মঙ্গলবার, জুন ২৫

রাঢ় বাংলা ছাড়িয়ে, দেশ ছাড়িয়ে, সটান মার্কিন মুলুকে কেষ্টর নকুলদানা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নকুলদানার কী জাদু! ওবামার দেশ থেকে চিঠি এল অনুব্রতর কাছে।

গৃহদেবতার সিংহাসনে থাকা প্রসাদের থালা থেকে নকুলদানা যে এমন ভাবে ভোটের শব্দ হয়ে উঠবে কেউ কখনও ভেবেছিল? তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের সৌজন্যে গোটা বাংলা তা জেনে গিয়েছিল। এ বার সেই নকুলদানা রাজ্য ছাড়িয়ে, দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়ে গেল। সাত সাগর আর তেরো নদী পেরিয়ে মার্কিন মুলুকে থাকা এক প্রবাসী বাঙালি নাকি চিঠি লিখেছেন কেষ্ট মণ্ডলকে। নিজেই সেই চিঠির কথা জানালেন লালমাটির জেলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন নেতা।

মার্কিন মুলুকের সেই বাঙালি কী লিখেছেন চিঠিতে?

অনুব্রত এ দিন জানান, “উনি নকুলদানার গুণাগুণ লিখেছেন। আর বলেছেন, আমার তো হাই সুগার, তাই সবাইকে খাওয়ালেও নিজে যেন না খাই।” তারপর নিজেই জানান, তাঁর সুগার এখন কন্ট্রোলে। এমনিতেই রাজনৈতিক নেতার নিজেদের অসুস্থতা প্রকাশ্যে বলতে চান না। অনুব্রতও সেই পথেই হাঁটলেন। সেই সঙ্গে জানিয়ে দিলেন, “আমি অভাগা নই। আমি ভাগ্যবান। তাই আমেরিকা থেকে চিঠি এসেছে।”

সেই চিঠি হাতে অনুব্রত

সৌজন্যে কোনও ফাঁক রাখতে চান না কেষ্টবাবু। জানিয়েছেন, এখন ব্যস্ততার জন্য পারবেন না। ভোট মিটলেই মার্কিন মুলুকের বাঙালিকে চিঠি লিখে ধন্যবাদ জানাবেন তিনি। ষোলর ভোটের সময়েও তাঁর কাছে গুড়বাতাসা নিয়ে লণ্ডন থেকে চিঠি এসেছিল বলে জানান তিনি। কিন্তু নকুলদানা নিয়ে তো নির্বাচন কমিশনও তাঁকে একাধিক চিঠি পাঠিয়েছে। সেগুলির কী হবে? অনুব্রত জানান, “কতবার চিঠি পাঠিয়েছে মনে নেই। কমিশন ওদের মতো পাঠাবে। আমি আমার মতো উত্তর দিয়ে যাব।”

এর আগে জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ কলেজে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ কর্মীরা দোলের দিন নকুলদানা বিলি করেছিলেন। সে দিনই বোঝা গিয়েছিল নকুলদানা বীরভূমের গণ্ডি ছাড়িয়ে অন্যত্রও পৌঁছে গিয়েছে। এ বার একেবারে আমেরিকা।  মার্কিন মুলুকের চিঠি পেয়ে যারপরনাই আহ্লাদিত কেষ্ট। এক তৃণমূল নেতা রসিকতা করে বলেন, “এরপর হয়তো নিউজিল্যান্ডের কোনও কৃষি বিজ্ঞানী পাচন নিয়ে কিংবা আফ্রিকার কোনও পারকাসনিস্ট চড়াম-চড়াম নিয়ে চিঠি লিখবেন দাদাকে।”

Comments are closed.