মঙ্গলবার, মার্চ ২৬

গরুর দুধ কমে গেলে পাইকার ডেকে বেচে দেওয়া হয়: অর্জুন প্রসঙ্গে অনুব্রত

দ্য ওয়াল ব্যুরো: টানা কয়েকদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিষ্যুদবারের বার বেলাতেই বিজেপি-তে যোগ দিয়েছেন অর্জুন সিং। ভাটপাড়ার দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল বিধায়ক গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে, তাহলে কি এ বার ব্যারাকপুর আসনে শাসক দলের পায়ের তলার মাটি সরে যাবে? কারণ অর্জুনই ছিলেন শিল্পাঞ্চলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম ভরসা। কিন্তু বীরভূমের জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল জানিয়ে দিলেন অর্জুনের যাওয়ায় তৃণমূলের কিস্যু যাবে আসবে না।

দলীয় কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের অনুব্রত বলেন, “গোয়ালে অনেক গরু থাকলে দেখবেন, যে গরুর দুধ দেওয়া কমে যায় তাকে পাইকার ডেকে বেচে দেওয়া হয়। দুধ দেওয়া কমে গেছিল। পাইকারও রেডি ছিল।” বীরভূমের কেষ্ট মণ্ডলের কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিটা সরিয়ে নিলে আমরা সবাই জিরো। বিয়াল্লিশটা কেন্দ্রে মানুষ ভোট দেবেন দিদির ছবি দেখেই।”

গত সেপ্টেম্বর মাসে যখন জেলা পরিষদ গঠন হচ্ছে, তখনই অনুব্রত জানিয়ে দিয়েছিলেন লোকসভা ভোটে এ দিক ও দিক হলেই পাচন দেওয়া হবে। কিন্তু ভোট যখন দোরগোড়ায়, তখন সেই কেষ্টবাবু জানিয়ে দিলেন, “পাচনের দরকার হবে না। নকুলদানাতেই কাজ হয়ে যাবে।” এমনিতে গত কয়েকটি ভোটে অনুব্রতর ফর্মুলা রাজ্য রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে বারবার। কখনও বলেছেন, গুড়বাতাসা, তো কখনও বলেছেন চড়াম চড়াম। এ বার নতুন ফর্মুলা নকুলদানা।

ইতিমধ্যেই রাজ্যে আসতে শুরু করেছে কেন্দ্রীয়বাহিনী। কোথাও কোথাও রুটমার্চও শুরু করে দিয়েছে সেন্ট্রাল ফোর্স। বীরভূম-ঝাড়খণ্ড সীমান্তে শুরু হয়েছে নাকা চেকিং। কিন্তু এ সবে বিন্দুমাত্র ঘাবড়াচ্ছেন না অনুব্রত। তাঁর কথায়, “ঘরে ঘরে উন্নয়ন পৌঁছে গেছে। লন্ডন থেকে ফোর্স আসুক আর আমেরিকা থেকে ফোর্স আসুক, আমরাই জিতব।”

শুক্রবার কেষ্টবাবু আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে চারটি লোকসভার ফলাফলের ভবিষদ্বানীও করে দেন। তিনি এখন শুধু বীরভূমের জেলা সভাপতি নন। দলের তরফে নদিয়া জেলার পর্যবেক্ষকও। তাই বীরভূমের দুটি আসন এবং নদিয়ার দুটি আসনে তৃণমূল প্রার্থীরা কত ভোটে জিতবেন তা জানিয়ে দেন কেষ্ট, বোলপুরের কর্মসূচি শেষে বলেন, “বোলপুর লোকসভায় অসিত মাল জিতবেন সাড়ে চার লক্ষ ভোটে। শুধু চন্দ্রনাথ সিনহার বোলপুর বিধানসভাই এক লক্ষ ভোটের লিড দেবে। বীরভূম জিতব সাড়ে তিন লক্ষ ভোটে।” এরপরেই জানিয়ে দেন নদিয়ায় কী হবে। নিহত বিধায়ক সত্যজিত বিশ্বাসের স্ত্রী রূপালী বিশ্বাসকে রাণাঘাটে প্রার্থী করেছেন মমতা। অনুব্রত জানিয়ে দেন, “রূপালী জিতবেন একলক্ষ ভোটে আর কৃষ্ণনগরে মহুয়া মৈত্র জিতবেন প্রায় আড়াই লক্ষ ভোটে।”

অনুব্রতর এ সব কথা শুনে অবশ্য বিজেপি নেতারাও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। গেরুয়া শিবিরের এক শীর্ষ নেতা বলেন, “এ বার আর দিদিমণির পুলিশ দিয়ে ভোট হবে না। ২৩ মে বিকেল বেলা অনুব্রত বুঝবেন কত ধানে কত চাল।”

Shares

Comments are closed.