বুধবার, অক্টোবর ১৬

রাজীব কুমার ‘পলাতক’, মজা দেখছেন ভারতী

দ্য ওয়াল ব্যুরো : লোকসভা ভোটের আগে ‘পালিয়ে পালিয়ে’ বেড়াচ্ছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রাক্তন পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষ। কখনও বলা হচ্ছিল উনি গুজরাতে রয়েছেন, তো কখনও বলা হচ্ছিল মহারাষ্ট্রে। সেই সময় তাঁকে হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন রাজ্য গোয়েন্দা দফতরের অফিসাররা। তল্লাশি চালানো হয়েছে ভারতীর বাড়িতে। গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁর দেহরক্ষীকে। আজ সিবিআই কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার তথা বর্তমান গোয়েন্দা প্রধান রাজীব কুমারকে হন্যে হয়ে খুঁজছে। শনিবার আলিপুর আদালতে সিবিআই অভিযোগ করেছে রাজীব কুমার ‘পলাতক’। এ দিনই সন্ধেবেলা ‘সেজেগুজে’ পরিপাটি হয়ে রাজ্য বিজেপি দফতরে যান ভারতী ঘোষ। সেখানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠক ছিল। সেখানেই রাজীব কুমারের এই ‘পালিয়ে বেড়ানো’ নিয়ে কটাক্ষ করলেন ভারতী।

এ দিন সাংবাদিকদের সামনে এককালে শাসকদলের ঘনিষ্ঠ এই অফিসার বলেন, “এর আগেও আমাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, রাজীব কুমারকে কোথায় পাবো। তখন আমি মজা করে বলেছিলাম সিবিআই-এর উচিত দিদিকে বলো-তে এ কথা বলতে।” তারপরেই অবশ্য সরাসরি রাজীবের খোঁজ না পাওয়ার ঘটনায় প্রশাসনের দিকেই আঙুল তোলেন ভারতী। তিনি বলেন, “তিনি যে এই অদৃশ্য হয়ে আছেন, তার পিছনে অনেক পুলিশের সাপোর্ট আছে। পুলিশের সাহায্যেই তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।”

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেও আঙুল তোলেন এককালে তাঁর স্নেহধন্য এই পুলিশ সুপার। বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী তো হামেশাই বলেন, আইন আইনের পথে চলবে। উনি কি জানেন না, একদিকে যখন বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে ২৮ হাজার মিথ্যে মামলা করা হচ্ছে, মিছিল-মিটিং করতে দেওয়া হচ্ছে না, গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে তখন প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে একজন পুলিশ অফিসারকে লুকিয়ে রাখা হচ্ছে। তাহলে আইনের কী অবস্থা, প্রশাসনের কী অবস্থা, সরকারের কী অবস্থা।” তিনি আরও বলেন, “এই প্রশাসন যারা এত ব্যস্ত, যারা গণধর্ষিতাকে দেখতে যেতে পারে না, একজন আহত পুলিশ কর্মীকে দেখতে যেতে পারে না, তারা কিন্তু লোক-লস্কর লাগিয়ে প্রাক্তন পুলিশ কমিশনারকে লুকিয়ে রাখতে পারে।”

তবে সিবিআই-এর উপর পূর্ণ আস্থা আছে বলেই জানান ভারতী। তিনি বলেন, “অবশ্যই খুঁজে দেখা হবে, কারা কারা লুকিয়ে থাকতে সাহায্য করেছিলেন। কারা কারা গাড়ি চালিয়েছিলেন। ( রাজীব কুমারের ) নিজের ফোন বন্ধ কিন্তু কারও তো ফোন চলছে, সেই সব বের হবে। সময় লাগবে। কিন্তু ট্রুথ উইল কাম আউট।”

এ দিন বিজেপির রাজ্য দফতরে রাজীব কুমারের ব্যাপারে মন্তব্য করেন ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংও। তিনি বলেন, “রাজীব কুমারের বাড়ির লোকের খোঁজ নেওয়া উচিত, তিনি সত্যিই লুকিয়ে আছেন, নাকি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন তাঁকে প্রোটেক্ট করছে, নাকি এলিমিনেট করে দিয়েছে। এখন তো আমার সে দিকেই সন্দেহ হচ্ছে।”

এ দিকে শনিবার আলিপুর আদালতে রাজীব কুমারের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই গত তিন দিন ধরে হন্যে হয়ে তাঁকে খুঁজছে সিবিআই। একাধিক জায়গায় হানা দেওয়া হচ্ছে। যদিও এখনও প্রাক্তন পুলিশ কমিশনারের কোনও হদিশ মেলেনি।

Comments are closed.