গ্রাহকের অজান্তে ব্যাঙ্কের লকার থেকে উধাও সোনার গয়না, মাথায় হাত বর্ধমানের সামন্ত পরিবারের

৭১

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গ্রাহকের অজান্তে খোলা হল ব্যাঙ্কের লকার। উধাও ৬০ থেকে ৭০ ভরি সোনার গয়না। বর্ধমান শহরের এমন ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। কারা কীভাবে এমন কাণ্ড ঘটাল সে ব্যাপারে এখনও স্পষ্ট ভাবে কিছু জানতে পারেনি পুলিশ। শুরু হয়েছে তদন্ত। জানা গিয়েছে, বর্ধমান শহরের বাদামতলা এলাকায় একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে ঘটেছে এই কাণ্ড। ব্যাঙ্কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। একাংশের মতে ব্যাঙ্কেরই কেউ এ কাজে যুক্ত। নইলে সকলের চোখের আড়ালে এমন কাণ্ড ঘটতে পারে না বলেই মত স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকের।

ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় বর্ধমান থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। যে পরিবারের গয়না খোয়া গিয়েছে তারাও অভিযোগ দায়ের করেছে থানায়। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ওই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। পুলিশ সূত্রে খবর, বর্ধমান শহরের বনমসজিদ পাড়ার বাসিন্দা পবিত্র সামন্ত দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যাঙ্কের গ্রাহক। প্রায় ৪০ বছর ধরে তাদের পরিবারের সমস্ত মূল্যবান সোনার গয়না রাখা ছিল এই ব্যাঙ্কের লকারে। সামন্ত পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে বছর দুয়েক শেষবার লকার খুলেছিল তারা। তারপর পরিবারের আর কোনও সদস্যই ব্যাঙ্কে গিয়ে লকার খোলেননি।

এদিকে সামন্ত পরিবারের কর্তা পবিত্রবাবু পুলিশকে জানিয়েছেন, গত শনিবার বেলা পৌনে বারোটা নাগাদ তাঁদের বাড়িতে দু’জন এসেছিলেন। সেই সময় বাড়িতে ছিলেন না পবিত্রবাবু। ওই দুই ব্যক্তির সঙ্গে কথা হয় তাঁর পুত্রবধূর। পুলিশকে ওই মহিলা জানিয়েছেন, দুই ব্যক্তি নিজেদের নির্দিষ্ট ব্যঙ্কের কর্মী বলে পরিচয় দেন। তারপর একটি চিঠি দেন তাঁকে। এমনকি মহিলা যে চিঠি পেয়েছেন সে কথা সইসাবুদ করে মহিলাকে দিয়ে লিখিয়েও নেন ওই দুই ব্যক্তি। তবে সইয়ের পর তারিখ দিতে বারণ করেন তাঁরা। পবিত্রবাবু বাড়ি ফিরলে তাঁকে সব জানান পুত্রবধূ। ব্যাঙ্কের থেকে আসা চিঠি পড়ে পবিত্রবাবু জানতে পারেন লকারের ব্যাপারে আলোচনার জন্য তাঁকে ডেকে পাঠিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তখনই ব্যাঙ্কে ছোটেন পবিত্র সামন্ত।

ব্যাঙ্কে যাওয়ার পর ম্যানেজার তাঁকে জানান যে লকার খোলা রয়েছে এবং উধাও সমস্ত সোনার গয়না। কীভাবে এমন ঘটল তা জানতে চাওয়ায় কোনও সদুত্তর দিতে পারেনি ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। পারিবারিক সোনা খুইয়ে কার্যত মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে পবিত্রবাবু। সামন্ত পরিবারের অভিযোগ, এ কাজে ব্যাঙ্কেরই কেউ যুক্ত রয়েছেন। নইলে এমন কাজ হওয়া সম্ভব নয়। ঘটানার যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন পবিত্র সামন্ত। তাঁর কথায়, “লকারের চাবি আমাদের কাছেই ছিল। গত ২ বছরের মধ্যে এক বারও লকার খোলা হয়নি। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষও কিছু জানায়নি আমাদের। আমার দৃঢ় বিশ্বাস ব্যাঙ্কের লকারে রাখা সোনা ব্যাঙ্কের কর্মীরা ছাড়া আর কেউ সরাতে পারে না।” ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সামন্ত পরিবারের পাশাপাশি ব্যাঙ্ক কর্মীদেরকেও জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More