মঙ্গলবার, জুন ২৫

ভাটপাড়ার বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা অর্জুনের

দ্য ওয়াল ব্যুরো : তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে সব সম্পর্ক চুকিয়ে দিলেন ব্যারাকপুর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং। শুক্রবার দুপুরে বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে গিয়ে ভাটপাড়ার বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেন শিল্পাঞ্চলের ‘স্ট্রং ম্যান’। ইস্তফা দিয়ে বেরিয়ে অর্জুন নিজের জয়ের ব্যাপারে দুশো শতাংশ গ্যারান্টি দিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “আগামী ছ’মাসের মধ্যে বিধানসভাতেও ভাটপাড়ার মানুষ ভারতীয় জনতা পার্টির নতুন প্রতিনিধি পাঠাবে।”

২০০৬ সাল থেকে অর্জুন ভাটপাড়ার বিধায়ক। সিপিএমের প্রবল দাপটের সময়েই তড়িৎ তোপদার, রঞ্জিত কুণ্ডুদের খাসতালুকে জোড়া ফুল ফুটিয়েছিলেন অর্জুন। যেহেতু তিনি দল পাল্টেছেন, তাই নিয়মানুযায়ী তাঁকে ইস্তফা দিতেই হত। এ দিন সেই আইনি কাজটিই সেরে ফেলেন ব্যারাকপুর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী।

বিধায়কের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি অর্জুন ছিলেন ভাটপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যান। কিন্তু কয়েক দিন আগে সেখানে ধাক্কা খেতে হয় তাঁকে। আস্থা ভোটে নিজের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন অর্জুন। হেরে যান ১১-২২ ব্যবধানে। অপসারিত হতে হয় পুরপ্রধানের পদ থেকে। এ বারের ভোটে দিদির কাছে ব্যারাকপুরে টিকিট চেয়েছিলেন অর্জুন। কিন্তু তৃণমূল নেত্রী তৃতীয়বারের জন্য আস্থা রাখেন দীনেশ ত্রিবেদীর উপরেই। প্রাক্তন রেলমন্ত্রীকেই সেখানে প্রার্থী করে তৃণমূল। তারপর একদা তাঁর ‘রাইভাল’ মুকুল রায়ের সৌজন্যে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন তিনি। নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহরা প্রার্থীও করে দেন তাঁকে।

বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার পর তৃণমূল অর্জুনকে ছ’বছরের জন্য সাসপেন্ড করে। সেই সময় অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, তাহলে কি তৃণমূল অর্জুনকে ফিরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা জিইয়ে রাখল? তৃণমূল যুক্তি দিয়েছিল, অর্জুন বিধায়ক বলে তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক মহলের অনেকেই বলেছিলেন, শাসক দলের এই যুক্তি ধোপে টেকে না। কারণ, দু’মাস আগেই দলের দুই সাংসদ অনুপম হাজরা এবং সৌমিত্র খানকে বহিষ্কার করেছিল।

তৃণমূলের এক নেতা অবশ্য অর্জুনের বিধায়ক পদে ইস্তফা দেওয়া নিয়ে এ দিন বলেন, “পুরপ্রধান ছিলেন উনি। সেটা গিয়েছে। আজকে বিধায়ক পদটা গেল। ২৩ মে দীনেশ ত্রিবেদী জেতার পর অর্জুন বুঝবেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ছাড়া তৃণমূলের সবাই শূন্য। সে যত বড় নেতাই হোন না  কেন। ওঁকে আবার দিদির বাড়িতে গিয়েই কপাল ঠুকতে হবে।

Comments are closed.