এনআরসি-তে যাঁদের নাম নেই, তাঁদের কোথায় রাখবে? মাঠে-ঘাটে না জেলে? প্রশ্ন অধীরের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো,মুর্শিদাবাদ: অসমের জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরণ (এনআরসি) ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকার এবং অসমের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে চোখা প্রশ্ন তুলে দিলেন লোকসভার কংগ্রেস দলনেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। তাঁর কথায়, তালিকা থেকে বাদ পড়া মানুষগুলিকে নিয়ে কী করা হবে? কোথায় রাখা হবে? এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনও নীতিই নেই সরকারের। একেবারে ল্যাজেগোবরে অবস্থা।

মঙ্গলবার মুর্শিদাবাদে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বহরমপুরের পাঁচবারের সাংসদ বলেন, “ভারত সরকারের মন্ত্রীরা বাংলাদেশে গিয়ে বলে এলেন এনআরসি একেবারেই ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। কাউকে বাংলাদেশে পাঠানো হবে না। তাহলে যাঁদের নাম তালিকায় নেই, তাঁদের নিয়ে কী করা হবে? ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হবে? জেলে পোরা হবে? নাকি মাঠে-ঘাটে বসিয়ে রাখা হবে? এ ব্যাপারে সরকারের কোনও স্পষ্ট নীতি নেই।”

তিনি এ দিন মুর্শিদাবাদের মানুষকে আশ্বস্ত করে অধীরবাবু বলেন, “অনেকের মধ্যে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু এটা অসমের ব্যাপার। বাংলার সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।” প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আরও বলেন, “এই এনআরসি করতে গিয়ে অসমের বিজেপি সরকরের ল্যাজেগোবরে অবস্থা হয়েছে। ১৯ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছে। এর মধ্যে ১৪ লক্ষ হিন্দু এবং ৫ লক্ষ মুসলমান। এই লোকগুলো এখন কী করবে? সরকার কিছুই বলছে না।” তাঁর অভিযোগ, সাম্প্রদায়িক মেরুকরনকে তীব্র করতেই এই পথে হাঁটছে সরকার।

এর আগে লোকসভার কংগ্রেস নেতা এনআরসি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহকে ব্যর্থ বলেছিলেন। এ-ও বলেছিলেন,  “আমার বাবাও বাংলাদেশের লোক ছিলেন। সেই হিসেবে তো আমিও বহিরাগত। আমাকেও বার করে দিক!” এ দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও নিশানা করেছেন তিনি। বলেন, “প্রধানমন্ত্রী যে চন্দ্রযানকে সামনে রেখে নিজের ঢাক পেটাচ্ছেন, সেই ইসরোর বিজ্ঞানীর নাম বাদ তালিকা থেকে। সবাই নাকি বিদেশি! কার্গিলে যাঁরা সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন, তাঁরা বিদেশি! ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ফকরুদ্দিন আলি আহমেদ-এর পরিবার বিদেশি!”

তবে এ দিনের অধীরের প্রশ্নের বর্শা ফলক ছিল একটাই, যাঁদের নাম বাদ পড়ছে, তাঁদের নিয়ে কী করবে সরকার? কোথায় রাখা হবে তাঁদের? ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রপুঞ্জ বলেছে, কোনও মানুষ যেন রাতারাতি রাষ্ট্রহীন না হয়ে পড়েন তা দেখতে হবে সরকারকে। দেখতে হবে যাতে মানবাধিকার লঙ্ঘিত না হয়। এ দিন সেটাকেই আরও চাঁচাছোলা ভাষায় বললেন এই পোড় খাওয়া কংগ্রেস নেতা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More