দিনের বৈঠকে তিনি বলেন, লোকসভা ভোটে বাংলায় ১২১ টি বিধানসভা আসনে জিতেছে বিজেপি। তৃণমূল জিতেছে ১৬৫ টি আসনে। অর্থাৎ ৪৪ টি আসনের ফারাক রয়েছে। কিন্তু এই ফারাকটাও থাকত না যদি বুথ স্তরে সংগঠন ঠিক থাকত। কারণ, খাতায়কলমে তৃণমূল ৪৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে, বিজেপি পেয়েছে ৪০ শতাংশ ভোট। বিজেপি-র বুথ স্তরে সংগঠন লোকসভা ভোটের সময়ে ঠিক ছিল না। বহু বুথে পোলিং এজেন্ট দেওয়া যায়নি। সেখানে অবাধে জল মিশিয়েছে তৃণমূল। সেই জলের পরিমান অন্তত চার থেকে পাঁচ শতাংশ। বিধানসভা ভোটে বুথওয়াড়ি শক্তি বাড়িয়ে সেই জল মেশানো রুখে দিতে পারলেই অনায়াসে দুশ আসনে জিততে পারে বিজেপি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More