রীতি মেনে পুজো হলেও করোনা সতর্কতায় বন্ধ থাকছে অগ্রদ্বীপের গোপীনাথের মেলা

বিডিও অফিসে টানা দেড় ঘণ্টা বৈঠকে অবস্থান বদল মেলা কমিটির

১৬

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ার পরেও নভেল করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কের জেরে শেষপর্যন্ত কাটোয়ার অগ্রদ্বীপের গোপীনাথের মেলা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিল মেলা কমিটি ও কাটোয়া মহকুমা প্রশাসন। স্থানীয় বিডিও অফিসে টানা দেড় ঘণ্টা বৈঠক চলার পরে প্রশাসনের চাপেই সিদ্ধান্ত বদল করে মেলা কমিটি।

অগ্রদ্বীপের এই মেলায় গত বছর সাড়ে তিন লক্ষের বেশি লোক হয়েছিল বলে মেলা কমিটির দাবি। এই মেলা উপলক্ষে বহু দোকান বসে। মেলা কমিটির যুক্তি ছিল প্রথমত প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। দ্বিতীয়ত সাড়ে তিন লক্ষ পুণ্যার্থীকে মেলায় আসতে নিষেধ করাও সম্ভব নয়। স্বয়ং ঈশ্বর নাকি এই পুজো উপলক্ষে নেমে আসেন তাই তিনিই ভক্তদের রক্ষা করবেন বলেও মেলা কমিটি থেকে জানানো হয়।

কাটোয়া ২ নম্বর বিডিও অফিসে এদিন মেলা নিয়ে বৈঠক হয়। সেখানে বিডিও শমীক পাণিগ্রাহী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কাটোয়ার মহকুমাশাসক প্রশান্তরাজ শুক্লা, মহকুমা পুলিস আধিকারিক বা এসডিপিও ত্রিদীব সরকার, অগ্রদ্বীপ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান নিতাইসুন্দর মুখোপাধ্যায়, পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য সুব্রত মজুমদার ও মেলা কমিটির সভাপতি সুব্রত চৌধুরী। মেলা করলে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে সে ব্যাপারে বোঝানো হয় সুব্রত চৌধুরীকে। কিন্তু কোনও মতেই মেলা বন্ধ করতে তিনি রাজি ছিলেন না। বৃহস্পতিবার মেলা শুরুর কথা। প্রস্তুতি চূড়ান্ত এবং দোকানদারও চলে এসেছেন – এই যুক্তি দেখিয়ে তিনি মেলা চালু রাখার ব্যাপারে অনড় ছিলেন। মেলা উপলক্ষে এখানে হাজার সাতেক দোকান বসে।

শেষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয় মেলা থেকে কোনও ভাবে করোনাভাইরাস ছড়ালে তার দায়িত্ব নিতে হবে মেলা কমিটিকেই। লিখিত ভাবে একথা জানাতে হবে কমিটিকে। একথা শোনার পরে অবস্থান থেকে সরে আসেন মেলা কমিটির সভাপতি। সিদ্ধান্ত হয় মেলা বন্ধ হলেও তিথি ও প্রথা মেনে পরমবৈষ্ণব গোবিন্দ ঘোষের শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করা হবে। দোকান বন্ধ করে দেওয়া হবে যাতে পুজো দেখার পরে ভক্তরা ঘোরাঘুরি না করে ফিরে যেতে পারেন।

আজ থেকেই মেলা বন্ধের প্রচার শুরু করবে পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন। প্রচার করা হবে বিভিন্ন ঘাট ও রেল স্টেশনে।

মেলা বন্ধের খবরে হতাশ ব্যবসায়ীরা। মেলা কমিটিকে তাঁরা তিন দিনের জন্য দেড়শো থেকে তিনশো টাকা পর্যন্ত দেন। সেই টাকা নিয়ে তাঁরা ভাবছেন না। গাড়ি ভাড়া করে জিনিস নিয়ে আসা, লোকজনকে টাকা দিয়ে নিয়ে আসা ও দোকান তৈরি বাবদ তাঁদের যে লোকসান হতে চলেছে তাঁরা সেসব নিয়েই ভাবছেন। মেলায় আসা স্বরূপ পাল বলেন, “মেলা কমিটিকে খুবই সামান্য টাকা আমাদের দিতে হয়। সেটা নিয়ে ভাবছি না। যাতায়াত, দোকান দেওয়ার খরচ ও মালপত্র কেনা সব মিলিয়ে অনেক টাকা খরচ হয়েছে গেছে। এখনই অন্য কোথাও এতবড় মেলা নেই। মেলা না হওয়ায় আমাদের অনেক টাকা লোকসান হয়ে গেল।” শেষ মুহর্তে মেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হতাশ আরেক ব্যবসায়ী অমিত মিত্রও। তিনি বলেন, “এখানে অনেকেই দূর থেকে ব্যবসা করতে এসেছেন। কেউ এসেছেন বর্ধমান থেকে, কেউ বীরভূম থেকে, কেউ মায়াপুর থেকে। ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা সকলেই ক্ষতির মুখে পড়লাম।”

জনশ্রুতি এই যে চৈত্র মাসের কৃষ্ণা একাদশী তিথিতে ভক্ত গোবিন্দ ঘোষের শ্রাদ্ধ করতে ভগবান গোপীনাথ স্বয়ং মর্ত্যে নেমে আসেন। আনুমানিক ১৫৮৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে এই তিথিতে গোবিন্দ ঘোষের শ্রাদ্ধানুষ্ঠান হয়ে আসছে। এই উপলক্ষে গোপীনাথের পুজোও হয়। পুজো ও অনুষ্ঠান দেখতে বহু লোকের ভিড় হয়। চারদিন ধরে চলে মেলা। বসে কয়েকশো আখড়া। বাংলাদেশ থেকেও আসেন ভক্তের দল। প্রশাসন চাইছে জনসমাগম যথাসম্ভব কমাতে তাই তারা মেলা করতে দিতে চায়নি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More