বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭

দিদির ভাইদের বাঁচাচ্ছেন ‘আইপিএস-আর কে’, তাই কি দিদি চুপ: তীব্র খোঁচা বাবুলের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিটফান্ড তদন্তে শনিবার সল্টলেকে সিজিও কমপ্লেক্সে সিবিআই দফতরে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের। কিন্তু তিনি এ দিনও জেরা এড়িয়ে যাওয়ার পর রাজনৈতিক আক্রমণে নেমে পড়ল বিজেপি।

বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, “রাজীব কুমার পালিয়ে যাবেন কোথায়? চিদম্বরমকেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তিনি এখন কোথায় আছেন? রাজীব কুমার ও তাঁকে যাঁরা সাহায্য করছেন কেউই পার পাবেন না”।

রাজীবের নাম স্পষ্ট করে মুখে আনেনি কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী তথা আসানসোলের বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়ও। তবে তিনি খোঁচা দিয়ে বলেন, “আজ সিএম দিদি কোথায়? যে পুলিশ অফিসারকে বাঁচাতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমস্ত গরিমার বিসর্জন দিয়ে আইপিএস-আর কে-র বাড়ির বাইরে ধর্নায় বসেছিলেন, তিনি কি দেখতে পাচ্ছেন না যে তাঁর সেই পছন্দের অফিসারই আইনের থেকে পালাচ্ছেন!”

এখানেই থামেননি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলার যে কুড়ি লক্ষ মানুষের চল্লিশ হাজার কোটি টাকা সারদা-রোজভ্যালি কাণ্ডে ডুবেছে, তাদের সুবিচার দেওয়ার জন্য কেন ধর্নায় বসছেন না তিনি? কারণ, দিদির ভাইদের বাঁচিয়েছেন আইপিএস-আর কে।

প্রসঙ্গত, লোকসভা ভোটের আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি সিবিআই অফিসাররা যখন তৎকালীন কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাড়িতে হানা দিয়েছিলেন তখন বাধা দিয়েছিল পুলিশ। পরে রাজীবের বাড়ি চলে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে বেরিয়ে ধর্মতলায় ধর্নায় বসে পড়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সে ঘটনার দু’দিন পর রাজীব কুমারকে রক্ষাকবচ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছিল, সিবিআই ডাকলে হাজিরা দিতে হবে রাজীবকে, কিন্তু তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না। সুপ্রিম কোর্টের সেই রায়কে নৈতিক জয় বলে জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

কিন্তু গতকাল হাইকোর্ট যে ভাষায় রাজীবের বিরুদ্ধে দিয়েছেন, তার পর তৃণমূলের নৈতিক জয় উবে গিয়েছে বলেই মনে করছেন বিরোধীরা। হাইকোর্ট পষ্টাপষ্টি বলেছে, রাজীব স্পেশাল ট্রিটমেন্ট পেতে পারেন না। কেউই আইনের উর্ধ্বে নয়। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে হেফাজতেও নেওয়া যেতে পারে। হাইকোর্টের ওই রায়ের পরই আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়িয়েছে বিজেপি।

Comments are closed.