বিধাননগরের মেয়রের হয়ে আদালতে সওয়াল কলকাতার প্রাক্তন মেয়রের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধাননগর কর্পোরেশনের মেয়রের হয়ে কালো কোট গায়ে আদালতে সওয়াল করলেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র। সব্যসাচী দত্তর হয়ে দাঁড়ালেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য।

    সব্যসাচী দত্তর বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছেন বিধাননগরের ৩৫ কাউন্সিলর। তাঁকে নোটিস দিয়েছেন পুরসভার কমিশনার। জানিয়েছেন, আগামী ১৮ জুলাই ভোটাভুটি হবে। এরপরই হাইকোর্টে যান সব্যসাচী। সোমবার ছিল সেই মামলার শুনানি। সেই শুনানিতে রাজনৈতিক মতাদর্শের বেড়াজাল ভেঙে এক মেয়রের হয়ে লড়লেন আর এক শহরের প্রাক্তন মেয়র।

    আদালতে এ দিন বিকাশবাবু সুনির্দিষ্ট ভাবে কয়েকটি প্রশ্ন তোলেন। বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়ের এজলাসে এই মামলার শুনানিতে তিনি বলেন, “এক, বাংলার পুর আইন অনুযায়ী কমিশনারের এই নোটিস দেওয়ার এক্তিয়ার নেই। দুই, এই নোটিস দিতে পারেন একমাত্র চেয়ারপার্সন। কিন্তু তা হয়নি।” তিনি আদালতে বলেন, “নোটিসে কমিশনার লিখেছেন, চেয়ারপার্সনের নির্দেশেই তিনি এই নোটিস দিয়েছেন। তাহলে কেন চেয়ারপার্সনকে এই মামলায় যুক্ত করা হবে না?” একই সঙ্গে বিকাশ ভট্টাচার্য বলেন, “মেয়র পদ থেকে সব্যসাচী দত্তকে সরাতেই পারেন। কিন্তু তার তো একটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থাকবে। এখানে কোনও প্রক্রিয়া মানা হয়নি। কারা তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছেন, তাও জানানো হয়নি।”

    বিকাশবাবুর পাল্টা সরকারের পক্ষে অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি) কিশোর দত্ত বলেন, “কারা মেয়রের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছেন, তা জানাতে হবে এমন কোনও ব্যাপার নেই।” চেয়ার পার্সনকে মামলার পার্টি করারও বিরোধিতা করেন এজি। আদালতে কিশোর দত্ত আরও বলেন, “মেয়রকে নির্বাচন করেন কাউন্সিলররা। তাঁরাই অনাস্থা এনেছেন। তাঁদেরকে এই মামলার সঙ্গে যুক্ত করা হোক।” এর পাল্টা বিকাশবাবু বলেন, “যদি জানা না-ই যায়, কারা অনাস্থা এনেছেন, তাহলে আদালত কী ভাবে তাঁদের মামলার সঙ্গে যুক্ত করবে?”

    বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায় এ দিনের সওয়াল জবাবের পর নির্দেশ দিয়েছেন, এই মামলায় বিধাননগরের চেয়ারপার্সন কৃষ্ণা চক্রবর্তীকে যুক্ত করতে হবে। এবং মঙ্গলবার ফের হবে এই মামলার শুনানি।

    রাজনৈতিক মতাদর্শের বাইরে গিয়ে আইনজীবীদের মামলা লড়ার ঘটনা নতুন নয়। চিটফান্ড মামলায় রাজ্য সরকারের হয়ে সওয়াল করেন কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক মনু সিংভি। এর আগে মদন মিত্রের হয়ে জামিন করাতে সওয়াল করেছিলেন কপিল সিব্বল। ঠিক একই ভাবে বিকাশবাবুও তাই করলেন।

    সরস্বতী পুজোর আগের রাতে খুন হয়েছিলেন নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস। ওই মামলায় জড়িয়েছিল বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের নাম। নদিয়ায় ঢোকার ব্যাপারে মুকুলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল আদালত। কয়েকদিন আগে তা উঠেছে। সেই সময়ে মুকুলবাবুর হয়ে আগাম জামিনের মামলা করার কথা ছিল বিকাশবাবুর। বিকাশবাবুও প্রথমে বলেছিলেন, “জামিন পাওয়া একজন নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার।” পেশাগত কারণেই তিনি সেই মামলা নিতে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর দল সিপিএম নড়েচড়ে বসে। পরে সেই মামলা প্রত্যাখ্যান করেন সিপিএম নেতা বিকাশ ভট্টাচার্য। কিন্তু এ বার তৃণমূলের বিধায়ক তথা মেয়রের হয়ে কোর্টে দাঁড়ালেন বিকাশবাবু। সওয়াল করলেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More