#Breaking: অর্জুন নিজেই হিংসার নায়ক ব্যারাকপুরে: জ্ঞানবন্ত সিং

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার মাথা ফাটার পর রক্তাক্ত শরীরেই ভাটপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালের বেডে শুয়ে ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিং বলেছিলেন, “ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা আমায় খুন করতে চেয়েছিল। সব গণ্ডগোল হয়েছে পুলিশের জন্য।” চব্বিশ ঘণ্টা কাটল না। সোমবার নবান্নের বারান্দায় দাঁড়িয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে সরাসরি অর্জুনকেই ব্যারাকপুরের হিংসার নায়ক বললেন এডিজি আইনশৃঙ্খলা জ্ঞানবন্ত সিং। তিনি বলেন, “সকালে ফিডার রোডের গণ্ডগোলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন অর্জুন সিং-এর ছেলে তথা ভাটপাড়ার বিধায়ক পবন সিং। তারপর যা হিংসার ঘটনা ঘটেছে, সবটাই অর্জুনের নেতৃত্বে।”

    এ দিন ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার ও পুলিশ প্রশাসনের প্রশংসা করে জ্ঞানবন্ত বলেন, “পুলিশ যে ভাবে কাজ করেছে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছে। কোথাও দেখা যায়নি পুলিশ লাঠি চালাচ্ছে। কিন্তু সংবাদমাধ্যমে দেখা গিয়েছে, কারা পুলিশের উপর পাথর ছুড়ছে।” এরপর হুঁশিয়ারি দিয়ে এডিজি আইনশৃঙ্খলা বলেন, “ভিডিয়ো ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গ্রেফতার করা হবে।”

    সেই সঙ্গে রাজ্য পুলিশের অন্যতম শীর্ষ কর্তা বলেন, “গত দেড় মাস ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে কোনও অশান্তির ঘটনা ঘটেনি। এর পুরো কৃতিত্ব পুলিশের। কিন্তু কাল সকালে একটা ছোট ঘটনা নিয়ে লোকজনকে ক্ষেপিয়েছেন অর্জুন সিং এবং তাঁর ছেলে। তাঁদের জন্যই নতুন করে হিংসার ঘটনা ঘটেছে।” তবে পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে বলেও জানিয়েছেন জ্ঞানবন্ত।

    দীর্ঘ সাংবাদিক সম্মেলনে এডিজি এলও আরও বলেন, “ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার ভেবেছিলেন তিনি নিজে গিয়ে বললে অবরোধকারীরা উঠে যাবেন। কিন্তু তা তো হয়ইনি। সঙ্গে সঙ্গে ওরা বোমা ছুড়তে শুরু করে।” তাঁর দেওয়া হিসেব অনুযায়ী রবিবার তিনশোর মতো বোমা পড়েছে জগদ্দল এবং শ্যামনগরে। সোমবার বিজেপি-র ডাকে বনধ চলছে ব্যারাকপুরে। এ দিনও বেশ কিছু জায়গায় পুলিশ-বিজেপি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন বিজেপি কর্মী। যাঁদের মধ্যে আটজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। তবে জ্ঞানবন্ত বলেন, “এ দিন ছোটখাট কিছু ঘটনা ঘটেছে। এমনিতে পরিস্থিতি পুলিশের আয়ত্তের মধ্যেই আছে।”

    লোকসভার সাংসদের মাথা ফাটার পর তা নিয়ে সর্বভারতীয় স্তরে হইচই ফেলে দিয়েছে বিজেপি। মুকুল রায় নিজে গোটা ঘটনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে। বলেছেন, বাংলার পুলিশ রবিবারের ঘটনা ধামাচাপা দিতে চাইছে। দাবি করেছেন সিবিআই তদন্তের। সোমবার অর্জুনকে হাসপাতালে দেখতে যান রাজ্যপাল জগদীপ ধানকড়। বেরিয়ে এসে তিনি বলেন, “বাংলার রাজনৈতিক হিংসা দেখে আমার কষ্ট হচ্ছে।” যা পুলিশ প্রশাসনের উপর আরও বেশি চাপ তৈরি করে বলে মনে করছেন অনেকে। কিন্তু এ দিন দুপুরে রাজ্য পুলিশের তরফে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হল, যা গণ্ডগোল হয়েছে, তার মূলে সাংসদ অর্জুন সিং-ই।

    পুলিশের এ হেন দাবি নিয়ে বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু বলেন, “রবিবারের ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশের সবটা বেআব্রু হয়ে গেছে। এ পুলিশ টালিগঞ্জ থানায় ক্রিমিনালদের হাতে মার খায়। আর সাংসদকে মেরে মাথা ফাটিয়ে দেয়। গোটা দেশ দেখছে, বাংলার পুলিশ কেমন ভাবে আসলে তৃণমূলের চাকরবাকরে পরিণত হয়েছে।”

    আরও পড়ুন

    বাংলায় হিংসার পরিবেশ দেখে কষ্ট হচ্ছে, অর্জুনকে দেখে বেরিয়ে এসে বললেন রাজ্যপাল

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More