বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭

পোস্তা উড়ালপুলের বিপজ্জনক অংশ ভাঙার কথা ঘোষণা করেও স্থগিত করল প্রশাসন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ রাত থেকে পোস্তা উড়ালপুলের (বিবেকানন্দ সেতু) বিপজ্জনক অংশ ভেঙে ফেলার কাজ শুরু করার কথা ছিল। সেই মতো নির্দেশিকাও দিয়েছিল নবান্ন। সেখানে বলা হয়েছিল, সোমবার রাত ৮টা থেকে শুরু হবে ভাঙার কাজ। কিন্তু তারপর বদল হয় সিদ্ধান্ত। জানা গিয়েছে, আজ ভাঙা হবে না উড়ালপুলের বিপজ্জনক অংশ। লালবাজার সূত্রে খবর, ১০ জুলাই কলকাতা পুরসভা, কলকাতা পুলিশ এবং কেএমডিএ—-একসঙ্গে পরিস্থিতি পরিদর্শন করবে। এরপরেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যে, কবে থেকেই সেতুর বিপজ্জনক অংশ ভাঙা হবে।

২০১৬ সালের ৩১ মার্চ বেলা সাড়ে বারোটা নাগাদ আচমকাই ভেঙে পড়ে পোস্তার নির্মীয়মাণ বিবেকানন্দ সেতু। ২৭ জন নিহত ও ৮০ জন ওর বেশি মানুষ আহত হয় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায়। ধ্বংসস্তূপ থেকে একের পর এক উদ্ধার করা হয় লাশ। কেউ অফিস যাচ্ছিলেন, কেউ বা যাচ্ছিল স্কুল কলেজে। আচমকাই মাথার উপর আকাশ ভেঙে পড়েছিল তাঁদের সকলের। নিমেষেই শেষ হয়ে গিয়েছিল অসংখ্য তাজা প্রাণ। ১ এপ্রিল ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার অধীনে এই উড়ালপুলের নির্মাণ সংস্থা আইভিআরসিএল-এর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছিল। পুলিশ কলকাতায় পাঁচজনকে এবং হায়দরাবাদে দু’জন আইভিআরসিএল কর্মকর্তাকে আটক করে। কলকাতায় আইভিআরসিএল-এর স্থানীয় কার্যালয় বন্ধ করে দেয়।

পোস্তা উড়ালপুলের দুর্ঘটনার পর নবান্নের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। খড়গপুর আইআইটির তিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ও রাজ্যের তৎকালীন মুখ্য সচিব বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায়ও ছিলেন সেই তদন্ত কমিটিতে। দীর্ঘ সমীক্ষার পর এই কমিটি জানায় যে ওই স্থানে উড়ালপুল রাখা আশঙ্কাজনক হয়ে যাবে। পাশাপাশি তাঁরা এ-ও বলেন, যে নতুন করে ওই অংশে ব্রিজ নির্মাণ করাও বিপজ্জনক। ওই রিপোর্টে পরিষ্কার ভাবে বলা হয় ভুল নকশা আর গুণগত মান যাচাইয়ের অভাবেই ভেঙে পড়েছে পোস্তা উড়ালপুল।

অবশেষে ঘটনার তিনবছর পর পোস্তার নির্মীয়মাণ বিবেকানন্দ উড়ালপুলের বিপজ্জনক অংশ ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নবান্ন। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তেও এলো বদল।

Comments are closed.