শুক্রবার, নভেম্বর ২২
TheWall
TheWall

একুশের ভোটে বাংলায় বিজেপি-র মুখ কে? জবাব দিলেন অমিত শাহ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: একুশের ভোটে বাংলায় বিজেপি-র মুখ তথা মুখ্যমন্ত্রী পদ প্রার্থী কে? পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এ নিয়ে কৌতূহল এবং জল্পনা নতুন নয়। বৃহস্পতিবার এক বেসরকারি সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। সেখানেও তাঁকে সরাসরি এই প্রশ্নটিই করা হয়?

জবাবে অমিত শাহ বলেন, “কোনও মুখ থাকবে, না পার্টিকেই সামনে রেখে ভোটে যাওয়া হবে তা নিয়ে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। দল কাউকে মুখ করে ভোটে যেতে পারে। আবার তা নাও করতে পারে। এর আগে অন্য রাজ্যে ভোটের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। সে ক্ষেত্রে ভোটের পর নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে”।

সাক্ষাৎকারে অমিত শাহকে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ব্যাপারেও প্রশ্ন করা হয়। জানতে চাওয়া হয়, আগামী দিনে সৌরভ কি বাংলায় বিজেপি-র মুখ হতে পারেন? জবাবে বিজেপি সভাপতি বলেন, “সৌরভের সঙ্গে রাজনৈতিক বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও কথা হয়নি”। তা হলে কি ভবিষ্যতে সেই আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। জবাবে ফের অমিত শাহ বলেন, “এখনও পর্যন্ত রাজনৈতিক ব্যাপারে ওঁর সঙ্গে আলোচনা হয়নি। এখনও পর্যন্ত তা করিনি।”

বস্তুত আডবাণী-বাজপেয়ী জমানায় একটা সময় ছিল যখন কোনও রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী মনোনীত করে ভোটে যেত বিজেপি। কিন্তু মোদী জমানায় সেই ধারা বদলে গিয়েছে। উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানার মতো রাজ্যে কাউকে মুখ না করে ভোটে গিয়েছে বিজেপি। বরং রাজ্যের ভোটেও মুখ ছিলেন মোদীই। অমিত শাহ-র এ দিনের কথাতেই পরিষ্কার যে বাংলাতেও মোদীকে মুখ করে ভোটে যেতে পারে বিজেপি। সেই সম্ভাবনা এখনই খারিজ করে দেওয়া যাচ্ছে না।

ওই সাক্ষাৎকারে বিজেপি সভাপতি এ দিন এও দাবি করেন যে বাংলায় আগামী বিধানসভা ভোটে বিপুল জন সমর্থন পেতে চলেছে বিজেপি। এ ব্যাপারে তিনি আত্মবিশ্বাসী। তাঁর কথায়, “আজই বলে রাখছি, মিলিয়ে নেবেন। বাংলায় দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়বে বিজেপি”।

প্রসঙ্গত, উনিশের লোকসভা ভোটের অনেকটা আগে থেকেই বিজেপি নেতারা বলতে শুরু করেছিলেন বাংলায় ২০-২২টি আসন জিতবেন তাঁরা। পালটা শাসক দলের স্লোগান ছিল বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশ। কিন্তু ভোট ফুরোতে দেখা গিয়েছে মুখের কথার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে বিজেপি। ১৮টি আসন জিতেছে বাংলা থেকে।

এ দিন সেই প্রসঙ্গ টেনে এনে বিজেপি সভাপতি বলেন, “১৮টা আসনে জিতেছি। আর তিনটে আসনে সামান্য ব্যবধানে হেরেছে বিজেপি। বাংলার মানুষ যে পরিবর্তন চাইছেন তা আমরা দিব্য বুঝতে পারছিলাম”।

লোকসভা পরবর্তীতে বিজেপির ফলাফলকে বিধানসভার নিরিখে ফেলে দেখা গিয়েছে, বাংলায় শতাধিক বিধানসভা কেন্দ্রে শাসক দলের থেকে অনেকটা এগিয়ে রয়েছে গেরুয়া শিবির। একই সঙ্গে এ-ও দেখা গিয়েছে, অন্তত এমন ১৫-২০টি বিধানসভা কেন্দ্র আছে যেখানে তৃণমূল আর বিজেপি-র ভোট একেবারে গায়ে গায়ে। বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য ওই আসনগুলি জেতা কেবল সময়ের অপেক্ষা।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওই সাক্ষাৎকারে এও ইঙ্গিত দেন যে বাংলাতেও এনআরসি-র বাস্তবায়ন করতে চাইছে মোদী সরকার। তবে বলেন, এনআরসি কার্যকর করার ক্ষেত্রে যদি কোনও দুর্বলতা থেকে থাকে, তাহলে সরকার তা পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।

যদিও অমিত শাহের বাংলা দখলের আগাম ঘোষণাকে একেবারেই গুরুত্ব দিচ্ছে না তৃণমূল কংগ্রেস। দলের এক মুখপাত্রের কথায়, “অমিত শাহ এখনও বাংলার মানুষকে চেনেননি। বছরে একবার আধবার আধবার বিমান চেপে কলকাতায় এসে বক্তৃতা করে বলল বাংলা দখল করব আর সেটা হয়ে গেল, ব্যাপারটা এত সোজা না।” জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরণ নিয়ে তৃণমূলের বক্তব্য, “বাংলায় এনআরসি হবে না। আর যদি কেন্দ্র তা করতে চায়, তাহলে তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়তে হবে।” শাসক দলের এক নেতার কথায়, “অসম ছাড়া আর কোথাও এনআরসি করার কোনও সিদ্ধান্ত বা অ্যাকর্ড সুপ্রিম কোর্ট বলেনি। তাহলে অমিত শাহের এই হুঙ্কার কিসের ভিত্তিতে?”

পড়ুন দ্য ওয়াল-এর পুজোসংখ্যার বিশেষ লেখা…

Comments are closed.