সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৩

তৃণমূলের ডাকা বনধে থমথমে ব্যান্ডেল-চুঁচুড়া, সিবিআই তদন্তের দাবি নিহতের স্ত্রীর

দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: ব্যান্ডেলে তৃণমূল নেতা দিলীপ রাম খুনের ঘটনায় রবিবার চুঁচুড়া বিধানসভা এলাকায় বনধ চলছে শাসক দলের ডাকে। রবিবার সকাল থেকে ব্যান্ডেল ও চুঁচুড়ায় অধিকাংশ দোকান বন্ধ। ব্যান্ডেল বাজার, বালির মোড়, চকবাজার, রবীন্দ্রনগর বাজার ও খড়ুয়া বাজার খোলেনি। মাছ থেকে সবজি বাজার বন্ধ। দু-একটি জায়গায় চায়ের দোকান খোলা রয়েছে। গতকাল থেকে চুঁচুড়া বনধের কথা প্রচার করছিল তৃণমূল কংগ্রেস। চুঁচুড়া প্রধান বাসস্ট্যান্ড থেকে কোনও দূরপাল্লার বাস বা ট্রেকার ছাড়েনি। বিক্ষিপ্তভাবে কিছু টোটো বা অটো চলছে।

এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১ জনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, দিলীপ রামকে খুন করার জন্য রীতিমতো রেইকি করা হয়েছিল। কয়েকদিন আগে ঝাড়খণ্ড থেকে ফোনে খুনে হুমকি দেওয়া হয় দিলীপ রামকে। ফলে মনে করা হচ্ছে ঘটনার পেছনে ভিন রাজ্যের দুষ্কৃতীদের যোগাযোগ থাকতে পারে।

শনিবার সকাল নটা নাগাদ গুলি করে খুন করা হয় ব্যান্ডেলের দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী দিলীপ রামকে। তৃণমূল সকাল থেকেই অভিযোগ করেছে, এই খুনের পিছনে বিজেপি-র হাত রয়েছে। পাল্টা হুগলির বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, “কাটমানির বখরা নিয়েই এই খুনের ঘটনা ঘটেছে। সবটাই তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব।” এর মধ্যেই খুনের ঘটনায় নাম জড়িয়েছে ব্যান্ডেলের কুখ্যাত দুষ্কৃতী লালা পাসোয়ানের ভাই বিজু পাসোয়ানের। লালা আপাতত জেলে রয়েছেন। তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ, দিলীপকে খুন করতে বিজুকেই ব্যবহার করেছে বিজেপি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে লালাদের সঙ্গে দিলীপদের একটা পুরনো বিবাদ রয়েছে। তবে সেটা রাজনৈতিক নয়। বিজেপি-র আরএক নেতা সুবীর নাগ আবার বলেছেন, “আমি শুনেছি অন্য রাজনৈতিক নেতাদের মতো দিলীপও বিজেপি-র উপরের সারির নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছিলেন।”

এ দিন নিহত নেতার স্ত্রী তথা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ঋতু সিং এই খুনের ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এ দিনও চন্দননগর কমিশনারেটের কয়েকজন পদস্থ কর্তা ঋতুর সঙ্গে কথা বলতে যান। এলাকার মানুষের সঙ্গেও কথা বলেন। তাঁরাও পুলিশ কর্তাদের কাছে দাবি জানিয়েছেন, দ্রুত অপরাধীকে গ্রেফতার করা হোক।

Comments are closed.