বুধবার, জুন ২৬

সৌমিত্র একটা বুথে জিততে পারলে আমার নাম বদলে দেব: অভিষেক

দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূল ছেড়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার পর পরই বুধবার যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেছিলেন বিষ্ণপুরের সাংসদ সৌমিত্র খান। বলেছিলেন, তাঁর পিছনে পুলিশ লেলিয়ে দিয়েছেন অভিষেক। বাংলায় পুলিশ রাজ চলছে। সেই সঙ্গে দৃশ্যত উত্তেজিত সৌমিত্র এও বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কে হরিদাস পাল যে উনি আমার ভবিষ্যৎ ঠিক করবেনআমার ভবিষ্যৎ ঠিক করবেন বিষ্ণুপুরের মানুষ।

তার পর আধ ঘন্টাও কাটেনি সৌমিত্রকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন যুব তৃণমূল সভাপতি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওরকম অনেক দেখা আছে। হাতি ঘোড়া গেল তল, মশা বলে কত জল!” সেই সঙ্গে এও বলেন, লোকসভা ভোটে একটা বুথেও জিতে দেখাক দেখি, আমার নাম বদল করে ফেলব। যা শুনে সৌমিত্র আবার বলেন, তা হলে বলে দিচ্ছি, এখন থেকে নতুন নাম ভেবে রাখুন!

বস্তুত মকর সংক্রান্তি আসতে এখনও সপ্তাহ খানেক বাকি। বাংলায় এখন পুরোদস্তুর শীত চলছে। কিন্তু বুধবার এ ভাবেই রাজনীতির উত্তাপ দুম করে কয়েক ডিগ্রি বেড়ে গেল। অভিষেক-সৌমিত্র দ্বৈরথের একটা ভিত্তি রয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় সংগঠনের তরফে বাঁকুড়ার দায়িত্বে রয়েছেন অভিষেক। ফলে সাংগঠনিক ভাবে অভিষেকের কাছে জবাবদিহি করার কথা সৌমিত্রর।

এ দিন বিষ্ণুপুরের সাংসদ প্রসঙ্গে অভিষেক এও বলেন, উনি এমপি হিসাবে কী কাজ করেছেনদিদি ভালবেসে ওঁকে টিকিট দিয়েছিলেন! নইলে বাংলার রাজনীতিতে ওনার মূল্য কীএ বার তো দেখব এমপি ল্যাডের টাকা কত খরচ করেছেন?

তবে ব্যাপারটা যে বুধবার হঠাৎই হয়েছে তা নয়। এর প্রেক্ষাপট তৈরি হচ্ছিল অনেক আগে থেকেই। সৌমিত্র যে তৃণমূল ছাড়বেন, সেই দেওয়াল লিখন অনেক আগেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। বিষ্ণুপুরের সাংসদ যে জমি তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছেন, সে খবরও প্রথমে দ্য ওয়াল-ই জানিয়েছিল।

বুধবার আনুষ্ঠানিক ভাবে সৌমিত্র বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার পর তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় দাবি করলেন, বিষ্ণুপুরের সাংসদ দল ছাড়ার আগেই এ দিন সকালে তাঁকে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল। পার্থবাবু জানান, সৌমিত্রকে দল থেকে বহিষ্কার করার চিঠিও পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, ওর সঙ্গে বহুদিন ধরে দলের কোনও সম্পর্ক ছিল না। বিষ্ণুপুরের মানুষের সঙ্গেও ওর যোগাযোগ ছিল না। সৌমিত্র জানত এ বার ওকে লোকসভার টিকিট দেওয়া হবে না।

পাশাপাশি সৌমিত্র-র দল ছাড়ার প্রসঙ্গে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, যতক্ষণ মাথার উপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থাকবে ততদিন নম্বর থাকবে। মাথার উপর থেকে হাত উঠে গেলে সৌমিত্র খান জিরো। ববি হাকিমও জিরো। সব্বাই জিরো।

