সোমবার, এপ্রিল ২২

নিরাপত্তার অভাব, দ্বিতীয় দফায় একটি আসনের ভোট পিছিয়ে দেওয়ার দাবি মুকুলের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রথম দফার ভোটের পরে বিজেপি দুই শুন্যে এগিয়ে আছে বলে দাবি করেও নির্বাচন কমিশনের উপরে চাপ তৈরি করল রাজ্য বিজেপি। মুকুল রায় কমিশনের কাছে এদিন দাবি করেন, পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে না পারলে দ্বিতীয় দফায় যে তিনটি আসনে ভোট রয়েছে তার মধ্যে একটির ভোটগ্রহণ পিছিয়ে দেওয়া হোক।

এদিন কলকাতায় কমিশনের অফিসে ধর্নায় বসেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। সঙ্গে ছিলেন আরও দুই রাজ্য নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার ও শিশির বাজোরিয়া। পরে রাজ্য অফিসে এসে সাংবাদিক সম্মেলন করেন মুকুল রায়। সেখানেই তিনি বলেন, “আমাদের দাবি মেনে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পেয়েই ধর্না তুলে নেওয়া হয়েছে।”

কী কী দাবি ছিল কমিশনের কাছে? এর উত্তরে মুকুল রায় জানান, প্রথম দফায় যে দু’টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছে তা সুষ্ঠু ও অবাধ ছিল না। অনেক বুথেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়নি। আমরা কোচবিহার আসনের ২৯৭টি বুথে এবং আলিপুরদুয়ারের ৪৭টি বুথে পুনরায় ভোটগ্রহণ চাই।”

একই সঙ্গে বিজেপি কমিশনের কাছে দাবি করেছে, দ্বিতীয় দফায় যে তিনটি আসনে ভোট রয়েছে তার জন্য ১৪৬ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে। অর্থাৎ কমিশনের হাতে ১৪ হাজার ৬০০ আধা সেনা। মোট বুথের সংখ্যা ৫ হাজার ৪০০। এই বাহিনী দিয়ে ভোট করালে সব বুথেই দু’জন করে আধা সেনা মোতায়েন করা সম্ভব। এর পরেও যদি কমিশন মনে করে সুষ্ঠু ও অবাধ ভোটগ্রহণের জন্য বাহিনী পর্যাপ্ত নয় তবে জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং ও রায়গঞ্জের মধ্যে একটি আসনের ভোটগ্রহণ পিছিয়ে দেওয়া হোক। বাহিনী এলে তবেই ভোট হোক। মুকুল রায়ের বক্তব্য, “ভোট প্রহসনে পরিণত করার থেকে ভোট পিছিয়ে দেওয়া ভালো।”

সাংবাদিক সম্মেলনে মুকুল রায় বলেন, “গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে কোচবিহার জেলায় ৭০ শতাংশ আসনে প্রার্থী দিতে পারেনি বিরোধীরা। বিনা লড়াইয়ে জয় পায় তৃণমূল কংগ্রেস। তখন যিনি জেলার দায়িত্বে ছিলেন তিনিই লোকসভা নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার। তিনি একটি রাজনৈতিক দলের হয়ে পক্ষপাতিত্ব
করেছেন। আমরা আগেই বলেছিলাম এঁকে রেখে কোচবিহারে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।”

শুধু কোচবিহারের জেলাশাসক কৌশিক সাহার বিরুদ্ধেই নয়, আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসক শুভাঞ্জন দাসের বিরুদ্ধেও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে মুকুল রায় বলেন, “উনি আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন। কুমারগ্রাম, নাগরাকাট-সহ বহু এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়নি।”

এদিন নির্বাচন কমিশনের কাছে মুকুল রায় দাবি করেছেন, ওয়েব কাস্টিং স্ক্রুটিনি করে দেখা হোক কোথায় কোথায় ভোটগ্রহণ স্বাভাবিক হয়নি এবং ফের ভোটগ্রহণ করা হোক। পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকা সত্বেও কেন তা মোতায়েন করা হচ্ছে না সেই প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে বিজেপির দাবি, দরকারে আরও বাহিনী আনা হোক। একই সঙ্গে দাবি করা হয়েছে, পঞ্চায়েত নির্বাচনে যে সব অফিসারদের উপস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি তাদের সরিয়ে দেওয়া হোক। তাদের রিটার্নিং অফিসার রেখে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন সম্ভব নয়।

প্রথম দফার ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে কোচবিহারের পুলিশ সুপার বদল করে নির্বাচন কমিশন। মূলত বিজেপির অভিযোগেই অভিষেক গুপ্তকে সরিয়ে আনা হয় অমিতকুমার সিংকে। সেই প্রসঙ্গে মুকুল রায়ে এদিন বলেন, “আরও আগে পদক্ষেপ করা উচিৎ ছিল কমিশনের। যতক্ষণে পুলিশ সুপার বদল করা হয়েছে, তার আগেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়ে যায়।” রাজ্য নির্বাচন আধিকারিকের দফতর কমিশনকে ভুল পথে চালিত করছে বলেও এদিন অভিযোগ তুলেছেন মুকুল রায়।

কমিশনের কাছে এত অভিযোগ জানানোর পরে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন ওঠে, প্রথম দফার ভোটের পরে বিজেপি কি চিন্তিত? এর জবাবে মুকুল রায় বলেন, “এত কিছু হওয়ার পরেও আমরা দুই শুন্যে এগিয়ে আছি। প্রথম দফার দুই আসনে আমরা জিতবই। তবু যে সব এলাকায় অবাধ ভোট হয়নি সেখানে পুনরায় ভোটগ্রহণ হোক। মানুষের ভোটদানের অধিকার ফিরিয়ে দিতেই এই দাবি।”

আরও পড়ুন

তৃণমূল যতই ‘নিকম্মা’ বলুক, নিরপেক্ষতার প্রশ্নে কঠোর কমিশন, সরাতে পারে ডিজিকেও

Shares

Comments are closed.