সোমবার, অক্টোবর ১৪

চালাকি করে বাংলায় বাঙালি-অবাঙালি বিভাজন করছেন মমতা, তীব্র সমালোচনা অধীরের

শোভন চক্রবর্তী

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আবক্ষ মূর্তি উন্মোচন করে বুধবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঝাঁঝালো আক্রমণ শানিয়েছিলেন গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে। মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, তিনি জীবনের পরোয়া করেন না। বাংলাকে কোনওভাবেই গুজরাত হতে দেবেন না। বাংলা থেকে বাঙালি খেদানোর চেষ্টা হলে জীবন দিয়ে রুখবেন!

চব্বিশ ঘন্টা পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই বক্তব্যেরই চুলচেরা বিশ্লেষণ করে পাল্টা সমালোচনা করলেন বহরমপুরের কংগ্রেস সাংসদ তথা প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, “বিদ্যাসাগরকে সামনে রেখে দিদি-র বাঙালিত্ব জাগিয়ে তোলার চেষ্টাটা দেখলাম। উনি চালাকি করে বাংলায় বাঙালি ও অবাঙালি বিভাজন করতে চাইছেন। এমনিতেই বাংলায় ধর্মীয় মেরুকরণ ঘটিয়েছে বিজেপি ও তৃণমূল। এই প্রাদেশিকতাবাদের লাইন আরও বিপজ্জনক”।
লোকসভা ভোটে বিপর্যয়ের পর বাংলায় বিজেপি-কে রুখতে তৃণমূল যে বাঙালি আবেগের উপর বড় ভরসা করছে তা এখন দিনের আলোর মতই স্বচ্ছ। বুধবার হেয়ার স্কুলের মঞ্চ থেকেও মমতা যে বার্তা দিতে চেয়েছেন তার মোদ্দা বক্তব্য হল, নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ- এই দুই গুজরাতি নেতা বাংলাকে দখল করতে চাইছেন। তাতে বাংলা ও বাঙালির সংস্কৃতি বিপন্ন। সুতরাং তাঁদের রুখে দিতে আরও একটা নবজাগরণ ঘটাতে হবে।

পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, এই নবজাগরণের মধ্যে দিয়ে আসলে তৃণমূলের রাজনৈতিক অভীষ্ট সিদ্ধির চেষ্টাটাই প্রকট হয়ে ধরা পড়ছে। বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার পর লোকসভা ভোটের শেষ দফার যে ৯ টি আসনে ভোট হয়েছে, তার মধ্যেও একটি আসনও জিততে পারেনি বিজেপি। সবগুলিই তৃণমূল জিতেছে। তা থেকে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের অনেকের ধারনা হয়েছে, বাঙালি আবেগটাই তাঁদের সুবিধা করে দিয়েছে। তাই সেই রাজনীতিতে আরও ধার দাও।
অধীর চৌধুরীও ঠিক সেই জায়গাতেই এ দিন আঘাত করতে চেয়েছেন তৃণমূলকে। তাঁর কথায়, “বাংলায় হিন্দু-মুসলমান বরাবরই সম্প্রীতির সঙ্গে সহাবস্থান করেছে। সেই মাটিতে প্রথমে বিভাজনের বীজ পুঁতেছে তৃণমূলই। বিজেপি তারই ফায়দা নিয়েছে”। এখানেই থামেননি প্রাক্তন রেল প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এখন দিদি চালাকি করে যে ভাবে বাঙালি-অবাঙালি বিভাজন করতে চাইছেন, তাতে বাংলা আরও কয়েক দশক পিছিয়ে পড়তে পারে। এই রাজনীতি একেবারেই নেতিবাচক”। এমনকী তিনি এও বলেন, “গত আট বছরে তৃণমূল শাসনে যে গ্রামে গঞ্চে তৃণমূলের বাঙালি নেতা-কর্মীদের অত্যাচারে বাঙালিরাই বিপন্ন হয়েছে তার হিসাব কে দেবে। চিটফান্ডের টাকা লুঠ, তোলাবাজি, গুণ্ডামি এর শিকারও তো বাঙালিরাই হয়েছে”।

বাংলার রাজনীতিতে অধীর চৌধুরী বরাবর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী বলে পরিচিত। এ ব্যাপারে তিনি আপোসহীন। লোকসভা ভোটের সময় সেই দ্বৈরথ গোটা বাংলার নজর কেড়েছিল। প্রসঙ্গত, ভোটের আগে ‘চিটফাণ্ডের টাকা লুঠ’ নিয়ে যে দিন লোকসভায় দাঁড়িয়ে তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তুলেছিলেন অধীর চৌধুরী, সে দিনই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সে দিন দিদিও ছিলেন সংসদ ভবনে। অধীরে সেই আক্রমণে ক্ষুব্ধ হয়ে মমতা বলেছিলেন, ওকে ভোটে হারিয়েই ছাড়ব। এমনকী ভোটের প্রচারে মুর্শিদাবাদে গিয়ে অধীর চৌধুরীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও সমালোচনা করেছিলেন মমতা। শেষমেশ অবশ্য এ বারও বহরমপুর লোকসভায় অধীর চৌধুরীই জিতেছেন।

অধীরবাবুর এ দিনের মন্তব্য নিয়ে তৃণমূলের এক মুখপাত্র বলেন, বাংলায় কংগ্রেসের কোনও অস্তিত্বই নেই। উনি হতাশা থেকে এখন অনেক কথা বলবেন। কে শুনছে সে কথা!

Comments are closed.