‘বিন্দুমাত্র লজ্জা থাকলে মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমা চান’, ইছাপুরের তরুণের ‘বিনা চিকিৎসায়’ মৃত্যু নিয়ে আক্রমণ অধীরের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফিরিয়ে দিয়েছিল তিনটি বেসরকারি হাসপাতাল। শ্বাসকষ্টে জ্ঞান হারানো ১৮ বছরের ছেলেটিকে নিয়ে যখন বাবা-মা কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে পৌঁছেছিলেন, সেখানেও বেড নেই বলে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। শেষপর্যন্ত ভর্তি না নিলে আত্মহত্যার হুমকি দেন ইছাপুরের তরুণের মা। তারপর ভর্তি নিলেও শেষরক্ষা হয়নি। কার্যত ১২ ঘণ্টা ন্যূনতম চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যু হয়েছে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়া শুভ্রজিত চট্টোপাধ্যায়ের। এবার সেই ঘটনা নিয়েই মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন লোকসভায় কংগ্রেস দলনেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। তাঁর কথায়, “অমিতাভ বচ্চন কোভিড পজিটিভ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টুইট করে তাঁর আরোগ্য কামনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু বাংলায় এত বড় একটা ঘটনা ঘটে গেল, অথচ তিনি একটা শব্দ খরচ করলেন না। এতটাই স্পর্শকাতরতাহীন হয়ে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।”

অধীরবাবু বলেন, “করোনা আক্রান্ত হচ্ছে, হাসপাতালে বেড নেই। একজন  রোগীর মাকে বলতে হচ্ছে ভর্তি না নিলে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করব। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আপনার যদি বিন্দুমাত্র লজ্জাবোধ থাকে, বিন্দুমাত্র সম্মান বোধ থাকে, বিন্দুমাত্র মর্যাদাবোধ থাকে তাহলে বাংলার মানুষের কাছে ক্ষমা চান।”

আরও পড়ুন: ছেলেকে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে, এফআইআর দায়ের করলেন শ্বাসকষ্ট নিয়ে চার হাসপাতালে ঘুরে মৃত তরুণের মা

একই সঙ্গে  অধীরবাবু অভিযোগের সুরে বলেন, এই তরুণকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, রবিবারই শুভ্রজিতের বাবা-মা বেলঘরিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। সূত্রের খবর, বেলঘরিয়া মিডল্যান্ড নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে মৃতের পরিবারের তরফে। তাঁদের দাবি, ইচ্ছে করে ভর্তি নেওয়া হয়নি তাঁদের ছেলেকে। গাফিলতি করা হয়েছে, কর্তব্য এড়িয়ে গেছে মিডল্যান্ড-সহ তিন তিনটি হাসপাতাল। তার উপরে মাত্র ৫ মিনিটে ছেলের লালারস সংগ্রহ করে জানানো হয়েছে, কোভিড পজিটিভ। এমনটা অসম্ভব বলেই দাবি করেছেন তাঁরা। সেই সঙ্গে প্রশ্ন তুলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী যেখানে বারবার পুলিশের সাহায্য নিতে বলছেন, সেখানে পুলিশ কী ভাবে দায়িত্ব এড়াতে পারে?

এর আগে নবান্নের বৈঠক থেকে হাসপাতালগুলিকে কার্যত হুঁশিয়ারির সুরে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, কোনও রোগীকে ফেরানো চলবে না। হাসপাতালে বেড আছে কি নেই তা হাসপাতালের সামনে ডিসপ্লে করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনেই বহরমপুরের পাঁচ বারের সাংসদ বলেন, “আপনি বলছেন, ডাক্তারের অভাব নেই। হাসপাতালের অভাব নেই। কেউ চিকিৎসা না করলে দেখে নেব, বুঝে নেব। কী করবেন আপনি?”

অধীরবাবু আরও বলেন, “বাংলায় করোনার সংক্রমণ হুহু করে বাড়ছে। টেস্টিং হচ্ছে না। টেস্টিং-ট্রেসিং-আইসোলেশন-ট্রিটমেন্ট—এই হচ্ছে ফর্মুলা। বাংলায় টেস্টিং ঠিক মতো হচ্ছে না বলেই সংক্রমণ ধরা যাচ্ছে না।” প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বাংলার মানুষের উদ্দেশে আবেদন জানিয়ে বলেন, “আপনারা কেউ মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক ভণ্ডামিতে কর্ণপাত করবেন না। নিজেরা সতর্ক হয়ে নিজেদের বাঁচান। সরকারের উপরে ভরসা করবেন না। এটা আমার অনুরোধ।”

যদিও তৃণমূলের নেতারা বলছেন, “অধীরবাবুর কথা শুনে মনে হচ্ছে কংগ্রেস শাসিত রাজস্থান, পাঞ্জাব, ছত্তীসগড়ে সংক্রমণের ঘটনা ঘটেইনি!” তাঁরা আরও বলছেন, “টেস্ট নিয়ে অধীরবাবু যে অভিযোগ করছেন তাও ভিত্তিহীন। দিনে এখন ১১-১২ হাজার টেস্ট হচ্ছে। মোট টেস্টের সংখ্যা সওয়া ছ’লক্ষ পেরিয়ে গিয়েছে। অধীরবাবু বলতে হয় তাই এসব কথা বলছেন।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More