শুক্রবার, আগস্ট ২৩

বসিরহাট পুরসভায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনল তৃণমূলই

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অন্য সব জায়গায় বিজেপি-র সঙ্গে দ্বৈরথ চলছে তৃণমূলের। কিন্তু বসিরহাটে অন্য ছবি। পুরসভার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনল তৃণমূলেরই ১২ জন কাউন্সিলর। তাঁদের দাবি, সারা রাজ্যে যখন উন্নয়নের জোয়ার বইছে, তখন চেয়ারম্যানের গাফিলতিতেই বসিরহাটের উন্নয়ন স্তব্ধ হয়ে রয়েছে। সোমবার এই ১২ জন কাউন্সিলর মহকুমা শাসকের কাছে গিয়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেন।

চেয়ারম্যান তপন সরকার বলেন, “দল যা সিদ্ধান্ত নেবে মাথা পেতে নেব।”

২০ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর পরিমল মজুমদার বলেন,  “দলীয় নেত্রীর আদর্শকে সামনে রেখে দল করি। তিনি যখন বাংলা জুড়ে উন্নয়ন করে চলেছেন, সেই সময়ে পুর প্রধানের জন্য বসিরহাট পুরসভার উন্নয়ন থমকে আছে গত তিন বছর ধরে। টাউন হল এবং রবীন্দ্র ভবন বন্ধ রাখায় সংস্কৃতি প্রেমী বসিরহাটের মানুষ অনুষ্ঠান করার ক্ষেত্রে অসুবিধার মধ্যে পড়েছেন। এই পুরপ্রধানের অবহেলার কারণে বসিরহাট পুর এলাকায় উন্নয়ন স্তব্ধ হয়ে রয়েছে।” তাঁর আরও অভিযোগ, তাঁদের মতামত নিয়ে কাজ করেন না চেয়ারম্যান। তিনি থাকলে বসিরহাটের উন্নয়ন কিছুতেই সম্ভব নয়।

বসিরহাট পুরসভার মোট ২৩টি ওয়ার্ড। ২০১৫ সালে পুর নির্বাচনে তৃণমূল ১৩, কংগ্রেস ৫, বিজেপি ৩  এবং সিপিএম ২টি আসনে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে কংগ্রেসের অসিত মজুমদার ও অবিনাশ নাথ এবং বিজেপির সোনা নন্দী সহ তিন জন যোগ দিলে তৃণমূলের কাউন্সিলর সংখ্যা বেড়ে ১৬ হয়।

অনাস্থা আনা তৃণমূল কাউন্সিলরদের বক্তব্য, যদি এক্ষুণি নতুন পুরপ্রধান নিয়োগ না করা হয়, তাহলে সামনের বছরের পুরসভা ভোটে দলকে বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হবে। এমনিতে বসিরহাট লোকসভা তৃণমূল জিতলেও, পুর এলাকায় এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। তৃণমূলেরে কাউন্সিলরদের বক্তব্য, চেয়ারম্যানের কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। এই অনাস্থা নিয়ে এ বার নতুন সংকটে উত্তর চব্বিশ পরগনা তৃণমূল।

Comments are closed.