রবিবার, মার্চ ২৪

বাংলায় সরকারকে তেল দিলে এক নিয়ম, না দিলে আর এক নিয়ম: বিস্ফোরক ভারতী ঘোষ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাড়িতে সিবিআই হানা নিয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ধর্মতলায় ধর্ণা দিচ্ছেন। ঠিক তখনই মুকুল রায়ের হাত ধরে দিল্লির কেন্দ্রীয় বিজেপি দফতরে গিয়ে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রাক্তন পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষ। রাজনীতিতে সরাসরি যোগ দেওয়ার পর, রবিবার বোমা ফাটালেন ভারতী। একদা মমতা-ঘনিষ্ঠ এই অফিসার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন লোকের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নিয়ম। যারা সরকারকে তেল দেবে তাদের এক রকম নিয়ম। আর যারা সরকারকে তেল দেবে না, তাদের জন্য আর এক রকম নিয়ম।”

এক কালে মমতাকে ‘জঙ্গলমহলের মা’ বলতেন ভারতী। রাজীব কুমারের পাশে দাঁড়ানো নিয়ে সেই মমতাকেই এ দিন তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। বলেন, “যখন রাজীব কুমারের বাড়িতে সিবিআই রেড হলো তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে বলছিলেন, সিবিআই-এর ৪০ জন অফিসার রাজীবের বাড়িতে এসেছে অথচ এফআইআর-এ রাজীবের নাম নেই। সার্চ ওয়ারেন্ট নেই। তাহলে ভারতী ঘোষের ক্ষেত্রে নিয়মটা অন্য রকম হয়ে গেল।” এ দিন ভারতী অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালের পয়লা ফেব্রুয়ারি রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থার ৭৫ জন অফিসার তাঁর বাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর করেছিলেন। ভারতীর দাবি, তাঁর নাম কোনও এফআইআর-এ ছিল না। তাঁর আরও অভিযোগ, বিদেশে পড়তে যাওয়ার সময় তাঁর মা বাড়ির একটি অংশ তাঁকে লিখে দিয়েছিলেন। সেই ২৯ বছরের পুরনো ‘ডিড অফ গিফট’-ও সিজ করে নিয়ে গিয়েছে।

বিরোধীদের অনেকে বলেন, একটা সময় ভারতী শুধু পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার ছিলেন না। সেই সঙ্গে ছিলেন বিরোধীদের ত্রাস। শাসক দলের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণও তিনিই করতেন বলে অনেক তৃণমূল নেতার ক্ষোভ রয়েছে। অনেকে বলেন, ওই জেলায় কোন ব্লকে তৃণমূলের কোন নেতা সভাপতি হবেন তা-ও নাকি পুলিশ সুপারের বাংলো থেকেই ঠিক হতো।

যদিও রাজনৈতিক মহলে ভারতীর স্বচ্ছ ভাবমূর্তি রয়েছে, ব্যাপারটা এমন নয়। প্রবীণ এক কংগ্রেস নেতার কথায়, “ভারতী ঘোষ নামক ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন তৈরি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একটা সময় তো বিরোধীদের দমন করতে তাঁকেই ক্যাডার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। এখন যা হওয়ার তাই হয়েছে।”

আরও পড়ুন

মোদীর কোনও ক্ষমতা নেই, পুলওয়ামার ঘটনায় সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে দায়ী করলেন অনুব্রত

Shares

Comments are closed.