‘সারা বছর খয়রাতি! অথচ কলকাতা পুরসভার কাছে গাছ কাটার ইলেকট্রিক করাত নেই’, মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা বাবুলের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুর্যোগ সামলানোর অপর্যাপ্ত পরিকাঠামো নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ করে তীব্র সমালোচনা করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। এ ব্যাপারে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র তথা রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্যকেই প্রমাণ হিসাবে ব্যবহার করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

    উমফানের ধাক্কায় শহরে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার গাছ উপড়ে পড়ে গিয়েছে। ভেঙে পড়েছে কয়েকশো বিদ্যুতের খুঁটি এবং লাইট পোস্ট। রবিবার সন্ধে পর্যন্ত বেশ কিছু জায়গায় গাছের গুড়ি পড়ে রয়েছে বলে খবর। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাধ্য হয়ে সেনা নামাতে হয়েছে।

    এ হেন পরিস্থিতিতে একটি টেলিভিশন চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা সুব্রতবাবু বলেছেন, “আমি বিদেশে দেখেছি মোটা মোটা গাছের গুড়ি ব্লেডের মতো যন্ত্র দিয়ে কেটে দিচ্ছে। এখানে সেসব নেই।” শুধু তাই নয়। সুব্রতবাবু আরও বলেন, “আমার বাড়ির সামনে তো দেখলাম কুড়ুল দিয়ে গাছ কাটা হচ্ছে!” তাতে স্বাভাবিক ভাবেই যে সময় লাগবে সেই ইঙ্গিতই করেছেন প্রাক্তন মেয়র।
    সুব্রতবাবুর ওই বক্তব্যকে হাতিয়ার করেই মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে আসানসোলের সাংসদ বলেছেন, “কোটি কোটি টাকার খয়রাতি করেন সারা বছর অথচ কলকাতা কর্পোরেশনের হাতে গাছ কাটার ইলেকট্রিক করাত নেই!”

    প্রসঙ্গত, কলকাতার আরএক প্রাক্তন মেয়র তথা খাতায় কলমে বিজেপিতে থাকা শোভন চট্টোপাধ্যায়ও পুরসভার কাজের তীব্র সমালোচনা করেছেন। গতকাল, শনিবার দুপুরে তিনি বলেছিলেন, কলকাতা কর্পোরেশনের কাজ যাঁরা পরিচালনা করেন তাঁদের মধ্যে কোনও সমন্বয় নেই। যার ফলে এই ভোগান্তি!

    গতকাল, শনিবার বিকেলে নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বিরোধীদের উদ্দেশে বলেছিলেন, “হাত জোড় করছি! এখন কদিন সমালোচনা বন্ধ রাখুন। কাজটা করতে দিন! ভোটের সময়ে না হয় আমায় হারিয়ে দেবেন। পছন্দ না হলে গুলি করে দেবেন! কিন্তু এখন প্লিজ কাজটা করতে দিন।” তবে পুরসভার কাছে যে গোড়ায় সন্তোষজনক ছিল না তাও স্বীকার করেছেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই। তিনি বলেছেন, সব রকম ভাবে আমি চেষ্টা করছি। পুরসভার কমিশনার পদ থেকে খলিল আহমেদকেও সরানো হয়েছে। নতুন কমিশনার এসেছেন। তাঁর বাড়িতে স্বজন বিয়োগ হয়েছে সম্প্রতি। তাও তিনি দিন রাত কাজ করছেন।

    কিন্তু বিরোধীরা সেই যুক্তি শুনতে চাইছেন না। উল্টে অতীতে আয়লার সময়ে তৃণমূলনেত্রীর কী ভূমিকা ছিল সেই প্রসঙ্গ টেনে আনতে শুরু করেছেন বিজেপি ও বাম নেতারা। ঘূর্ণিঝড় সামলানোর প্রস্তুতি নিয়ে ওড়িশার সঙ্গে বাংলার তুলনা টানছেন। আর তার মাধ্যমে ক্রমাগত চাপ বাড়াতে চাইছেন প্রশাসনের উপরে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More