বুধবার, মার্চ ২০

তিন মহিলা খুন: বহরমপুরের সেই জ্যোতিষীর যাবজ্জীবন জেলের সাজা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নৃশংস ভাবে তিন মহিলাকে খুন করেছিলেন পরিবারের পূর্ব পরিচিত জ্যোতিষী। সাজা ঘোষণা হতে লাগলো প্রায় পাঁচ বছর। অবশেষে কিনারা হলো বহরমপুরের আশাবরী আবাসনের খুনের ঘটনার।

২০১৪ সালের ৬ জানুয়ারি বহরমপুরের কাদাইয়ের আশাবরী আবাসনে খুন হয়েছিলেন একই পরিবারের তিন মহিলা। এই খুনের ঘটনায় জড়িত ছিলেন ওই পরিবারেরই পরিচিত জ্যোতিষী নিত্যানন্দ দাস। ঘটনার কদিন পরেই শিলিগুড়ি থেকে সস্ত্রীক (দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী) গ্রেফতার হয়েছিলেন নিত্যানন্দ। এরপর পাঁচ বছর ধরে চলে মামলা। অবশেষে ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদ জেলা দায়রা আদালত দোষী সাব্যস্ত করেছিল অভিযুক্ত জ্যোতিষীকে। শুক্রবার ছিল সাজা ঘোষণার পালা। এ দিন দোষীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং যাবজ্জীবনের সাজা শুনিয়েছেন বিচারক পার্থসারথী চ্যাটার্জী।

বন্ধ ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছিল প্রভা দাস (৭১), বিজয়া বসু (৪৮) এবং আত্রেয়ী বসু (১৮)-র দেহ। প্রায় দু’দিন মৃত অবস্থায় পড়েছিলেন এই তিনজন। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছিল, শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছিল এই তিনজনকে। ঘটনার তদন্তে নামে বহরমপুর থানার পুলিশ।

খুনের ঘটনায় প্রথমে অবশ্য বিজয়াদেবীর স্বামীর দিকেই অভিযোগের আঙুল তোলেন বিজয়াদেবীর দিদি। পুলিশ আটকও করে দেবাশিস বসুকে। কিন্তু খুনের সঙ্গে তাঁর জড়িত থানার প্রমাণ মেলেনি। বরং তাঁর কথা থেকে বেশ কিছু যোগসূত্র পায় পুলিশ। জ্যোতিষীর প্রতি পরিবারের দুর্বলতার কথাও দেবাশিসের থেকেই জানতে পারা যায়। দেবাশিস জানান, বিজয়া তাঁকে বলেছিলেন কালসর্প যোগ কাটানোর জন্যই নাকি নিত্যানন্দর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন তাঁরা।

এরপরেই মৃতদের ফোনের কললিস্ট ঘেঁটে গ্রেফতার করা হয় নিত্যানন্দ দাসকে। জেরায় দোষ স্বীকার করে অভিযুক্ত। পুলিশ জানায়, তিন মহিলাকে মারার আগে মদ্যপান করিয়েছিল ওই জ্যোতিষী। তারপর আত্রেয়ীকে নগ্ন এবং বিজয়াদেবীকে অর্ধনগ্ন করে বেশ খানিকক্ষণ চলে যজ্ঞ ও তন্ত্রসাধনা। এরপর নেশা মাত্রা ছাড়াতেই তিনজনকে শ্বাসরোধ করে খুন করে নিত্যানন্দ।

Shares

Comments are closed.