হালিশহরের পুরপ্রশাসকের পদত্যাগ, দলবদল নিয়ে জল্পনা শুরু

অংশুমান রায় পদত্যাগ করায় দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বিষয়টাই সামনে আসছে। অনেকে দলবদলের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: হালিশহর পুরসভার প্রশাসক পদ ত্যাগ করলেন অংশুমান রায়। পুরসভার ভিতরে সোমবার সকাল দশটা নাগাদ সাংবাদিক বৈঠক করেন। সেখানেই তিনি একথা জানান।

    নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসাবে পরপর দু’বার উত্তর চব্বিশ পরগনার হালিশহরের পুরপ্রধানের দায়িত্ব সামলেছেন অংশুমান রায়। পুরসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে তাঁকে ওই পুরসভার প্রশাসক হিসাবে  দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি পদত্যাগ করায় দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বিষয়টাই সামনে আসছে। অনেকে দলবদলের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

    পুরসভা সূত্রে খবর, প্রশাসক হিসাবে তাঁকে নিযুক্ত করার পর থেকেই নানা ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে তাঁকে চলতে হচ্ছিল। বিরোধী দলের বিরোধিতা তো রয়েইছে সঙ্গে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব সামলাতে তিনি হিমসিম খাচ্ছিলেন। মাঝে জলবদল করায় দলের একাংশের সুনজর থেকে বেরিয়েও গিয়েছিলেন। তাই বাধ্য হয়েই তিনি পদত্যাগ করলেন বলে খবর। কী কারণে তিনি পদত্যাগ করেছেন তা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতর। অংশুমান রায় নিজে অবশ্য এনিয়ে এখনও মুখ খোলেননি। কাজের চাপে পরিবারকে সময় দিতে না পারছেন না বলেই পদ ছাড়ছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

    লোকসভা নির্বাচনে ব্যারাকপুর কেন্দ্রে বিজেপি জয়ী হওয়ার পরে এই মহকুমায় একের পর এক পুরসভা ভাঙতে থাকে। তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার হিড়িক বাড়তে থাকে। সেই সময় বাদ ছিল না হালিশহর পুরসভাও। অংশুমান রায় নিজেও মুকুল রায়ের হাত ধরে বিজেপিতে চলে যান। পরে আবার তৃণমূলে ফিরে আসেন। তখনও তাঁকেই পুরসভার চেয়ারম্যান করা হয়। মুকুল রায়ের ছেলে তথা বিধায়ক শুভ্রাংশু রায় বলেন, “কেন ছেড়েছেন সে কথা না জেনে  বলতে পারব না। যাঁরা রাজনীতিতে আসেন তাঁরা পরিবারের জন্য সময় দিতে পারবেন না জেনেই আসেন। তাই এই কারণে পদ ছেড়েছেন বলে মনে হয় না। তবে একটা কথা বলতে পারি, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো লোক তৃণমূলে সম্মান পাচ্ছেন? যাঁরা দুর্দিনে তৃণমূলে দাঁড় করিয়েছিলেন তাঁরা সম্মান পাচ্ছেন? বীজপুরের ক্ষেত্রে আমি বলতে পারি কারা এখন তৃণমূল কংগ্রেস করছেন। যাঁরা গঠন হওয়ার সময় তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিস ভেঙেছিলেন, কর্মীদের মেরেছিলেন তাঁরাই তৃণমূলে রয়েছেন।” তা ছাড়া প্রশাসক যেখানে নিয়োগ করা হয়েছে সেখানে নিয়ম মানা হচ্ছে কিনা তা নিয়েও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

    জেলা তৃণমূলের অন্দরে কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে, দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিতে অংশুমান রায়কে ক্রমেই কোণঠাসা করা হয়েছে। উপযুক্ত মর্যাদা না পাওয়ার ক্ষোভও তাঁর মধ্যে ছিল। তাঁর অনুগামীরাও ক্রমশ দলে গুরুত্বহীন হয়ে পড়ছেন। তাই তিনি পদ ছেড়েছেন। গত দুমাস তিনি প্রশাসক পদে ছিলেন।

    গত সপ্তাহে হালিশহরে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে এবং বিজেপি থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার যেন প্রতিযোগিতা চলছিল। এর মধ্যেই সংঘর্ষ, গোলাগুলি, বোমাবাজি চলে। রবিবার গ্রেফতার হন হালিশহর পুরসভার প্রাক্তন উপপুরপ্রধান রাজা দত্ত। তিনিও তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেন। অংশুমান ফিরলেও তিনি তৃণমূলে ফেরেননি। এখন তিনি বিজেপিতেই।

    এই পরিস্থিতে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, আবার বিজেপিতেই যোগ দিচ্ছেন নাতো অংশুমান রায়!

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More