তবে পার্থবাবুর কথা খণ্ডন করেন সৌমিত্র। বলেন, আমি কোনও বহিষ্কারের চিঠি পাইনি। তৃণমূল আমাকে বহিষ্কার করবে কীআমিই তৃণমূলকে আমার রাজনৈতিক জীবন থেকে বহিষ্কার করেছি। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আপনার বিরুদ্ধে তো দলের অভিযোগ রয়েছেজবাবে সৌমিত্র বলেন, কেনআমি কী করেছিসারদা-চিট ফাণ্ডের টাকা নিয়েছিসেই অভিযোগ তো আমার বিরুদ্ধে নেই। যাঁরা চিটফাণ্ড কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত, তাঁরাই কালীঘাট চত্বরে ঘুরঘুর করেন।

সৌমিত্র-ঘনিষ্ঠদের বক্তব্য, দলের সঙ্গে বিষ্ণুপুরের সাংসদের সম্পর্ক ছিল না এ কথাও ঠিক নয়। মাত্র বিশ দিন আগে ১৯ ডিসেম্বর বাঁকুড়ায় সভা করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই সভাতেও উপস্থিত ছিলেন সৌমিত্র। তিনি বক্তৃতাও দিয়েছিলেন। তবে তিনি যে দল ছাড়বেন, তার পরদিন থেকেই খোলাখুলি ইঙ্গিত দিতে শুরু করেছিলেন সৌমিত্র। প্রসঙ্গত, সে দিন তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রথমবার তোপ দেগে সৌমিত্র দ্য ওয়াল-কে বলেছিলেন, বাঁকুড়ায় তৃণমূলের যুব কর্মীদের উপর অত্যাচার চলছে। তাঁর উপরেও অত্যাচার হচ্ছে। এ ব্যাপারে জেলা তৃণমূল সভাপতি অরূপ খাঁ-র দিকে আঙুল তুলেছিলেন তিনি। সেই সঙ্গে এও বলেছিলেন, অনেক দিন চুপ করে ছিলাম। কিন্তু আজ থেকে মুখ খোলা শুরু করলাম।   

তৃণমূল শীর্ষ সূত্রে বলা হচ্ছে, এটা ঠিক যে সৌমিত্রর কাজে খুশি ছিলেন না তৃণমূলনেত্রী। এমনকি দেড় বছর আগেই দলের কোর কমিটির বৈঠকে সৌমিত্রকে একবার যা তা বলেছিলেন মমতা। দিদি এও বলেছিলেন, কী সৌমিত্র, দল করবে, নাকি বালি খাদানের টাকা তুলেই দিন চলে যাবে! তার পরেও সতর্ক হননি সৌমিত্র। তবে গোটা ব্যাপারটা ঠিক মতো সামলাতে পারেনি দল। সৌমিত্রকে যে টিকিট দেওয়া হবে না সেটা ওঁকে আগে বুঝিয়ে দেওয়া ভুল হয়েছিল। ভোটের মুখে এসে ও টিকিট না পেয়ে দল ছাড়লে সেটার কোনও গুরুত্ব থাকত না।

তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতার কথায়, হিন্দিবলয়ের তিন রাজ্যের ভোটে হেরে যাওয়ার পর বিজেপি কিছুটা দমে গিয়েছিল। বাংলাতেও কিছুটা দমে ছিল। কিন্তু সৌমিত্র বিজেপি-তে যোগ দেওয়ায় গেরুয়া শিবির কিছুটা হলেও অক্সিজেন পাবে বলে দলীয় সূত্রে দাবি। তৃণমূলে এও আশঙ্কা, দল ছাড়ার ব্যাপারটা শুধু সৌমিত্র-তেই থেমে থাকবে না। তালিকায় হয়তো আরও কয়েকজন রয়েছেন। 

Comments are closed.