‘বাংলার ছেলেমেয়েরা ভাল কাজ করছে’, এসএসকেএম হাসপাতালে মমতার মন্তব্য নিয়ে নতুন বিতর্ক

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনেও বাঙালি-অবাঙালি বিভাজনের রেখা টেনে দিতে চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষ্যুদবার দুপুরে হঠাৎই এসএসকেএম হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে চলে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে গিয়ে একে তো আন্দোলনরত জুনিয়র ডাক্তারদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দেন। বলেন, চার ঘণ্টার মধ্যে কাজে যোগ না দিলে হস্টেল ছাড়তে হবে। সেই সঙ্গেই তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে বলেন, বাঙালি ডাক্তাররা কিন্তু এমন করছেন না। তাঁরা ভাল।

    মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “যাঁরা বাংলাকে ভালবাসেন, বাংলার ছেলেমেয়েরা ভাল কাজ করেন। কিন্তু এখন সমস্যা হয়েছে। আগে আমাদের এখানে সব লোকালি (পড়ুন স্থানীয় ভাবে) হতো। এখন তা হয় না।  এখন বাইরে থেকে সব নিয়ে নিয়েছে। ফলে তাঁরা না জানে এখানকার ভাষা, না রোগীর পরিবারের সঙ্গে ঠিক মতো কথা বলেন! তা সত্ত্বেও সব মেনে নিয়েছি”। এর পরই মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, বাংলার ছেলেমেয়েদের জন্য ডাক্তারি পড়াশুনায় কুড়ি শতাংশ আসন বাড়ানোর জন্য আইন করবেন তিনি।

    পর্যবেক্ষকদের মতে, ‘বাইরে থেকে সব নিয়ে নিয়েছে’ বলে মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তারি পড়ার ক্ষেত্রে প্রবেশিকা পরীক্ষার ব্যবস্থার কথা বোঝাতে চাইছেন। আগে বাংলার মেডিকেল কলেজগুলিতে ছাত্র ভর্তির জন্য রাজ্য স্তরে পরীক্ষা হতো। এখন গোটা দেশের মেডিকেল কলেজগুলিতে ছাত্র ভর্তির জন্য জাতীয় স্তরে প্রবেশিকা পরীক্ষা হয়। মুখ্যমন্ত্রী বোঝাতে চেয়েছেন, সেই কারণে অন্য রাজ্য থেকে অবাঙালি ছেলেমেয়েরা এসে এখানকার মেডিকেল কলেজগুলোতে পড়ছে। তাঁদের তুলনায় বাঙালি ছেলেমেয়েরা ভাল। তাঁরা ভাল কাজ করে।

    মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। চিকিৎসকদের একাংশের মতে, মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তারদের আন্দোলন নিয়েও বিপজ্জনক রাজনীতি করছেন। বাঙালি-অবাঙালি বিভাজন তৈরি করতে চাইছেন। বাস্তব হল, বাইরের ছেলেমেয়েরা যেমন এখন এখানকার মেডিকেল কলেজগুলিতে পড়াশুনা করেন, তেমনই বাংলার ছেলেমেয়েরা অন্য রাজ্যে মেডিকেল কলেজ গুলিতে পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এই ব্যবস্থা আগের তুলনায় অনেক স্বচ্ছ। কারণ, রাজ্যস্তরে প্রবেশিকা পরীক্ষার ক্ষেত্রে ভর্তির সময় প্রচুর অনিয়ম, স্বজনপোষণ ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠত। এখন তা হচ্ছে না।

    দ্বিতীয়ত পর্যবেক্ষকদের বক্তব্য, বাংলার সরকারি হাসপাতালে বাইরের গুণ্ডাদের হাতে বাঙালি ডাক্তাররাও তো নিগৃহীত হচ্ছেন। আক্রান্ত জুনিয়র ডাক্তার পরিবহ মুখোপাধ্যায় তো বাঙালি। তাঁকে কি নিরাপত্তা দিতে পেরেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসন ও পুলিশ?

    তৃতীয়ত, চিকিৎসকদের মতে বাংলা চাইলেই রাজ্যের ছাত্রদের জন্য আলাদা করে কুড়ি শতাংশ আসন বাড়াতে পারবে না। গোটা ব্যাপরাটাই এখন মেডিকেল কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার আওতায় পড়ে। এখানে বাংলা কেন কোনও রাজ্যই শুধু সেখানকার ছাত্রদের জন্য আসন বাড়াতে পারবে না। মধ্যপ্রদেশ বা রাজস্থান বা চণ্ডীগড়ের মেডিকেল কলেজে আসন বাড়লে তার সুবিধা যেমন বাঙালিরা ছাত্ররা পাবেন, একই ভাবে বাংলায় আসন বাড়লে অন্য রাজ্যের ছেলেমেয়েরা তার সুবিধা পাওয়ার কথা।

    মমতার এ দিনের মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক সমালোচনাও শুরু হয়েছে। প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, নিজের রাজনৈতিক সুবিধার জন্য মমতা এমন প্রাদেশিকতাবাদের লাইন নিয়েছেন, তাতে ভিন রাজ্যে পড়তে ও কাজের জন্য গিয়ে বাঙালিরাই বিপদে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এটা আগুন নিয়ে খেলা। বাংলার মানুষের উচিত এই রাজনীতিকে উচিত জবাব দেওয়া।

    আরও পড়ুন:

    ওরা সবাই জুনিয়র ডাক্তার নয়, আউটসাইডারও আছে: মমতা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More