তোলা দিইনি বলেই সরতে হল, দিলীপ ঘোষদের বিরুদ্ধে বিষ উগরে দিলেন মালদহের অপসারিত জেলা সভাপতি

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদহ: কাটমানি নিয়ে বাংলার শাসক দল তৃণমূলের অন্দরমহল সরগরম। এর মধ্যেই আবার বিজেপি-র ভিতরেও দানা বাঁধল ‘তোলাবাজি’ ক্ষোভ। সদ্য অপসারিত মালদহের বিজেপি জেলা সভাপতি সঞ্জিত মিশ্র সংবাদমাধ্যমকে ডেকে রাজ্য নেতৃত্বের বিরুদ্ধেই বিস্ফোরণ ঘটালেন সোমবার।

    রবিবার রাজ্যের আট জেলা সভাপতি বদল করে রাজ্য বিজেপি। তার মধ্যে মালদহও ছিল। অপসারিত হওয়ার চব্বিশ কাটার আগেই রাজ্যের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কামান দাগলেন সঞ্জিত। তিনি বলেন, “রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বকে তোলার টাকা পৌঁছে দিইনি বলেই জেলা বিজেপি সভাপতির পদ থেকে আমাকে অন্যায় ভাবে সরানো হয়েছে।” পাল্টা রাজ্য বিজেপি-র সভাপতি দিলীপ ঘোষ ও সংগঠন সম্পাদক সুব্রত চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, সঞ্জিতের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমেছিল। ওঁকে সরাতেই হতো।

    পাশাপাশি রাজ্য নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার হুমকিও দেন তিনি। বিজেপির রাজ্য সংগঠন সম্পাদক সুব্রত চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “এই ষড়যন্ত্রের পিছনে সুব্রত চট্টোপাধ্যায়ের প্রচ্ছন্ন মদত রয়েছে।” সঞ্জিতের নিশানা থেকে বাদ যাননি রাজ্য সভাপতি তথা মেদিনীপুরের সাংসদ দিলীপ ঘোষও। প্রতিকার চেয়ে কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্বের দ্বারস্থ হবেন বলেও ঘোষণা করেন সঞ্জিত।

    শুধু এই অভিযোগই নয়, সঞ্জিত ক্ষোভের জ্বালামুখ খুলে দিয়ে বলেছেন, “রাজ্য নেতৃত্ব বলেছিল হবিবপুর বিধানসভার উপনির্বাচনে তৃণমূলকে আসন ছাড়তে। আমি তৃণমূলের সঙ্গে বোঝাপড়া করিনি বলেই আজ আমায় সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।” হবিবপুরের সিপিএম বিধায়ক ছিলেন খগেন মুর্মু। তিনি বিজেপি-তে যোগ দিয়ে এখন সাংসদ। তাঁর জায়গায় বিজেপি-র প্রার্থী হয়ে বিধানসভায় গিয়েছেন জুয়েল মুর্মু।

    দলীয় রীতি না মেনেই তাঁকে সভাপতি পদ থেকে সরানো হয়েছে বলে দাবি করেন সঞ্জিত। তাঁর কথায়, “সভাপতি পদ থেকে আমাকে সরালে সেটা চিঠি দিয়ে জানাতে হতো রাজ্য সভাপতি। কিন্তু আমার কাছে যে চিঠি এসে পৌঁছেছে, তাতে অফিস সম্পাদকের সই রয়েছে।”

    তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, সবই তো বোঝা গেল, কিন্তু এতদিন আপনি এই অভিযোগ করেননি কেন? আজ অপসারিত হওয়ার পর কেন বলছেন? সঞ্জিত বলেন, “এত দিন আমি দলে ছিলাম। তাই দলের ভিতরে যা বলার বলেছি। কিন্তু এখন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে। তাই বাইরে সংবাদমাধ্যমের কাছে বলছি।”

    অপসারিত সঞ্জিতের অভিযোগকে অবশ্য খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না বঙ্গ বিজেপি-র শীর্ষ নেতৃত্ব। রাজ্য বিজেপি-র সংগঠন সম্পাদক সুব্রত চট্টোপাধ্যায় বলেন, “অনেকদিন ধরেই ওঁর বিরুদ্ধে একাধিক চারিত্রিক ও আর্থিক অভিযোগ আসছিল। দল দলের মতো করে ব্যবস্থা নিয়েছে। ওঁর যদি মনে হয় আদালতে যাবেন, যেতেই পারেন।” বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও সুব্রতবাবুর সুরেই বলেন, “সঞ্জিতের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ ছিল। একবার তৃণমূলেও চলে গিয়েছিলেন। ফিরিয়ে এনে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনও কাজই করেননি। সরিয়ে দেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More