লকডাউনের সময় মদের আসর বসানোর প্রতিবাদ, আসানসোলে প্রহৃত যুবক

অভিযুক্তদের গ্রেফতারি চান এলাকার বাসিন্দারা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: আসানসোলের উত্তর হিলভিউতে লকডাউন চলাকালীন পাড়ার মাঠে জমায়েত দেখে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে মত্ত যুবকদের হাতে প্রহৃত হলেন এক প্রতিবাদী যুবক। আক্রান্ত যুবকের নাম সোমেশ্বর মজুমদার। আসানসোল জেলা হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা করা হয়েছে।

    সোমেশ্বর জানিয়েছেন যে আসানসোল দক্ষিণ থানার উত্তর হিলভিউ এলাকায় একটি মাঠে এলাকার বেশ কয়েক জন যুবক নেশা করছিল ও আড্ডা দিচ্ছিল। তিনি বলেন, “আমি এই দৃশ্য দেখে তাদের জমায়েত করতে নিষেধ করি। আমি নিষেধ করার পরেই আমার বাড়ির সামনে এসে ওই যুবকরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। আমার মা ও বাবাকে গালাগালি করে এবং তাঁদের গায়েও হাত দেয়। আমি বেরোতেই আমাকে তারা মারধর করে। ইঁট দিয়ে আমার মাথা ফাটিয়ে দেয় ওই মদ্যপ যুবকরা।”

    তিনি জানিয়েছেন যে ওই যুবকরা পাড়ার মাঠে নিয়মিত ভাবেই মদের আসর বসায় ও গাঁজা খায়। এজন্য পাড়ায় বসবাস করাই মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। মহিলারাও আতঙ্কে থাকেন। এখন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে দেশজোড়া লকডাউন চলছে। ওই যুবকরা তাও মানছে না। সেই কারণেই তিনি বারণ করেন। দেশের প্রধানমন্ত্রী বলছেন জমায়েত না করতে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও একই কথা বলছেন। তিনি বলেন, “ওরা আমার মা ও বাবাকে ঠেলে সরিয়ে দেয়। তাঁদের গায়েও হাত তোলে। ওরা বলে ‘আমরা প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রী কাউকেই মানি না।’ করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে তো আমিও আক্রান্ত হতে পারি। আমি চাই পুলিশ ওদের গ্রেফতার করে উপযুক্ত শাস্তি দিক।”

    প্রথমে বাড়ি থেকে চিৎকার করেই তাদের নিষেধ করেছিলেন সোমেশ্বর। পরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে দরজার সামনে দাঁড়িয়েই ওই যুবকদের মদখাওয়া ও জমায়েত হওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। তখন তারা তেড়ে আসে।

    এই ঘটনার পরে এলাকার লোকজন বেরিয়ে পড়লে যুবকরা পালিয়ে যায়। প্রতিবেশীরাই সোমেশ্বর মজুমদারকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর চিকিৎসা হয়।

    এই ঘটনার পরে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে আসানসোল দক্ষিণ থানায়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এলাকার লোকজন চাইছেন অবিলম্বে পুলিশ দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক।

    গত কয়েকদিন ধরে পূর্ব মেদিনীপুরে পুলিশকে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকায় দেখা গেছে। পুলিশের দাপটে এলাকায় দুষ্কর্ম প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানাচ্ছেন জেলার লোকজনই। জলপাইগুড়িতে নিয়ম ভাঙলে পুলিশ লাঠিপেটা করছে। আসানসোলের লোকজন চাইছেন এখানেও পুলিশ সেইভাবে সক্রিয় হোক।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More