বাংলার শ্রমিকদের সাত দিনের মধ্যে ঘরে ফেরান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তির পরই মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে বিরোধীরা

২৮

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার বিকেলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সব রাজ্যকে জানিয়েছে, ভিন রাজ্যে আটকে পড়া শ্রমিকদের রাজ্যগুলি এবার ফেরাতে পারবে। সেই সঙ্গে পর্যটক, ছাত্র তীর্থযাত্রী—যারা ভিন রাজ্যে আটকে পড়েছেন তাঁদেরও ফেরানো যাবে।

কেন্দ্রের সেই বিজ্ঞপ্তির পরই বাংলায় সব বিরোধী দলের নেতারাই দাবি তুললেন, ভিন রাজ্যে আটকে পড়া বাংলার শ্রমিকদের সাত দিনের মধ্যে ঘরে ফেরানোর ব্যবস্থা করুন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের বক্তব্য, দেশের প্রায় সব রাজ্যেই বাংলার শ্রমিকরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন। রাজ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ কম থাকায় এই সংখ্যাটা তুলনামূলক ভাবে অন্য রাজ্যের থেকে বেশি। প্রত্যেকেরই পরিবারের লোকজন দুঃশ্চিন্তায় রয়েছেন। তা ছাড়া যাঁরা ভিন রাজ্যে রয়েছেন, তাঁদেরও রোজগার কিছু নেই। ভোগান্তিও হচ্ছে। যত দ্রুত রাজ্য সরকার তাঁদের ফেরাতে পারবে তত ভাল।

আরও পড়ুন- রেশনে বেনিয়ম নিয়ে এ বার জেলাশাসককে অভিযোগ জানালেন খোদ মন্ত্রী

লোকসভায় কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেন, “মুর্শিদাবাদ ও মালদহ থেকে হাজারে হাজারে শ্রমিক ভিন রাজ্যে আটকে রয়েছেন। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কয়েকশ করে ফোন পাচ্ছি তাঁদের। ব্যক্তিগত উদ্যোগে এঁদের অনেকের থাকাখাওয়ার ব্যবস্থা করেছি। স্থানীয় সরকারের সঙ্গে কথা বলে অনেকের রেশনের ব্যবস্থাও করেছি। রাজ্য সরকারের উচিত কোনও সময় নষ্ট না করে আজ রাত থেকেই এ ব্যাপারে বিভিন্ন রাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে দেওয়া”।

অন্যদিকে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, “বাংলার সরকারের মতিগতি বোঝে কার সাধ্য! প্রথমে বলে দিয়েছিল কোটায় আটকে পড়া ছাত্রছাত্রীদের ফেরাতে পারবে না। এতটাই স্পর্শকাতরতাহীন এই সরকার। তার পর যখন দেখল রাজস্থান সরকার বাংলায় পৌঁছে দিতে চাইছে, তখন রাজি হল। যাক দেরিতে হলেও শেষমেশ যে হচ্ছে এটাই ভাল লক্ষণ।” তাঁর কথায়, “কেন্দ্র অনুমতি দিয়ে দিয়েছে। এবার ভিন রাজ্যে আটকে থাকা সুস্থ শ্রমিকদের সাত দিনের মধ্যে ফিরিয়ে আনুক রাজ্য। রাজ্যের যে শ্রমিকরা অন্য রাজ্যে পেটের তাগিদে যায় তাঁদের এবং তাঁদের পরিবারের আবেগ, অসহায়তাকে সম্মান দিক বাংলার সরকার। কেন্দ্র সব রকমের সাহায্য করতে তৈরি আছে”। তিনি আরও বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার অনেক কিছু নিয়ে রাজনীতি করেছে। এবার এটা নিয়ে যেন না করে। আমরা দাবি করছি, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনা হোক”।

আরও পড়ুন- লকডাউনের মধ্যেও বাড়ি ফিরতে পারবেন ভিন্ রাজ্যে আটকে পড়া শ্রমিক, ছাত্র ও পর্যটকরা! বড় ঘোষণা কেন্দ্রের

একই দাবি জানিয়েছে বামেরাও। বিধানসভায় বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “আমাদের পার্টির পলিটব্যুরো তথা বাম ট্রেড ইউনিয়নগুলি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছিল যে ভিনরাজ্যে কাজে যাওয়া শ্রমিকদের নিজেদের রাজ্যে ফেরানোর বন্দোবস্ত করতে হবে। রাজ্যকেও দিল্লির সঙ্গে সমন্বয় করে বিষয়টি কার্যকর করার দাবি জানিয়েছিলাম। আজ দিল্লির সরকার একটা নির্দেশিকা জারি করেছে। রাজ্যের উচিত দ্রুত নোডাল বডি গঠন করে বাংলার যে শ্রমিকরা দেশের বিভিন্ন রাজ্যে আটকে আছেন তাঁদের ফেরানোর বন্দোবস্ত করা।” তিনি আরও বলেন, “গাইডলাইনের শর্ত পূরণ করতে না পেরে যদি কোনও শ্রমিকের ফেরা আটকে যায় তাঁর ক্ষেত্রেও রাজ্যকে যত্নশীল হতে হবে, যাতে ওই রাজ্যে.সঠিক ব্যবস্থার মধ্যে তিনি থাকতে পারেন।”

বুধবার বিকেলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নির্দেশিকা জারি করে সব রাজ্যকে জানিয়েছে যে, ভিন রাজ্যে আটকে পড়া যে ব্যক্তিদের দেহে করোনাভাইরাস সংক্রমণের লক্ষণ নেই, তাঁরা বাড়ি ফিরতে পারবেন। পরিযায়ী শ্রমিকদের যাতে বাড়ি ফিরতে দেওয়া হয়, সেজন্য সুপ্রিম কোর্টে কয়েকটি আবেদন জমা পড়েছিল। তা ছাড়া বহু রাজ্য ও রাজনৈতিক দলের তরফেও চাপ তৈরি হচ্ছিল। বড় কথা হল, এই শ্রমিকদের ভোগান্তি অনেক জায়গাতেই চরমে পৌঁছেছিল। এবং তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ যে বাড়ছিল তাও সম্প্রতি মুম্বইয়ের বান্দ্রায় দেখা গিয়েছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক প্রতিটি রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছে, একটি নোডাল বডি তৈরি করতে হবে। সেই সংস্থা স্থির করবে, কোন পদ্ধতিতে আটকে পড়া ব্যক্তিদের ফেরানো হবে। যাঁরা নিজেদের বাড়িতে ফিরতে চাইবেন, তাঁদের আগে পরীক্ষা করে দেখা হবে শরীরে কোভিড ১৯ এর সংক্রমণ ঘটেছে কিনা। যদি দেখা যায় তাঁরা সুস্থ, তবেই বাড়ি ফেরার অনুমতি দেওয়া হবে। যে বাসগুলিতে চড়ে ভিন রাজ্যে আটকে পড়া ব্যক্তিরা বাড়ি ফিরবেন, সেগুলি আগে স্যানিটাইজ করতে হবে।

পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, কেন্দ্রের নির্দেশিকায় প্রায় সবই ঠিক আছে। কিন্তু বাসের পাশাপাশি শ্রমিকদের ফেরাতে যদি কিছু ট্রেনেরও ব্যবস্থা করে দিত সরকার, তা হলে আরও ভাল হত।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More