দিল্লি থেকে ডোমকলে আনা হল ধৃত আলকায়দা অপারেটিভকে, তল্লাশি তার বাড়িতে

২৮

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ১৯ সেপ্টেম্বর মুর্শিদাবাদের ডোমকল থেকে গ্রেফতার হয়েছিল আলকায়দা জঙ্গি লিউয়ান আহমেদ। গতকাল রাতে দিল্লি থেকে ডোমকলে নিয়ে আসা হয়েছে এই জঙ্গিকে। গত ১৯ তারিখ যে বাড়ি থেকে এই জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল আজ সকালেই সেখানেই নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সরেজমিনে খতিয়ে দেখা হয় বাড়ির সমস্ত জিনিস। পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি ছিল লিউয়ান আহমেদ। তার ঘর দেখে বেশ কিছু ইলেকট্রিক ডিভাইস, সার্কিট এবং নথিপত্র এদিন উদ্ধার করেছেন এনআইএ-র তদন্তকারী আধিকারিকরা। আজকের অভিযানে এএনআই-এর তদন্তকারীদের পাশাপাশি ছিল বিএসএফ এবং স্থানীয় থানার পুলিশ।

সূত্রের খবর, মুর্শিদাবাদ থেকে ধৃত বাকি ৫ জঙ্গিকেও একে একে নিয়ে আসা হবে তাদের বাড়িতে, বা যেখান থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল সেখানে। তারপর তাদের ডেরা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি তাদের জেরা করে যাদের নাম পাওয়া গিয়েছে তাদের খোঁজেও চলবে তল্লাশি অভিযান।

লিউয়ান আহমেদকে জেরা করে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনের নাম পেয়েছেন তদন্তকারীরা। এদের মধ্যে অনেকেই মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা। তাদের খোঁজেও আজ সকাল থেকে তল্লাশি চলছে জেলার বিভিন্ন জায়গায়। স্থানীয় সূত্রে খবর, এদিন ডোমকল কলেজের পার্শ্ববর্তী এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালান এনআইএ-র আধিকারিকরা। সেখান থেকে বেশ কিছু নথিপত্র উদ্ধার হয়েছে বলে খবর। জানা গিয়েছে, এরপর জলঙ্গিতে বিএসএফ ক্যাম্পের সংলগ্ন এলাকাতেও তল্লাশি চালিয়েছেন তদন্তকারীরা। চৌরঙ্গী এলাকাতেও চলেছে অভিযান। লিউয়ানকে জেরা করে যাদের নাম পাওয়া গিয়েছে তাদের খোঁজে আজ রাতে মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন এলাকায় এএনআই তল্লাশি অভিযান চালাবে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে।

উল্লেখ্য এখনও পর্যন্ত মত ১০ জন আলকায়দা জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে এনআইএ। এদের মধ্যে মোট ৯ জন আলকায়দা অপারেটিভকে গত ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি, ডোমকল এবং রানিনগর ও কেরলের এর্নাকুলাম থেকে  গ্রেফতার করেছিল এনআইএ। কেরল থেকে ধৃত ৩ জঙ্গিও আদতে মুর্শিদাবাদেরই বাসিন্দা বলে জানা যায়। এরপর গত ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার, অর্থাৎ প্রথম অভিযানের এক সপ্তাহের মাথায় ১০ নম্বর জঙ্গিকে গ্রেফতার করে এনআইএ। মুর্শিদাবাদ পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের সহায়তায় এই আলকায়দা অপারেটিভকে পাকড়াও করা হয়।

এ যাবৎ গ্রেফতার হওয়া জঙ্গিদের থেকে উদ্ধার করা অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র, প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক এবং সেসব তৈরির বইপত্র, জেহাদি নথিপত্র এসব খতিয়ে দেখার পর প্রাথমিক তদন্তে এনআইএ-র অনুমান, বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে বড়সড় আত্মঘাতী হামলার ছক কষছিল এই জঙ্গিরা। নিজেদের মানব বোমা হিসেবে ব্যবহার করাই ছিল এদের লক্ষ্য। মূলত, মুর্শিদাবাদকে কেন্দ্র করে বাংলায় আলকায়দার ঘাঁটি বিস্তারের পরিকল্পনা করেছিল জঙ্গিরা। পাশাপাশি বাংলায় বসে রাজধানী শহর দিল্লিতেও বড় হামলার ছক কষেছিল তারা। দিল্লি ছাড়াও জঙ্গিদের নিশানায় ছিল মুম্বই, কোচি ও অন্যান্য বড় এবং ঘনবসতিপূর্ণ শহর।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More