দিলীপের টিম ভেঙে দিয়ে সুব্রতকে সরাল দিল্লি, একুশের আগে বড় বদল, নাড্ডা আসছেন দুদিনের জন্য

৪,০০৭

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য সভাপতি পদে দিলীপ ঘোষই থাকছেন। কিন্তু তাঁর ‘টিম’ ভেঙে দিল দিল্লি। দলের সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে সুব্রত চট্টোপাধ্যায়কে সরিয়ে দিল দিল্লি। পরিবর্তে সেই পদে আনা হল, বিদ্যার্থী পরিষদের দীর্ঘ দিনের তরুণ নেতা অমিতাভ চক্রবর্তীকে।

সব রাজনৈতিক দলেরই সংগঠনে সাত সতেরো অঙ্ক থাকে। আম জনতার সকলের তা নিয়ে বিশেষ আগ্রহ থাকে না। তবে দিলীপ-সুব্রতর পারস্পরিক বোঝাপড়া ও তাঁদের জুটির রসায়ন সহজ করে বোঝাতে গেলে বলা যায়, তাঁরা ছিলেন রাজ্য বিজেপিতে লক্ষ্মীকান্ত-পেয়ারেলাল। এক সুরে গান বাঁধতেন। এক সঙ্গে এক ফ্ল্যাটে থাকতেন। এক সঙ্গে খেতেন। এক সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতেন। বুধবার সেই জুটি ভেঙে দিলেন সর্বভারতীয় বিজেপি সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডা (পড়ুন অমিত শাহ)। সন্দেহ নেই একুশের আগে রাজ্য বিজেপিতে এটা বড় বদল।

কেন বড় বদল?

সঙ্ঘ ও দলের কাজে দিলীপ ঘোষের নিষ্ঠা ও ব্যক্তিগত সততা প্রশ্নাতীত। দীর্ঘদিন শাখার দায়িত্বে থাকায় দিলীপবাবু বরাবরই খোশমেজাজে থাকেন এবং স্বভাবগত ভাবে হাসিখুশি। সেই তুলনায় সুব্রত চট্টোপাধ্যায় স্বভাবে রাশভারি। দলের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ। সচরাচর কারও ফোন ধরেন না। পঞ্চাশ বার ফোন করলেও তাঁকে পাওয়া যায় না। তাঁর আপ্ত সহায়ক বলেন, দাদা ব্যস্ত রয়েছেন। সুব্রতবাবুর এত ব্যস্ততার কারণ বুঝতে পারতেন না অনেক জেলার নেতা বা রাজ্য কমিটির সদস্য। আচারে আচরণে দিলীপ ঘোষ ও সুব্রত চট্টোপাধ্যায়ের মধ্যে এই ফারাক থাকলেও মৌলিক একটি বিষয়ে মিল ছিল। দু’জনেই রক্ষণশীল। রাজনৈতিক প্রয়োজনে অন্য দল থেকে নেতা, কর্মী বিজেপি-তে সামিল করতে তাঁরা প্রস্তুত, কিন্তু তাঁদের হাতে সংগঠনে জায়গা দেওয়ার ব্যাপারে বিশেষ আগ্রহী নন। এ ব্যাপারে প্রাচীন পন্থী। এবং সেই কারণেই মুকুল রায়, সৌমিত্র খাঁদের সঙ্গে তাঁদের বনিবনার অভাব হচ্ছে। কিন্তু ভোটের আগে দিল্লি তা আর বরদাস্ত করতে চাইল না।

সূত্রের মতে, নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহদের লাইন স্পষ্ট। তাঁরা মনে করেন, রাজ্য বিজেপিতে যখন ওজনদার নেতা নেই, তখন দরজা খোলা রাখতে হবে। নেতা মঙ্গলগ্রহ থেকে আসবে না। রাজ্য রাজনীতিতে এই মুহূর্তে যাঁরা সক্রিয় তাঁদের মধ্যে থেকেই আসবেন। তা তিনি তৃণমূলেই থাকুন বা সিপিএমে। এবং তাঁদের যোগ্যতা অনুযায়ী জায়গা দিতে হবে।

এ ক্ষেত্রে বলে রাখা ভাল, এ হেন লাইন অমিত শাহদের এক্সক্লুসিভ নয়, পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে তৃণমূলেরও তাই। নইলে তিন বছর ধরে ফেরার বিমল গুরুংয়ের সঙ্গে তৃণমূল জোটে রাজি হয়ে যেত না।

সে যাক। বিজেপির একটি সূত্রের মতে, দিলীপ ঘোষদের টিম ভেঙে দিয়ে রাজ্য সংগঠনে ‘ফ্লেক্সিবিলিটি’ আনতে চাইল দিল্লি। কারও একার মৌরসিপাট্টা না রেখে সমষ্টিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সম্ভবত একটি সাংগঠনিক কাঠামোও এ বার তৈরি করে দেওয়া হবে। অর্থাৎ একুশের ভোটের আগে একটি নির্বাচন কমিটি গড়ে দেবে দিল্লি। যে কমিটিতে দিলীপ ঘোষ, অমিতাভ চক্রবর্তীরা যেমন থাকবেন, তেমনই থাকবেন মুকুল রায়, কৈলাস বিজয়বর্গীয়, শিব প্রকাশ, অরবিন্দ মেনন, সৌমিত্র খাঁরা। সম্ভবত ওই কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন মুকুলবাবু।

এখন কৌতূহলের বিষয় হল, কে এই অমিতাভ চক্রবর্তী?

অমিতাভ চক্রবর্তী

অমিতাভ বিদ্যার্থী পরিষদের দীর্ঘ দিনের নেতা। সংগঠনে দেবশ্রী চৌধুরীর সমসাময়িক তিনি। অনেকে বলেন, প্রয়াত সঙ্ঘ নেতা তথা হিন্দু সংহতির প্রতিষ্ঠাতা তপন ঘোষের হাতে তৈরি নেতা হলেন অমিতাভ। তা ছাড়া প্রাক্তন সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক অমল চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে অত্যন্ত ভাল তালমিল ছিল অমিতাভর। বিদ্যার্থী পরিষদে পূর্বাঞ্চলের সংগঠন সম্পাদক ছিলেন তিনি। রাজ্য বিজেপিতে অনেকে বলেন, কয়েক বছর আগেই তাঁর সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দিলীপ ঘোষরাই তা আটকে রেখেছিলেন।

নাড্ডা আসছেন বাংলায়

পুজোর ঠিক আগে উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে কর্মিসভা করেছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। বুধবার জানা গিয়েছে, ফের বাংলা সফরে আসছেন জে পি নাড্ডা। ৬ নভেম্বর ২ দিনের বাংলা সফরে আসছেন তিনি। ওই দিন বর্ধমানে বৈঠক করবেন তিনি। তা ছাড়া বীরভূম, পূর্ব বর্ধমান, আসানসোল, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ার সাংগঠনিক জেলার সঙ্গে বৈঠকে হবে তাঁর। ৭ তারিখ জঙ্গলমহল এলাকার সঙ্গে নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন বিজেপি সভাপতি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More