সকালে নাড্ডার ফোন, বিকেলে দিলীপ, মুকুল, রাহুল মায় মঞ্চে ‘বিজেপি পরিবারের’ আনুষ্ঠানিক প্রকাশ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার বিকেলে ‘আমার পরিবার, ‘বিজেপি পরিবার’ ক্যাম্পেইন আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশ করা হবে। অথচ সকালেও ঠিক নেই সেই মঞ্চে রাজ্য বিজেপির পরিবারের পুরো ফ্রেম পাওয়া যাবে কিনা। অর্থাৎ দিলীপ ঘোষ, রাহুল সিনহারা তো থাকবেন। কিন্তু দলের প্রবীণ নেতা মুকুল রায় থাকবেন কিনা তা চব্বিশ ঘন্টা আগে অবধি নিশ্চিত ছিল না!

পরিস্থিতি যখন এমনই তখন দিল্লি থেকে ফোন এল কাঁচরাপাড়ায়। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডার ফোন। মুকুল বাবু সে সময়ে বাড়িতেই। ওপার থেকে নাকি জানতে চাওয়া হয়েছিল, দিলীপবাবুর সঙ্গে কি বনিবনার অভাব হচ্ছে? মুকুলবাবু উত্তরে সম্ভবত জানিয়েছিলেন, না তেমন কিছু হয়নি। নাড্ডা তখন জানান, ‘আমার পরিবার, বিজেপি পরিবার’ ক্যাম্পেইন নিয়ে তিনি একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন, ওটা যেন মুকুলবাবু একবার দেখে নেন। জানা গিয়েছে, পরে সংগঠনের বিষয়আশয় ও ভোট কৌশল সম্পর্কে আরও দু-চার কথা হয়েছে ফোনে।

এবং তার পরই শুক্রবার বিকেলে দেখা গিয়েছে বিজেপি পরিবারের সেই অখণ্ড ছবি। যে ছবিতে দিলীপ ঘোষ যেমন রয়েছেন, তেমনই স্বমহিমায় রয়েছেন মুকুল রায়ও। অনেকের মতে, রাজ্য বিজেপিতে মুকুল রায়ের অবস্থান ও গুরুত্ব এই ছবিতেও কিছুটা বোঝা যাচ্ছে বইকি।

নাড্ডার ফোনের প্রসঙ্গে মুকুলবাবুর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। তিনি জানান, ফোন এসেছিল ঠিকই। তবে দিলীপবাবুর সঙ্গে বনিবনার অভাব হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্ন তাঁকে বিজেপি সভাপতি করেননি। দলের ক্যাম্পেইন নিয়ে অবশ্যই কথা হয়েছে। দিলীপবাবুও জানিয়েছেন, মুকুল রায় প্রসঙ্গে জগৎপ্রকাশ নাড্ডা তাঁকে কিছু বলেননি। তবে ভিডিও বার্তাটি নাড্ডা তাঁকে পাঠিয়েছিলেন। তা ছাড়া দিলীপবাবু বলেন, কিছুদিন ধরেই এ সব নিয়ে মিথ্যা প্রচার চলছে। দলে কোনও বনিবনার অভাব নেই। মুকুল দার সঙ্গেও না। সব ঠিক আছে।

এমনিতে দলের কারও সম্পর্কে সরাসরি নালিশ করা বা অভিযোগ করা মুকুল রায়ের রাজনৈতিক আচারে নেই বলে তাঁর ঘনিষ্ঠরা দাবি করেন। তৃণমূলে থাকাকালীনও সচরাচর কারও বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কিছু বলতেন না তিনি। তাঁদের মতে, দিলীপবাবুর সঙ্গে বনিবনা না হলেও মুকুল রায় কখনওই নাড্ডাকে সে ব্যাপারে অভিযোগ করবেন না। ‘দাদা এমনই’। তবে রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে মতান্তর হলে তা বলতে দ্বিধা করেন না তিনি।

সূত্রের খবর, নাড্ডাকে মুকুলবাবু জানিয়েছেন, একুশের ভোটের জন্য বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যদি সিরিয়াস হন তা হলে এখন থেকেই কৌশল করে নেমে পড়তে হবে প্রচারে বা সাংগঠনিক কর্মসূচি নিয়ে। এমনিতেই অনেকটা দেরি হয়ে গিয়েছে। তা ছাড়া ঘরোয়া আলোচনায় মুকুলবাবু বলেছেন, এখন যা পরিস্থিতি তাতে করোনা নিয়েই মানুষকে বাঁচতে হবে। সুতরাং এই সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকে কীভাবে কী করা যায় তা ভাবতে হবে।

দলের সর্বভারতীয় সংগঠনের এক নেতা শনিবার বলেন, বিহার ও বাংলার নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এরমধ্যেই হওয়ার কথা ছিল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ এখন হাসপাতালে রয়েছেন। তিনি সুস্থ হয়ে ওঠার পরই তা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এর মধ্যে বিজেপি সভাপতি একবার বাংলার রাজ্য নেতাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠক করতে পারেন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More