হাওড়ার ডুমুরজলায় কোয়ারেন্টাইন সেন্টার ঘিরে চলছে দেদার গল্প-আড্ডা, বালাই নেই স্বাস্থ্যবিধি মানার

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাওড়ার ডুমুরজলা স্টেডিয়ামে হঠাৎ পৌঁছে গেলে মনে হতে পারে হয়তো কোনও মেলার বাইরে দাঁড়িয়ে। সার-সার বাইক দাঁড়িয়ে। সামাজিক দূরত্বের বালাই নেই। বেশির ভাগ লোকের মুখে কোনও মাস্ক নেই। তাঁরা যেন নিশ্চিত যে করোনা পুরোপুরি চলে গেছে দেশ থেকে। আর সংক্রমণের আশঙ্কা নেই।

হাওড়ার ডুমুরজলায় প্রস্তাবিত স্পোর্টস সিটির মধ্যে হাওড়া ইনডোর স্টেডিয়াম। সেখানেই রয়েছে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার যা করা হয়েছিল লকডাউনের শুরুতে। প্রথম দিকে এই কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের সামনে ড্রেনেজ ক্যানেল রোড এবং এর চার পাশের রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতেই ভয় পেতেন মানুষজন। এখন ছবিটা পুরো বদলে গেছে। রোজ ভোর থেকে প্রাতর্ভ্রমণকারীদের ভিড় লেগে থাকে। বিকেলের পর এই এলাকা যেন হয়ে ওঠে মানুষের মিলনকেন্দ্র।

খোলা চায়ের দোকান। বিক্রি হচ্ছে মোমো, ভুট্টা সেঁকা, তেলেভাজা-সহ বিভিন্ন খাবার। ভিড় রীতিমত চোখে পড়ার মতো। যাঁরা আসছেন তাদের বড় অংশ কিশোর-কিশোরী বা তরুণ-তরুণী। এলাকার লোকজন বলেন ওঁরা ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখছেন। অনেক সময় তাঁদের ঘনিষ্ঠতা এমন পর্যায়ে চলে যায় যে পথচলতি লোকজন অস্তস্তিতে পড়ে যান। এরই মধ্যে চলে তাঁদের সেলফি তোলা।

কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের দরজার কাছে সন্ধ্যারাতের দৃশ্য।

নিজেদের মতো করে প্রবীণদেরও দেখা যায় সান্ধ্যভ্রমণ করতে। অনেকে আড্ডায় মশগুল হয়ে থাকেন। স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই চলে সে সব। এখানে নিয়ম করে আসা কয়েক জনের সঙ্গে আমরা কথা বলেছিলাম। অনেকে মেনে নিচ্ছেন যে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে করোনার সময় অবাধ মেলামেশা ঠিক নয়। অনেকে আবার বলছেন “ঘরে বসে করবো টা কী! অমিতাভ বচ্চনের যদি করোনা হয় তো আমরা কোন ছার! অত ভয় করে বাঁচতে পারব না।” নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা বলছেন, “যে কটা দিন বাঁচব ভাল করে বাঁচব। তা ছাড়া ঘরে বসে থাকলে চলবেই বা কী করে?”

করোনার সব আশঙ্কা ফুৎকারে উড়িয়ে ডুমুরজলা কোয়ারেইন্টাইন সেন্টার সংলগ্ন এলাকা এখন জমজমাট। বয়স্ক লোকজনের কেউ কেউ বলছেন, “বাইরে বেরিয়ে প্রকৃতির মাঝে থাকাটাও ভীষণ দরকার।” করোনা সংক্রমণে যেখানে হাওড়া রাজ্যের মধ্যে একেবারে প্রথম সারিতে সেখানে এই দৃশ্য অবাক করার মতোই। প্রশাসনের কোনও নজরদারি নেই এখানে। শুধুমাত্র কন্টেনমেন্ট জোন হলে কিংবা লকডাউন হলে নজর দেবে প্রশাসন? এই প্রশ্নও এখন উঠে আসছে।

হাওড়ায় এখন পুরবোর্ড নেই। ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল সভাপতি পিণ্টু মণ্ডল এখন বকলমে এলাকার দেখভাল করছেন। তিনি বলেন, “এখানে যারা আসে তাদের বেশিরভাগ বহিরাগত। এলাকার লোকজন ভয়ে কিছু বলতে পারে না কারণ ওরা সংখ্যায় অনেক বেশি। স্থানীয় বাসিন্দা তথা এভারেস্টজয়ী পর্বতারোহী মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, “সন্ধ্যা নামলেই এখানে অসামাজিক কাজকর্ম শুরু হয়ে যায়। প্রকাশ্যে মদ ও গাঁজা খাওয়া চলে। খেলার মাঠগুলো অন্ধকার থাকায় সেখানে এসব বেশি হয়। প্রশাসনের এ বিষয়টি দেখা উচিত।”

চ্যাটার্জিহাট থানার এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, মাঝে মধ্যে টহলদারি চালানো হয়। এবার তা বাড়ানো হবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More