শনিবার, ডিসেম্বর ১৪
TheWall
TheWall

দিল্লির অমিতকে তোপ রাজ্যের অমিতের, ধর্মের ভিত্তিতে কি মানুষে মানুষে ভাগ করার অনুমতি দিয়েছে সংবিধান?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ-র কলকাতা সফরের উদ্দেশ্য কী ছিল তা আগেই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল। হয়েছেও তাই। মঙ্গলবার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে জনজাগরণ মঞ্চে দাঁড়িয়ে অমিত শাহ পই পই করে এই বার্তা দেওয়ারই চেষ্টা করেন, বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু ‘শরণার্থীদের’ কোনও ভয় নেই। তাঁরা এ দেশে নাগরিকত্ব পাবেন। কিন্তু অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে খুঁজে বের করে দেওয়া হবে দেশ থেকে।

অমিত শাহ ‘মুসলিম’ শব্দটি মুখে আনেননি। তবে বোঝানোর কোনও ত্রুটি রাখেননি যে অনুপ্রবেশকারী বলতে মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের কথাই বলতে চাইছেন তিনি। আর এই প্রশ্নেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র।

অমিত মিত্রকে এ ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই মুখ খুলতে বলেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। অমিতবাবু এ দিন বলেন, “কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন। এনআরসি নিয়ে উনি এ দিন যে কথা বলেছেন, তাতে আরও বিভ্রান্তি ছড়াবে। যে ভাবে নাম করে উনি কয়েকটি ধর্মের কথা বললেন, আমাদের সংবিধান কি এই ভাবে ধর্মের ভিত্তিতে দেশের মানুষকে ভাগ করার অনুমতি দিয়েছে?”

অসমে নাগরিক পঞ্জি  থেকে ১৯ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছে। তার মধ্যে বহু বাঙালি, হিন্দু, প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকের নাম রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এমনিতেই সংসদে নাগরিকত্ব সংশোধন বিল পাশ করাতে তৎপর মোদী সরকার। কারণ, তাঁদের অবস্থানই হল বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, নেপাল ও ভূটানের মতো প্রতিবেশী দেশ থেকে হিন্দু, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ বা খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের কোনও মানুষ ভারতে এলে, তাঁদের শরণার্থী বলে চিহ্নিত করা হবে। তাঁদের এ দেশের নাগরিকত্বও দেওয়া হবে। কিন্তু মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে।

সংসদের স্থায়ী কমিটিতে এই বিলের খসড়া নিয়ে এরই মধ্যে বিতর্ক হয়েছে। এবং সেখানেও সেই সাংবিধানিক প্রশ্নটিই উঠেছে। ধর্মের ভিত্তিতে মানুষে মানুষে ভাগ করা যায় কি? আজ অমিত মিত্রও সেই প্রশ্ন তোলেন।

পর্যবেক্ষকদের মতে, এনআরসি নিয়ে বাংলার মানুষকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে রকম ভয় দেখানো শুরু করেছিলেন তাতে বিজেপি যে এই রাজনীতির পথে হাঁটবে তা অবধারিতই ছিল। অসমের নাগরিক পঞ্জি থেকে কয়েক হাজার বাঙালি ও হিন্দুর নাম বাদ পড়ার ঘটনাকে হাতিয়ার করেছে তৃণমূল। তার পর সেই বিষয়টি সামনে রেখে বাংলাতেও মানুষকে বিজেপি সম্পর্কে সতর্ক করতে চেয়েছে। এরই পাল্টা রাজনীতি এ দিন করলেন অমিত শাহ। তিনি বোঝাতে চাইলেন, বাংলাদেশ থেকে আসা কোনও বাঙালি হিন্দু শরণার্থীর ভয় নেই। তা সে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ হোক বা অন্য কোনও সম্প্রদায়ের। তাঁদের দেশের অন্য নাগরিকদের সঙ্গেই সমানাধিকার দেওয়া হবে। দেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত হয়ে উঠতে পারবেন কোনও শরণার্থী নাগরিক।

অমিত শাহ-র এই মেরুকরণের রাজনীতিতে আবার তৃণমূল সিঁদুরে মেঘ দেখছে। কারণ, বাংলায় সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্ক তৃণমূলের একটা বড় জোরের জায়গা। সেই কারণেই, এ দিন অমিত মিত্র মুখ খুলেছেন।

Comments are closed.