মঙ্গলবার, মার্চ ১৯

আকচাআকচিতে রেগে আগুন দিদি, নদিয়া নিয়ে আর ভরসা নেই শুধু পার্থর উপর

দ্য ওয়াল ব্যুরোবাংলায় যখন বিজেপি-র ‘ব’ ছিল না, সেই সময়ে যে জেলা থেকে গেরুয়া শিবির সাংসদ পেয়েছিল, সেটা নদিয়া। কৃষ্ণনগর থেকে দিল্লি গিয়েছিলেন জলু মুখোপাধ্যায়। কৃষ্ণনগরের সেই সরভাজা, সরপুরিয়ার স্বাদ এখনও ভারতীয় জনতা পার্টির জিভে লেগে আছে। তাই উনিশের লোকসভার আগে নদিয়াকে পাখির চোখ করেছে বিজেপি। আর সেই জেলাতেই তৃণমূলের ভিতরকার আকচাআকচি চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে শাসক দলের কপালে। এবং বুধবার নদিয়ার প্রশাসনিক সভায় তা গোপন করলেন না রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বার নদিয়ার সাংগঠনিক দায়িত্বে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে জুড়ে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অনুব্রত মণ্ডলকে। তবে অনুব্রতকে দায়িত্বে আনা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ, তিনি যতটা না সাংগঠনিক দিক থেকে দক্ষ তার চেয়ে বেশি ‘বাহুবলী’ হিসেবে পরিচিত।

এ দিন রানাঘাটে নদিয়ার প্রশাসনিক বৈঠকে চাকদা পুরসভার চেয়ারম্যান দীপক চক্রবর্তী এবং সেখানকার বিধায়ক রত্না কর ঘোষকে গোষ্ঠী কোন্দল বন্ধ করার জন্য স্পষ্ট নির্দেশ দেন মমতা। কয়েকদিন আগে মন্ত্রিসভার রদবদলে রত্নাদেবীকে ক্যাবিনেটেও নিয়েছিলেন দিদি। কিন্তু তারপরেও চাকদার চাপানউতোর থামেনি। স্থানীয়দের মতে, দীপক-রত্না কোন্দল বহু পুরনো ব্যাপার। পুরসভার কোনও অনুষ্ঠান হলে ডাকা হয় না বিধায়ককে। এ ঘটনা বছরের পর বছর ধরে চলছে। জেলার রাজনীতিতে সবাই জানেন। জেলায় যে কথা সবাই জানেন, তা মমতা জানবেন না এ কথা কেউই প্রায় বিশ্বাস করবে না। সেটাই আরও নিশ্চিত করে দিতে মুখ্যমন্ত্রী এ দিন বলেন, “নিজেদের মধ্যে সমস্যা মেটাও। আমি কিন্তু এ সব বরদাস্ত করব না।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একই ক্ষোভ প্রকাশ করেন শান্তিপুরের ক্ষেত্রেও। বিধায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্য এবং শান্তিপুর পুরসভার চেয়ারম্যান অজয় দে-র নাম করেও একই কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রসঙ্গত, ১৬-র নির্বাচনে কংগ্রেসের হয়ে বামেদের সঙ্গে জোট করে শান্তিপুরে জিতেছিলেন অরিন্দম। কিন্তু তারপর যোগ দেন তৃণমূলে। কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে আসা নিয়ে অজয়বাবুর সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্ব অজানা নয় নেত্রীরও। এ দিন প্রশাসনিক বৈঠকে মমতা বলেন, “এই অরিন্দম-অজয়। তোমাদের মধ্যে আর সমস্যা নেই তো? নিজেরা সব মিটিয়ে নাও। আমি কিন্তু বলে দিচ্ছি, এ সব ব্যাপারে আমি রাফ অ্যান্ড টাফ।”

এর আগেও নদিয়ার গোষ্ঠী কোন্দল নিয়ে মমতা কড়া দাওয়াই দিয়েছিলেন। বিধানসভায় নিজের ঘরে ডেকে জেলা নেতাদের পইপই করে বুঝিয়েছিলেন। কিন্তু জেলায় ফিরে গিয়ে যে কে সেই। শাসক দলের অনেকেই মনে করেন, নদিয়ার সাংগঠনিক হাল ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন ওই জেলার পর্যবেক্ষক পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও। এ দিন রানাঘাটের সভার পর সাংবাদিকদের পার্থবাবু জানান, তাঁর সঙ্গেই এ বার থেকে নদিয়া জেলার পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে। প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যুব তৃণমূলের উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলা সভাপতি তথা নৈহাটির বিধায়ক পার্থ ভৌমিককে বলেছিলেন, হরিণঘাটা এবং চাকদা দেখার জন্য। পার্থ ভৌমিক আবার অভিষেক ঘনিষ্ঠ নেতা। সে দিনই অনেকে আন্দাজ করেছিলেন, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের একার উপর আর এই জেলা রাখবেন না দিদি। হলোও তাই। কারণ আর কয়েক মাস বাদেই উনিশের ভোট। বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশ করতে তাই কোনও ফাঁক রাখতে চাইছেন না মমতা।

অনুব্রত মণ্ডলকে নদিয়ার পর্যবেক্ষক করা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, তাহলে কি এ বার নদিয়াতেও শুরু হবে পাচন দাওয়াই?

Shares

Comments are closed.