বুধবার, মার্চ ২০

অনুপম বিদেয় হয়েছে, এ বার শতাব্দীকে কৃষ্ণনগরে পাঠাতে চান অনুব্রত

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলার অন্য জেলায় আর যাই হোক, বীরভূমে দলকে অনুব্রত মণ্ডলের চোখ দিয়েই দেখেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেষ্ট আবদার করেছেন, আর দিদি তা শোনেননি এমন নজির বিরল।

তৃণমূল শীর্ষ সূত্রে খবর, দিদি-র কাছে এ বার নতুন আবদার জুড়েছেন অনুব্রত। সেটা কী?

কেষ্ট চাইছেন, বীরভূম লোকসভা কেন্দ্র থেকে সরিয়ে দেওয়া হোক অভিনেত্রী শতাব্দী রায়কে। তাঁকে পাঠিয়ে দেওয়া হোক অন্য জেলায়, অন্য লোকসভা আসনে। রূপোলি পর্দা থেকে শুরু করে তৃণমূলের রাজনীতি, শতাব্দী রায়ের পরম বন্ধু হলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ তাপস পাল। কিন্তু রোজভ্যালি কাণ্ডে অভিযুক্ত তাপস পালকে দিদি যে এ বার টিকিট নাও দিতে পারেন সে ব্যাপারটা প্রায় পাকা। অনুব্রত চাইছেন, ওই কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রেই প্রার্থী করা হোক শতাব্দী রায়কে।

তৃণমূলের এক রাজ্য নেতার মতে, আসলে গোটা বীরভূমের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ হাতে নেওয়ার কৌশল করছেন কেষ্ট। বিধানসভা ভোটে দল কাদের প্রার্থী করবে তা ঠিক করেছিলেন অনুব্রতই। দিদি তাতে সিলমোহর দিয়েছিলেন। কিন্তু জেলার দুটি লোকসভা আসনে বর্তমান সাংসদরা কেউ তাঁর পছন্দের প্রার্থী ছিলেন না। এবং নিয়ন্ত্রণেও ছিলেন না। এ বার সেটাই চাইছেন কেষ্টবাবু।

বস্তুত বোলপুরের সাংসদ অনুপম হাজরাকে যে আর প্রার্থী করা হবে না, তা অনেকদিন আগেই ঠিক হয়ে গিয়েছিল। জনসমক্ষে তাঁকে ‘পাগল-ছাগল’ বলেও কটাক্ষ করেছেন জেলা তৃণমূল সভাপতি। বুধবার সেই ল্যাঠা পাকাপাকি চুকে গিয়েছে। কারণ, অনুপমকে বহিষ্কার করেছে দল। এ বার শতাব্দী রায়ের পালা। তৃণমূলের শীর্ষ সূত্রে খবর, তাঁর অত্যন্ত আস্থাভাজন এবং এক প্রকার ছায়াসঙ্গী রাণা ওরফে অভিজিৎ সিংহ রায়কে বীরভূমে প্রার্থী করতে চান তিনি।

২০০৯ সাল থেকে বীরভূমে সাংসদ শতাব্দী। ব্রজ মুখোপাধ্যায়কে হারিয়ে সংসদে গিয়েছিলেন। এই মেয়াদ শেষ করলে সংসদীয় রাজনীতিতে দশ বছর পূর্ণ করবেন তিনি। পর্যবেক্ষকদের মতে, অনুব্রতর মতো দিনরাত সংগঠন করা নেতা এটা ঢের বুঝছেন, এ বারের ভোটে ‘অলঙ্কার’ দিয়ে খুব একটা কাজ হবে না।

এমনিতেই গতবার অনুপমকে প্রার্থী করে ঠকতে হয়েছে তাঁকে। সাংসদ হওয়ার বছর দুয়েকের মধ্যে থেকেই অন্য সুরে গান গাইতে শুরু করেন অনুপম। এ নিয়ে দলের মধ্যে সতর্কও করা হয় বিশ্বভারতীর অধ্যাপককে। কিন্তু তিনি শোনেননি। ফেসবুক, টুইটারে এমন এমন কথা লিখেছেন যাতে বিপাকে পড়তে হয়েছে দলকে। তাই এ বার অতি সতর্ক থেকেই জেলার দুটি কেন্দ্রে প্রার্থী করতে চান অনুব্রত। বীরভূমের হাওয়ায় ভাসছে, অনুপমের জায়গায় এ বার প্রার্থী হবেন অসিত মাল। মাস দেড়েক আগে তো অনুপম ফেসবুকে পোস্ট করে অসিত মালকে ভোট দেওয়ার আবেদনও জানিয়ে দিয়েছিলেন।

তবে শতাব্দীকে বীরভূম থেকে সরানোর ব্যাপারে অনুব্রতকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করব না। যা বলার দিদিই বলবেন।” এ ব্যাপারে শতাব্দী রায়ের প্রতিক্রিয়াও জানা যায়নি। সংসদের অধিবেশনের জ্ন্য শতাব্দী এখন দিল্লিতে রয়েছে। তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি। তিনি কোনও প্রতিক্রিয়া জানলে তা প্রতিবেদনে আপডেট করা হবে।

Shares

Comments are closed.