শনিবার, ডিসেম্বর ১৫

সঙ্ঘ থেকে এ বার বঙ্গে, কৈলাসের কুর্সিতে অরবিন্দ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বঙ্গ বিজেপি-র পর্যবেক্ষক হিসেবে কৈলাস বিজয়বর্গীয়র সঙ্গে আরও একটি নাম জুড়ে দিল দিল্লি। দিলীপ ঘোষ, মুকুল রায়, সায়ন্তন বসুদের পরিচালনার দায়িত্বে এ বার শুধু একা কৈলাস নন। সঙ্গে থাকবেন দীর্ঘদিনের সঙ্ঘ প্রচারক অরবিন্দ মেনন। কার্যত বাংলা বিজেপি-র কন্ট্রোল প্রায় পুরোপুরি চলে গেল আরএসএস-এর হাতে।

অনেকদিন ধরেই কৈলাসের জায়গায় বাংলা বিজেপি-র দায়িত্বে অরবিন্দকে নিয়ে আসার কথা চলছিল নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহদের অন্দর মহলে। কিন্তু সরাসরি দায়িত্ব বদল করতে চাইছিলেন না কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্ব।

এর মধ্যেই দোরগোড়ায় এসে পড়েছে মধ্যপ্রদেশের নির্বাচন। পাঁচ রাজ্যের ভোটের দিনক্ষণও ঘোষণা করে দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ভোট বৈতরণী পার হতে তাই মধ্যপ্রদেশের নির্বাচনী কাজ সামলাতে সেখানে পাঠানো হচ্ছে কৈলাস বিজয়বর্গীয়কে। যেহেতু সেখানকার ভোটের কাজ পরিচালনার জন্য তাঁকে সেখানে পাঠানো হচ্ছে, তাই এই সময়ে বাংলা বিজেপি-র সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকবেন অরবিন্দ। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কলকাতার এলগিন রোডে এক নেতার বাড়িতে রাজ্য বিজেপি-র শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বসেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়, অরবিন্দ মেনন।

কেন্দ্রীয় বিজেপি-র কাছে পাঁচ রাজ্যের ভোট কার্যত উনিশের লোকসভার সেমিফাইনাল। অনেকের মতে, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগঢ় এবং রাজস্থান, গোবলয়ের এই তিন রাজ্যের ফলাফল দেখেই দেওয়াল লিখন স্পষ্ট হয়ে যাবে উনিশের ভোটের। গত ১৫ বছর ধরে মধ্যপ্রদেশে গেরুয়া শাসন চলছে। এ বার তাই ব্যাপক প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার হাওয়ায় কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে মধ্যপ্রদেশের বিজেপি। ফলে নির্বাচনী সংগঠনের ম্যানেজমেন্টের কাজ পরিচালনার জন্য ডাক পড়েছে সেই রাজ্যেরই ভূমিপুত্র কৈলাস বিজয়বর্গীয়র। একদা মধ্যপ্রদেশের শিল্পমন্ত্রী ছিলেন কৈলাস। অনেকের মতে, তাঁর সঙ্গে ওই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের বিশেষ বনিবনা হতো না বলে, দল তাঁকে সরকারের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে সংগঠনের সর্বভারতীয় স্তরে নিয়ে যায়। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাঁকে। বঙ্গ বিজেপির-র পর্যবেক্ষক থাকাকালীন সিদ্ধার্থনাথ সিং উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী হওয়ার পর কৈলাসকে বাংলার দায়িত্ব দেন অমিত শাহ। কিন্তু এখন মধ্যপ্রদেশের সংগঠন সামলাতে তাঁকেই দরকার বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় বিজেপি।

দ্য ওয়াল পুজো ম্যাগাজিন ১৪২৫ পড়তে ক্লিক করুন

কেন?

কৈলাস দীর্ঘদিনের ওই রাজ্যের বিজেপি নেতা। ইন্দোর, উজ্বয়িনীর মতো রাজ্যের একটা বড় অংশের সংগঠনে দাপট রয়েছে তাঁর। আর সেটাকেই ভোটের আগে ব্যবহার করতে চাইছেন মোদী-শাহরা।

বিজেপি-র একটি অংশের মতে, কৈলাসের সঙ্গে যাঁকে বাংলা বিজেপি-র দায়িত্ব দেওয়া হলো সেই অরবিন্দ মেননও পোড় খাওয়া সংগঠক। আরএসএস থেকেই উত্থান তাঁর। অমিত শাহেরও অন্যতম ঘনিষ্ঠ এই নেতা। সেই সঙ্গে বিজেপি-র একটি অংশের মতে, কৈলাসের সঙ্গে অরবিন্দের সম্পর্ক খুব একটা ভাল নয়। অরবিন্দ সঙ্ঘ প্রচারকের দায়িত্ব সামলানোর পর দীর্ঘদিন মধ্যপ্রদেশের সংগঠনের দায়িত্বে ছিলেন। মালায়লি হলেও স্পষ্ট বলতে পারেন বাংলা। পর্যবেক্ষকদের মতে, কৈলাসকে সরাসরি দায়িত্ব থেকে না সরিয়ে কৌশলে বাংলার দায়িত্বে অরবিন্দকে নিয়ে এলেন বিজেপি নেতারা।

উনিশের ভোটের জন্য বিজেপি-র এ বারের টার্গেট পূর্ব এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলি। তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাংলা। অমিত শাহ এসেও বাংলার নেতাদের বিয়াল্লিশে বাইশটি আসনের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছেন। আর পুজোর পর থেকেই সারা দেশের সঙ্গে বাংলাতেও মোটামুটি ভোট বাজার গরম হতে শুরু করবে। সেই সময় বঙ্গ বিজেপি-র নতুন ম্যানেজার মেনন ঠিক কী কী সাংগঠনিক পদক্ষেপ এবং কর্মসূচি নেন বাংলায় সেটাই এখন দেখার।

Shares

Comments are closed.