শনিবার, জানুয়ারি ২৫
TheWall
TheWall

পৃথিবী ছাড়ার আগে কাটমানি ফেরত দিন, নৈহাটির শেষ চেয়ারম্যানের উদ্দেশে ফেসবুক পোস্ট বিজেপি কাউন্সিলরের

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নৈহাটি পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলররা বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার পর সেখানে প্রশাসক বসিয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকার। এর মধ্যেই নাকি এলাকায় ঝড়ের বেগে রটতে শুরু করেছে, শেষ পুরবোর্ডের চেয়ারম্যান অশোক চট্টোপাধ্যায় মারা গিয়েছেন! এবং তা ফেসবুকে লিখে বিজেপি-তে যোগ দেওয়া কাউন্সিলর গণেশ দাস দাবি জানালেন, পৃথিবী ছেড়ে যাওয়ার আগে কাটমানি ফেরত দিতে হবে অশোক চট্টোপাধ্যায়কে। আর অসুস্থ অশোক চট্টোপাধ্যায় সাংবাদিকদের বললেন, “৩৪ বছর সিপিএমের কাছে মাথা নোয়াইনি। গণেশ দাস তো বাচ্চা ছেলে। কাটমানি নিয়ে অশোক চ্যাটার্জি রাজনীতি করে না।”

২০ জুলাই রাতে গণেশবাবু তাঁর ফেসবুক প্রোফাইল থেকে স্টেটাস দিয়েছেন। তাতে তিনি লিখেছেন, রটছে অশোকবাবু মারা গিয়েছেন। এবং তার সত্য-মিথ্যা তিনি জানেন না। কিন্তু তিনি দাবি করেছেন, আগে কাটমানি ফেরত দিন। তারপর পৃথিবী ছাড়ুন অশোক চট্টোপাধ্যায়।

একজন জীবীত মানুষকে ‘মৃত’ বলে যদি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ রটিয়ে দেয়, তাহলে তো বাড়ির লোকের চিন্তা হবেই। তাই অশোকবাবুর স্ত্রী গীতা চট্টোপাধ্যায় খানিকটা আতঙ্কিত হয়েই থানায় গিয়ে গণেশ দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। গীতাদেবীর দাবি, মানুষকে উত্তেজিত করে তাঁর স্বামীর প্রাণ নাশের চেষ্টা হচ্ছে। তাঁদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অশোকবাবু বলেন, “যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে, আমি এক টাকাও কাটমানি নিয়েছি তা হলে শুধু ফেরত নয়। আমি নৈহাটি ছেড়ে চলে যাব।”

একটা সময়ে অশোকবাবুর দাপটে নৈহাটি কাঁপত। এলাকার অনেকের বক্তব্য, অশোকবাবু নাকি বলতেন, “বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত চেয়ারম্যান। তারপর নৈহাটির সবচেয়ে বড় গুণ্ডা।” বিরোধীদের অভিযোগ, অশোকবাবুর ছেলে অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায় নৈহাটি শহর তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি। তাঁর দাপটও ছিল বাবার মতোই। কিন্তু গত কয়েক মাসে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে বিজেপি-র শক্তিবৃদ্ধি তাঁদের দুজনকেই নিস্তেজ করে দিয়েছে বলে দাবি অনেকের। এর মধ্যেই আবার গোদের উপর বিষফোড়া হয়ে হাজির হয়েছে মৃত্যু গুজব এবং কাটমানি খাওয়ার অভিযোগ।

Share.

Comments are closed.